০৬:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬
জ্বালানি ভর্তুকি শেষ হলেই কেন মূল্যস্ফীতির আগুন জ্বলে ওঠে কুষ্টিয়ায় জামায়াতের এমপি আমির হামজার গাড়িতে হামলা, ভাঙচুর মক্কা চুক্তিতে মিসরকে সম্ভাব্য নতুন সদস্য হিসেবে চান এরদোয়ান অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ইতিহাস বাংলাদেশের, ৯ উইকেটের অবিশ্বাস্য জয় পেনাল্টি মিসের হ্যাটট্রিক, মেসির মায়ামির টানা তৃতীয় হার ফিলিস্তিনিদের পানিতে বসতি স্থাপনকারীদের সুইমিংপুল, পশ্চিম তীরে নতুন ‘পানিযুদ্ধ’ ল্যাম্বরগিনির সবচেয়ে শক্তিশালী উৎপাদন গাড়ি, নতুন রেভুয়েলতো এসভি-তে গতি ও প্রযুক্তির বিস্ময় কাতারের হাতে ইরানি যুদ্ধবিমান চালকদের আটকের দাবি, সরাসরি অস্বীকার দোহার কূটনীতি নয়, রাজনৈতিক উসকানি তারেক রহমানের দিল্লি সফরের সম্ভাবনা আপাতত বাতিল করলো ঢাকা

কাতারের হাতে ইরানি যুদ্ধবিমান চালকদের আটকের দাবি, সরাসরি অস্বীকার দোহার

ইরানের নিখোঁজ তিন যুদ্ধবিমান চালককে কাতার আটক করে রেখেছে—তেহরানের এমন দাবিকে সরাসরি অস্বীকার করেছে দোহা। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানি পাইলটদের আটকের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং এ ধরনের বক্তব্যে তারা বিস্মিত।

তিন পাইলটকে জীবিত আটকের দাবি ইরানের

ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর নিখোঁজ ব্যক্তিদের বিষয়ক কমিটির প্রধান জেনারেল মোহাম্মদ বাঘেরজাদেহ এক চিঠিতে দাবি করেন, জাভাদ সালেহি, আবদোলমাজিদ দাশতিয়ান ও ওমরান বেহরাভেশিয়ান নামের তিন ইরানি যুদ্ধবিমান চালক প্রায় ছয় মাস ধরে কাতারের বাহিনীর হাতে আটক রয়েছেন।

ইরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিকে কাতারে একটি সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালানোর অভিযানে ওই তিন চালকের যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়। এরপর তাদের জীবিত অবস্থায় আটক করা হয়েছিল বলে তেহরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

জেনারেল বাঘেরজাদেহ অভিযোগ করেন, আটক তিন চালককে তাদের পরিবারের সদস্য কিংবা সংশ্লিষ্ট ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বা সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়া হয়নি। বিষয়টি অনুসন্ধানে আন্তর্জাতিক রেডক্রসের সহায়তাও চেয়েছে ইরান।

কাতারের পাল্টা বক্তব্য

তবে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইরানের অভিযোগ категорically নাকচ করেন।

তিনি বলেন, ইরানি চালকদের আটকের বিষয়ে প্রচারিত দাবিগুলো সম্পূর্ণ অস্বীকার করছে কাতার। একই সঙ্গে তিনি এসব বক্তব্যকে বিভ্রান্তিকর বলেও মন্তব্য করেন।

কাতারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিখোঁজ চালকদের একজনের মরদেহের সন্ধান পাওয়া গেছে। এরপর মরদেহ হস্তান্তরের বিষয়ে সমন্বয়ের জন্য ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। কিন্তু তেহরান কাতারের সেই আহ্বানে সাড়া দেয়নি বলে দাবি করেছেন কাতারি মুখপাত্র।

মার্চে ইরানি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছিল কাতার

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাতের শুরুর দিকে কাতারের আকাশসীমা ও সামরিক স্থাপনা ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়। যুদ্ধের তৃতীয় দিন ২ মার্চ কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, তারা দুটি ইরানি সুখোই এসইউ-২৪ বোমারু বিমান ভূপাতিত করেছে।

তবে ওই দুটি যুদ্ধবিমানের পাইলটই ইরানের দাবি করা নিখোঁজ তিন চালকের মধ্যে ছিলেন কি না, তা তখনও স্পষ্ট হয়নি।

ইরানের পাল্টা হামলায় উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনাও লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল। কাতারের ভূখণ্ডে হামলার ঘটনায় দোহা ইরানের বিরুদ্ধে ‘বেপরোয়া ও দায়িত্বজ্ঞানহীন’ আচরণের অভিযোগ তোলে।

