০৪:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬
ইয়াসুকুনিতে পুরোনো রাজনীতি, নতুন বার্তা: জাপানের যুদ্ধস্মৃতিতে কি বদলের ইঙ্গিত? বালুচিস্তান সংকট সমাধানে রাজনৈতিক সংলাপের আহ্বান ট্রাম্পের প্রশংসায় পাকিস্তান-সৌদি-তুরস্কের প্রতিরক্ষা চুক্তি, বললেন ‘গুরুত্বপূর্ণ প্রথম পদক্ষেপ’ জ্বালানি তেলের দাম ও মূল্যস্ফীতির প্রতিবাদে পাকিস্তানের বড় শহরে জামায়াতের অবস্থান কর্মসূচি হামে মৃতের সংখ্যা ৯১৫, ২৪ ঘণ্টায় আরও ৭ শিশুর মৃত্যু ব্যাংকে বাড়তি তারল্য, ৯ শতাংশের নিচে নামল ট্রেজারি বিলের সুদ শেখ হাসিনা ভারতে কোন স্ট্যাটাসে, জানে না বাংলাদেশ: চিফ প্রসিকিউটর আলোচনার দরজা খোলা রাখছে পিটিআই, সমঝোতার গুঞ্জনে বাড়ছে জল্পনা নৌবন্দরগুলোতে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত, উত্তর বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ সকালে কফি খাওয়ার পর হৃদস্পন্দন বেড়ে যাচ্ছে? যে ৬ লক্ষণ একেবারেই উপেক্ষা করবেন না

বিজয় সরকারের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার বিস্ফোরক অভিযোগ, ‘২ থেকে ৪ শতাংশ কমিশন চান মন্ত্রীরা’

তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয় যখন দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা বারবার তুলে ধরছেন, ঠিক তখনই তাঁর সরকারের কয়েকজন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন বিজেপির সাবেক তামিলনাড়ু সভাপতি কে আন্নামালাই। তাঁর দাবি, সরকারি দরপত্রের কাজ পাওয়া ঠিকাদারদের কাছ থেকে কিছু মন্ত্রী ২ থেকে ৪ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন দাবি করছেন।

চেন্নাইয়ে রোববার নিজের সংগঠনের আয়োজিত পরিবেশ সচেতনতামূলক এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় আন্নামালাই এই অভিযোগ করেন। তিনি দাবি করেন, মন্ত্রী ও ঠিকাদারদের কথোপকথনের অডিও রেকর্ডিং তাঁর কাছে রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বিজয়কে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও কর্মকর্তাদের ওপর কঠোর নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

‘নির্বাচনে টাকা খরচ করেছি, তাই ভাগ চাই’

আন্নামালাইয়ের অভিযোগ, বিজয় নিজে দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিলেও তাঁর মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্য সরকারি প্রকল্পের দরপত্র থেকে অর্থ নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

Image

তিনি দাবি করেন, কিছু মন্ত্রী ঠিকাদারদের বলছেন, নির্বাচনে বিপুল অর্থ খরচ করে ক্ষমতায় আসতে হয়েছে, তাই সরকারি কাজের বিনিময়ে তাঁদের একটি অংশ দিতে হবে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, কোথাও ২ শতাংশ, কোথাও ৩ শতাংশ, আবার কোথাও ৪ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ দাবি করা হচ্ছে।

আন্নামালাই বলেন, তাঁর কাছে এসব কথোপকথনের অডিও প্রমাণ রয়েছে। তবে প্রকাশ্যে তিনি এখনো সেই অডিও রেকর্ডিংয়ের বিস্তারিত বিষয়বস্তু বা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের নাম প্রকাশ করেননি।

মুখ্যমন্ত্রীকে সতর্ক করলেন আন্নামালাই

বিজয়ের উদ্দেশে আন্নামালাই বলেন, মুখ্যমন্ত্রী নিজেই স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে তাঁর মেয়াদে দুর্নীতি নির্মূল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। তাই প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে নিয়মিত নজরদারি জরুরি।

তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে মন্ত্রী ও সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়ে নিয়মিত পর্যালোচনা বৈঠক করার পরামর্শ দেন। তাঁর বক্তব্য, প্রশাসনের ওপর নিয়ন্ত্রণ কিছুটা শিথিল হলেই দুর্নীতি ধীরে ধীরে শিকড় গেড়ে বসতে পারে।

Image

আন্নামালাইয়ের এই অভিযোগ এমন এক সময় সামনে এল, যখন বিজয় তাঁর সরকারের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার হিসেবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা বলছেন।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিজয়ের কঠোর বার্তা

মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রথম স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে বিজয় দাবি করেছিলেন, সরকারি অর্থ যাতে ব্যক্তিগত হাতে চলে যেতে না পারে, সে বিষয়ে তাঁর সরকার ব্যবস্থা নিয়েছে। সব দপ্তরে দুর্নীতি নির্মূলের জন্য ধারাবাহিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানিয়েছিলেন।

এর আগে কারুরে এক সমাবেশেও ঘুষের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন বিজয়। সরকারি কর্মকর্তা বা অন্য কেউ ঘুষ চাইলে তা দিতে অস্বীকার করার আহ্বান জানিয়ে তিনি সাধারণ মানুষের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

