০৭:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬
উৎপাদন বুঝতে হলে অর্থের ভূমিকা নতুন করে ভাবতে হবে সাবেক বাংলাদেশ ব্যাংক নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম আইডিআরএর সদস্য ৩৬ বছরেই থেমে গেল হেইডেন প্যানেটিয়েরের জীবন, শিশু অভিনেতা থেকে ‘হিরোস’ তারকা ২১ বছরে সেই ছেলে, যার লড়াই বদলে দিয়েছিল যুক্তরাজ্যের চিকিৎসা-আইন সিসিলির জাদুঘর থেকে চুরি ৮ কোটি ইউরোর রেনেসাঁ যুগের চার শিল্পকর্ম ক্যামব্রিজের অধ্যক্ষের কড়া মন্তব্য, জেসন আরডেকে ঘিরে ‘বর্ণবাদী উন্মাদনা’র অভিযোগ ২০৩০-এর দশকেই চাঁদে বসতি, কাজও হবে মহাকাশে: বিলিয়নিয়ার উদ্যোক্তার ভবিষ্যদ্বাণী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দৌড়ে মিত্রদের পক্ষ বেছে নিতে চাপ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র গুগলের প্রেম ফুরিয়েছে কর্মীদের সঙ্গে, ভেতরের গল্প ফাঁস করলেন সাবেক কর্মী ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’ বিশ্বজুড়ে আয় ছাড়াল ২ বিলিয়ন ডলার

চৌক চে গ্রামে থাই নাগরিকদের জমি বরাদ্দ, কম্বোডিয়ার প্রতিবাদ: সীমান্ত চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ

কম্বোডিয়ার বানতেই মিয়াঞ্চেই প্রদেশের সীমান্তবর্তী চৌক চে গ্রামে থাই নাগরিকদের জমি বরাদ্দ দেওয়ার ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে কম্বোডিয়া। দেশটির পররাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা মন্ত্রণালয় বলেছে, থাইল্যান্ডের এ ধরনের কর্মকাণ্ড কম্বোডিয়ার সার্বভৌমত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে এবং দুই দেশের সীমান্ত নির্ধারণ প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলতে পারে।

শুক্রবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় জানায়, বৃহস্পতিবার চৌক চে গ্রামের ওই বোই চোয়ান কমিউনে থাই কর্তৃপক্ষ স্থানীয়দের মধ্যে জমি বরাদ্দের কার্যক্রম পরিচালনা করে। এলাকাটি সীমান্তের ৪৫ ও ৪৭ নম্বর সীমান্তস্তম্ভের মধ্যবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত।

২০২৫ সালের সংঘাতের পর থেকেই বিরোধপূর্ণ এলাকা

কম্বোডিয়ার কর্মকর্তাদের দাবি, ২০২৫ সালের শেষ দিকে থাই সামরিক অভিযানের সময় চৌক চে গ্রামটি দখলে নেওয়া হয়। পরে সেখানে কাঁটাতারের বেড়া ও পণ্য পরিবহনের কনটেইনার স্থাপন করা হয়। এর ফলে সংঘাতের আগে গ্রামে বসবাসকারী কম্বোডিয়ার নাগরিকেরা নিজেদের বাড়িঘরে ফিরে যেতে পারেননি।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষের হিসাবে, সংঘাতের আগে গ্রামটিতে ৮০৭টি পরিবারে মোট ৩ হাজার ২২২ জন মানুষ বসবাস করতেন। তাদের বাস্তুচ্যুত হওয়ার পরও নিজ নিজ বাড়ি ও কৃষিজমিতে ফেরার সুযোগ তৈরি হয়নি বলে কম্বোডিয়ার পক্ষ জানিয়েছে।

সীমান্ত নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় প্রভাবের আশঙ্কা

কম্বোডিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, বিরোধপূর্ণ এলাকায় থাই নাগরিকদের জন্য জমি বরাদ্দ দেওয়ার সিদ্ধান্ত আইনসঙ্গত নয় এবং এর মাধ্যমে ওই অঞ্চলে থাইল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বাস্তুচ্যুত কম্বোডিয়ানদের বাড়ি ও কৃষিজমিতে ফিরে যাওয়ার পথও আরও কঠিন হয়ে পড়ছে।