দুই দেশের সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা

নিখোঁজ তিন ইরানি পাইলটকে ঘিরে পরস্পরবিরোধী এই বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি করতে পারে। ইরান যেখানে চালকদের জীবিত অবস্থায় কাতারের হাতে আটকের দাবি করছে, সেখানে কাতার বলছে, তারা কাউকেই আটক করেনি এবং অন্তত একজনের মরদেহ উদ্ধারের পর ইরানের সঙ্গে হস্তান্তর নিয়ে যোগাযোগও করেছিল।

ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি স্পষ্ট করতে নিখোঁজ তিন চালকের ভাগ্যে কী ঘটেছে, তা নিয়ে আরও অনুসন্ধান ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমন্বয়ের প্রয়োজন হতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

জ্বালানি ভর্তুকি শেষ হলেই কেন মূল্যস্ফীতির আগুন জ্বলে ওঠে

কাতারের হাতে ইরানি যুদ্ধবিমান চালকদের আটকের দাবি, সরাসরি অস্বীকার দোহার

০৫:২১:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

ইরানের নিখোঁজ তিন যুদ্ধবিমান চালককে কাতার আটক করে রেখেছে—তেহরানের এমন দাবিকে সরাসরি অস্বীকার করেছে দোহা। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানি পাইলটদের আটকের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং এ ধরনের বক্তব্যে তারা বিস্মিত।

তিন পাইলটকে জীবিত আটকের দাবি ইরানের

ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর নিখোঁজ ব্যক্তিদের বিষয়ক কমিটির প্রধান জেনারেল মোহাম্মদ বাঘেরজাদেহ এক চিঠিতে দাবি করেন, জাভাদ সালেহি, আবদোলমাজিদ দাশতিয়ান ও ওমরান বেহরাভেশিয়ান নামের তিন ইরানি যুদ্ধবিমান চালক প্রায় ছয় মাস ধরে কাতারের বাহিনীর হাতে আটক রয়েছেন।

ইরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিকে কাতারে একটি সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালানোর অভিযানে ওই তিন চালকের যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়। এরপর তাদের জীবিত অবস্থায় আটক করা হয়েছিল বলে তেহরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

জেনারেল বাঘেরজাদেহ অভিযোগ করেন, আটক তিন চালককে তাদের পরিবারের সদস্য কিংবা সংশ্লিষ্ট ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বা সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়া হয়নি। বিষয়টি অনুসন্ধানে আন্তর্জাতিক রেডক্রসের সহায়তাও চেয়েছে ইরান।

কাতারের পাল্টা বক্তব্য

তবে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইরানের অভিযোগ категорically নাকচ করেন।

তিনি বলেন, ইরানি চালকদের আটকের বিষয়ে প্রচারিত দাবিগুলো সম্পূর্ণ অস্বীকার করছে কাতার। একই সঙ্গে তিনি এসব বক্তব্যকে বিভ্রান্তিকর বলেও মন্তব্য করেন।

কাতারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিখোঁজ চালকদের একজনের মরদেহের সন্ধান পাওয়া গেছে। এরপর মরদেহ হস্তান্তরের বিষয়ে সমন্বয়ের জন্য ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। কিন্তু তেহরান কাতারের সেই আহ্বানে সাড়া দেয়নি বলে দাবি করেছেন কাতারি মুখপাত্র।

মার্চে ইরানি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছিল কাতার

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাতের শুরুর দিকে কাতারের আকাশসীমা ও সামরিক স্থাপনা ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়। যুদ্ধের তৃতীয় দিন ২ মার্চ কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, তারা দুটি ইরানি সুখোই এসইউ-২৪ বোমারু বিমান ভূপাতিত করেছে।

তবে ওই দুটি যুদ্ধবিমানের পাইলটই ইরানের দাবি করা নিখোঁজ তিন চালকের মধ্যে ছিলেন কি না, তা তখনও স্পষ্ট হয়নি।

ইরানের পাল্টা হামলায় উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনাও লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল। কাতারের ভূখণ্ডে হামলার ঘটনায় দোহা ইরানের বিরুদ্ধে ‘বেপরোয়া ও দায়িত্বজ্ঞানহীন’ আচরণের অভিযোগ তোলে।

দুই দেশের সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা

নিখোঁজ তিন ইরানি পাইলটকে ঘিরে পরস্পরবিরোধী এই বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি করতে পারে। ইরান যেখানে চালকদের জীবিত অবস্থায় কাতারের হাতে আটকের দাবি করছে, সেখানে কাতার বলছে, তারা কাউকেই আটক করেনি এবং অন্তত একজনের মরদেহ উদ্ধারের পর ইরানের সঙ্গে হস্তান্তর নিয়ে যোগাযোগও করেছিল।

ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি স্পষ্ট করতে নিখোঁজ তিন চালকের ভাগ্যে কী ঘটেছে, তা নিয়ে আরও অনুসন্ধান ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমন্বয়ের প্রয়োজন হতে পারে।