তাঁর সেই কঠোর দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানের মধ্যেই আন্নামালাইয়ের নতুন অভিযোগ রাজনৈতিকভাবে বিশেষ তাৎপর্য তৈরি করেছে। অভিযোগগুলো সত্য হলে তা বিজয় সরকারের দুর্নীতিবিরোধী ভাবমূর্তির জন্য বড় ধরনের চাপ তৈরি করতে পারে। তবে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে অডিও প্রমাণসহ সংশ্লিষ্ট তথ্যের স্বাধীন যাচাই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

Image

জনপ্রিয় সংবাদ

ইয়াসুকুনিতে পুরোনো রাজনীতি, নতুন বার্তা: জাপানের যুদ্ধস্মৃতিতে কি বদলের ইঙ্গিত?

বিজয় সরকারের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার বিস্ফোরক অভিযোগ, ‘২ থেকে ৪ শতাংশ কমিশন চান মন্ত্রীরা’

০২:৫৭:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয় যখন দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা বারবার তুলে ধরছেন, ঠিক তখনই তাঁর সরকারের কয়েকজন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন বিজেপির সাবেক তামিলনাড়ু সভাপতি কে আন্নামালাই। তাঁর দাবি, সরকারি দরপত্রের কাজ পাওয়া ঠিকাদারদের কাছ থেকে কিছু মন্ত্রী ২ থেকে ৪ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন দাবি করছেন।

চেন্নাইয়ে রোববার নিজের সংগঠনের আয়োজিত পরিবেশ সচেতনতামূলক এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় আন্নামালাই এই অভিযোগ করেন। তিনি দাবি করেন, মন্ত্রী ও ঠিকাদারদের কথোপকথনের অডিও রেকর্ডিং তাঁর কাছে রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বিজয়কে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও কর্মকর্তাদের ওপর কঠোর নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

‘নির্বাচনে টাকা খরচ করেছি, তাই ভাগ চাই’

আন্নামালাইয়ের অভিযোগ, বিজয় নিজে দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিলেও তাঁর মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্য সরকারি প্রকল্পের দরপত্র থেকে অর্থ নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

Image

তিনি দাবি করেন, কিছু মন্ত্রী ঠিকাদারদের বলছেন, নির্বাচনে বিপুল অর্থ খরচ করে ক্ষমতায় আসতে হয়েছে, তাই সরকারি কাজের বিনিময়ে তাঁদের একটি অংশ দিতে হবে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, কোথাও ২ শতাংশ, কোথাও ৩ শতাংশ, আবার কোথাও ৪ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ দাবি করা হচ্ছে।

আন্নামালাই বলেন, তাঁর কাছে এসব কথোপকথনের অডিও প্রমাণ রয়েছে। তবে প্রকাশ্যে তিনি এখনো সেই অডিও রেকর্ডিংয়ের বিস্তারিত বিষয়বস্তু বা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের নাম প্রকাশ করেননি।

মুখ্যমন্ত্রীকে সতর্ক করলেন আন্নামালাই

বিজয়ের উদ্দেশে আন্নামালাই বলেন, মুখ্যমন্ত্রী নিজেই স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে তাঁর মেয়াদে দুর্নীতি নির্মূল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। তাই প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে নিয়মিত নজরদারি জরুরি।

তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে মন্ত্রী ও সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়ে নিয়মিত পর্যালোচনা বৈঠক করার পরামর্শ দেন। তাঁর বক্তব্য, প্রশাসনের ওপর নিয়ন্ত্রণ কিছুটা শিথিল হলেই দুর্নীতি ধীরে ধীরে শিকড় গেড়ে বসতে পারে।

Image

আন্নামালাইয়ের এই অভিযোগ এমন এক সময় সামনে এল, যখন বিজয় তাঁর সরকারের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার হিসেবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা বলছেন।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিজয়ের কঠোর বার্তা

মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রথম স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে বিজয় দাবি করেছিলেন, সরকারি অর্থ যাতে ব্যক্তিগত হাতে চলে যেতে না পারে, সে বিষয়ে তাঁর সরকার ব্যবস্থা নিয়েছে। সব দপ্তরে দুর্নীতি নির্মূলের জন্য ধারাবাহিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানিয়েছিলেন।

এর আগে কারুরে এক সমাবেশেও ঘুষের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন বিজয়। সরকারি কর্মকর্তা বা অন্য কেউ ঘুষ চাইলে তা দিতে অস্বীকার করার আহ্বান জানিয়ে তিনি সাধারণ মানুষের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

তাঁর সেই কঠোর দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানের মধ্যেই আন্নামালাইয়ের নতুন অভিযোগ রাজনৈতিকভাবে বিশেষ তাৎপর্য তৈরি করেছে। অভিযোগগুলো সত্য হলে তা বিজয় সরকারের দুর্নীতিবিরোধী ভাবমূর্তির জন্য বড় ধরনের চাপ তৈরি করতে পারে। তবে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে অডিও প্রমাণসহ সংশ্লিষ্ট তথ্যের স্বাধীন যাচাই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

Image