ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ লর্ড ক্রিস স্মিথ অধ্যাপক জেসন আরডেকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কে প্রকাশ্যে মুখ খুলে বলেছেন, একাডেমিক সততার প্রশ্ন তোলা যেমন জরুরি, তেমনি কোনো শিক্ষাবিদকে ঘিরে ‘বর্ণবাদী উন্মাদনায়’ যোগ না দেওয়াও জরুরি।
২০২৩ সালে ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ পাওয়ার সময় আরডে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়টির সবচেয়ে কম বয়সী কৃষ্ণাঙ্গ অধ্যাপক। পরে তাঁর গবেষণাপত্র ও কয়েকটি প্রকাশনায় অন্যের লেখা ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেছিলেন। বিতর্কের মধ্যেই তিনি পদ থেকে সরে দাঁড়ান এবং পরে তাঁর মৃত্যু হয়।
একই সঙ্গে দুটি নীতি মানা সম্ভব
আরডের মৃত্যুর পর প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে বক্তব্য দিতে গিয়ে লর্ড স্মিথ বলেন, একাডেমিক সততা রক্ষা করা এবং অভিযোগের কঠোর তদন্ত—দুটিই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে তদন্তের বিষয়টিকে কেন্দ্র করে কোনো নির্দিষ্ট শিক্ষাবিদকে বর্ণবাদী আক্রমণের শিকার হতে দেওয়া উচিত নয়।
তিনি বলেন, কোনো শিক্ষাবিদের বিরুদ্ধে নকল বা অন্যের কাজ ব্যবহারের অভিযোগ উঠলে তিনি যে পরিচয়েরই হোন না কেন, অভিযোগের কঠোর ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে সেই ব্যক্তিকে ঘিরে বর্ণবাদী বিদ্বেষপূর্ণ প্রচারে অংশ নেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
৩০ হাজারের বেশি মানুষের তদন্তের দাবি
আরডেকে ঘিরে সংবাদমাধ্যমের প্রচারণা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে তাঁকে নিয়ে ধারাবাহিক সংবাদ ও অভিযোগ প্রকাশিত হওয়ার পর তাঁর মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে।
গুড ল প্রজেক্টের একটি আবেদনে ইতোমধ্যে ৩০ হাজারের বেশি মানুষ স্বাক্ষর করেছেন। তাঁদের মধ্যে ব্রিটিশ রাজনীতিক ডায়ান অ্যাবট এবং অভিনেত্রী জামিলা জামিলও রয়েছেন। আবেদনে আরডেকে নিয়ে সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, মৃত্যুর আগে তিনি প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে অবিরাম হয়রানির মুখে ছিলেন।
অভিযোগের তদন্ত নিয়েও প্রশ্ন
ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় এর আগে জানিয়েছিল, আরডের গবেষণাপত্র এবং কয়েকটি সাময়িকীতে প্রকাশিত লেখাকে ঘিরে ওঠা অভিযোগ লিভারপুল জন মুরস বিশ্ববিদ্যালয় ও সংশ্লিষ্ট সাময়িকীগুলো তদন্ত করেছিল।
তবে আরডেকে ঘিরে সংবাদমাধ্যমের আচরণ, অভিযোগ প্রকাশের ধরন এবং তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে ওই প্রচারণার কোনো সম্পর্ক ছিল কি না—এসব প্রশ্ন এখন নতুন করে সামনে এসেছে। ক্যামব্রিজের অধ্যক্ষের বক্তব্য সেই বিতর্ককে আরও গভীর করেছে।
ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে কম বয়সী কৃষ্ণাঙ্গ অধ্যাপকদের একজন হিসেবে আরডের উত্থান এবং পরবর্তী বিতর্ক এখন একাডেমিক সততা, সংবাদমাধ্যমের দায়িত্ব ও বর্ণবৈষম্যের প্রশ্নকে একই আলোচনায় নিয়ে এসেছে।
জেসন আরডেকে ঘিরে ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যক্ষের মন্তব্যে একাডেমিক সততা ও বর্ণবাদী আচরণের বিরুদ্ধে অবস্থানের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