Thai army accuses Cambodia of violating truce as clashes resume - France 24

মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, এ ধরনের পদক্ষেপ দুই দেশের যৌথ সীমান্ত কমিশনের কাজকে আগেভাগেই প্রভাবিত করার শামিল। পাশাপাশি ২০০০ সালের স্থলসীমা জরিপ ও সীমা নির্ধারণসংক্রান্ত সমঝোতা স্মারকের ৫ নম্বর অনুচ্ছেদসহ দুই দেশের বিদ্যমান বিভিন্ন চুক্তি ও সমঝোতাও এতে লঙ্ঘিত হয়েছে।

কম্বোডিয়া আরও উল্লেখ করেছে, ২০২৫ সালের ২২ অক্টোবর যৌথ সীমান্ত কমিশনের বিশেষ বৈঠকের সম্মত কার্যবিবরণী এবং ২৭ ডিসেম্বর সাধারণ সীমান্ত কমিটির তৃতীয় বিশেষ বৈঠকের যৌথ বিবৃতিতে উত্তেজনা কমানোর যে পদক্ষেপ নির্ধারিত হয়েছিল, বর্তমান কর্মকাণ্ড তার সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

একতরফা সীমান্ত দাবির স্বীকৃতি নয়

কম্বোডিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করে বলেছে, থাইল্যান্ড একতরফাভাবে কোনো সীমারেখা বা ভূখণ্ডের দাবি করলে তা কম্বোডিয়া মেনে নেবে না। তবে এ ধরনের কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক সীমান্তসংক্রান্ত বিষয়ে কম্বোডিয়ার আইনি অধিকারকে ক্ষুণ্ন করবে না বলেও জানানো হয়েছে।

ব্যাংকককে চৌক চে গ্রামসহ গত বছর থেকে থাই সশস্ত্র বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা অন্যান্য এলাকায় এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে নমপেন। কম্বোডিয়ার মতে, কর্মকাণ্ড বন্ধ হলে সীমান্তে উত্তেজনা কমানো, পারস্পরিক আস্থা পুনর্গঠন, বিরোধ নিষ্পত্তির পরিবেশ তৈরি এবং দুই দেশের সীমান্তবর্তী সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথ সহজ হবে।

শান্তিপূর্ণ সমাধানের প্রতিশ্রুতি

কম্বোডিয়া জানিয়েছে, থাইল্যান্ডের সঙ্গে সব সীমান্ত বিরোধ আন্তর্জাতিক আইন ও বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় চুক্তির ভিত্তিতে শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমাধানের বিষয়ে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

সরকারের মুখপাত্র পেন বোনা অভিযোগ করেছেন, থাই সামরিক তৎপরতা কম্বোডিয়ার ভূখণ্ডে দখলদারিত্ব আরও জোরদার করছে এবং এতে বিদ্যমান চুক্তি লঙ্ঘিত হচ্ছে। একই সময়ে সীমান্ত পরিস্থিতি ও যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো আসিয়ান পর্যবেক্ষকেরা নজরদারি করছেন বলেও তিনি জানান।

জনপ্রিয় সংবাদ

উৎপাদন বুঝতে হলে অর্থের ভূমিকা নতুন করে ভাবতে হবে

চৌক চে গ্রামে থাই নাগরিকদের জমি বরাদ্দ, কম্বোডিয়ার প্রতিবাদ: সীমান্ত চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ

০৫:৩৫:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

কম্বোডিয়ার বানতেই মিয়াঞ্চেই প্রদেশের সীমান্তবর্তী চৌক চে গ্রামে থাই নাগরিকদের জমি বরাদ্দ দেওয়ার ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে কম্বোডিয়া। দেশটির পররাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা মন্ত্রণালয় বলেছে, থাইল্যান্ডের এ ধরনের কর্মকাণ্ড কম্বোডিয়ার সার্বভৌমত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে এবং দুই দেশের সীমান্ত নির্ধারণ প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলতে পারে।

শুক্রবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় জানায়, বৃহস্পতিবার চৌক চে গ্রামের ওই বোই চোয়ান কমিউনে থাই কর্তৃপক্ষ স্থানীয়দের মধ্যে জমি বরাদ্দের কার্যক্রম পরিচালনা করে। এলাকাটি সীমান্তের ৪৫ ও ৪৭ নম্বর সীমান্তস্তম্ভের মধ্যবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত।

২০২৫ সালের সংঘাতের পর থেকেই বিরোধপূর্ণ এলাকা

কম্বোডিয়ার কর্মকর্তাদের দাবি, ২০২৫ সালের শেষ দিকে থাই সামরিক অভিযানের সময় চৌক চে গ্রামটি দখলে নেওয়া হয়। পরে সেখানে কাঁটাতারের বেড়া ও পণ্য পরিবহনের কনটেইনার স্থাপন করা হয়। এর ফলে সংঘাতের আগে গ্রামে বসবাসকারী কম্বোডিয়ার নাগরিকেরা নিজেদের বাড়িঘরে ফিরে যেতে পারেননি।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষের হিসাবে, সংঘাতের আগে গ্রামটিতে ৮০৭টি পরিবারে মোট ৩ হাজার ২২২ জন মানুষ বসবাস করতেন। তাদের বাস্তুচ্যুত হওয়ার পরও নিজ নিজ বাড়ি ও কৃষিজমিতে ফেরার সুযোগ তৈরি হয়নি বলে কম্বোডিয়ার পক্ষ জানিয়েছে।

সীমান্ত নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় প্রভাবের আশঙ্কা

কম্বোডিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, বিরোধপূর্ণ এলাকায় থাই নাগরিকদের জন্য জমি বরাদ্দ দেওয়ার সিদ্ধান্ত আইনসঙ্গত নয় এবং এর মাধ্যমে ওই অঞ্চলে থাইল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বাস্তুচ্যুত কম্বোডিয়ানদের বাড়ি ও কৃষিজমিতে ফিরে যাওয়ার পথও আরও কঠিন হয়ে পড়ছে।

Thai army accuses Cambodia of violating truce as clashes resume - France 24

মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, এ ধরনের পদক্ষেপ দুই দেশের যৌথ সীমান্ত কমিশনের কাজকে আগেভাগেই প্রভাবিত করার শামিল। পাশাপাশি ২০০০ সালের স্থলসীমা জরিপ ও সীমা নির্ধারণসংক্রান্ত সমঝোতা স্মারকের ৫ নম্বর অনুচ্ছেদসহ দুই দেশের বিদ্যমান বিভিন্ন চুক্তি ও সমঝোতাও এতে লঙ্ঘিত হয়েছে।

কম্বোডিয়া আরও উল্লেখ করেছে, ২০২৫ সালের ২২ অক্টোবর যৌথ সীমান্ত কমিশনের বিশেষ বৈঠকের সম্মত কার্যবিবরণী এবং ২৭ ডিসেম্বর সাধারণ সীমান্ত কমিটির তৃতীয় বিশেষ বৈঠকের যৌথ বিবৃতিতে উত্তেজনা কমানোর যে পদক্ষেপ নির্ধারিত হয়েছিল, বর্তমান কর্মকাণ্ড তার সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

একতরফা সীমান্ত দাবির স্বীকৃতি নয়

কম্বোডিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করে বলেছে, থাইল্যান্ড একতরফাভাবে কোনো সীমারেখা বা ভূখণ্ডের দাবি করলে তা কম্বোডিয়া মেনে নেবে না। তবে এ ধরনের কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক সীমান্তসংক্রান্ত বিষয়ে কম্বোডিয়ার আইনি অধিকারকে ক্ষুণ্ন করবে না বলেও জানানো হয়েছে।

ব্যাংকককে চৌক চে গ্রামসহ গত বছর থেকে থাই সশস্ত্র বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা অন্যান্য এলাকায় এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে নমপেন। কম্বোডিয়ার মতে, কর্মকাণ্ড বন্ধ হলে সীমান্তে উত্তেজনা কমানো, পারস্পরিক আস্থা পুনর্গঠন, বিরোধ নিষ্পত্তির পরিবেশ তৈরি এবং দুই দেশের সীমান্তবর্তী সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথ সহজ হবে।

শান্তিপূর্ণ সমাধানের প্রতিশ্রুতি

কম্বোডিয়া জানিয়েছে, থাইল্যান্ডের সঙ্গে সব সীমান্ত বিরোধ আন্তর্জাতিক আইন ও বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় চুক্তির ভিত্তিতে শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমাধানের বিষয়ে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

সরকারের মুখপাত্র পেন বোনা অভিযোগ করেছেন, থাই সামরিক তৎপরতা কম্বোডিয়ার ভূখণ্ডে দখলদারিত্ব আরও জোরদার করছে এবং এতে বিদ্যমান চুক্তি লঙ্ঘিত হচ্ছে। একই সময়ে সীমান্ত পরিস্থিতি ও যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো আসিয়ান পর্যবেক্ষকেরা নজরদারি করছেন বলেও তিনি জানান।