বাংলাদেশের মোবাইল অপারেটর এয়ারটেল নতুন পরিচয়ে ‘সার্কেল’ হিসেবে যাত্রা শুরু করছে। টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান রবি আজিয়াটা পিএলসি জানিয়েছে, এয়ারটেলের ১৬ বছরের পথচলার ধারাবাহিকতায় নতুন এই ব্র্যান্ড পরিচয় সামনে আনা হয়েছে। ঢাকার একটি হোটেলে সোমবার আয়োজিত অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘সার্কেল’ ব্র্যান্ডের উদ্বোধন করা হয়।
এয়ারটেল থেকে সার্কেলে রূপান্তর
রবি জানিয়েছে, এ পরিবর্তন মূলত ব্র্যান্ড পরিচয়ের বিবর্তন; এটি কোনো কার্যক্রমগত পরিবর্তন নয়। ফলে বর্তমান এয়ারটেল গ্রাহকদের আলাদাভাবে কোনো প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে না। সব বিদ্যমান গ্রাহক স্বয়ংক্রিয়ভাবে ‘সার্কেল’ গ্রাহকে পরিণত হবেন।
গ্রাহকদের ০১৬ মোবাইল নম্বরের প্রিফিক্স অপরিবর্তিত থাকবে। একই সঙ্গে বর্তমান প্যাকেজ, সেবা ও অ্যাকাউন্টে থাকা ব্যালান্সও আগের মতোই বহাল থাকবে। ব্র্যান্ড পরিবর্তনের কারণে গ্রাহকদের নিয়মিত সেবায় কোনো বিঘ্ন ঘটবে না বলে জানিয়েছে রবি।
নিরাপদ থাকবে ডিজিটাল হিসাব ও তথ্য
রবি আরও জানিয়েছে, এয়ারটেল সংযোগের সঙ্গে যুক্ত মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস বা এমএফএস হিসাব, ডিজিটাল ওয়ালেট, লেনদেনের ইতিহাস এবং ব্যবহারকারীদের তথ্য পুরোপুরি নিরাপদ থাকবে। ব্র্যান্ড পরিবর্তনের সময় এসব সেবা ও তথ্যের কার্যক্রমেও কোনো পরিবর্তন হবে না।
তরুণ প্রজন্মকে ঘিরে নতুন ব্র্যান্ড
এয়ারটেলের দীর্ঘদিনের গ্রাহকসংযোগ ও আস্থার ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েই ‘সার্কেল’কে নতুনভাবে সাজানো হয়েছে। বাংলাদেশের তরুণ ও ডিজিটালনির্ভর প্রজন্মের চাহিদা বিবেচনায় রেখে সাশ্রয়ী ও আধুনিক টেলিযোগাযোগ সেবার পাশাপাশি ভবিষ্যতমুখী প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে নতুন ব্র্যান্ডটি।
রবি আজিয়াটার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াদ শাতারা বলেন, এয়ারটেল গত ১৬ বছর ধরে দেশের তরুণদের সঙ্গে বেড়ে উঠেছে। এখন যোগাযোগব্যবস্থা নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করায় শুধু আরও বেশি মানুষকে সংযুক্ত করাই লক্ষ্য নয়; সেই সংযোগকে আরও অর্থবহ করে তোলাই গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম ভবিষ্যতে যেভাবে যোগাযোগ করবে, সেই বাস্তবতার সঙ্গে তাল মিলিয়েই এয়ারটেলের পরবর্তী বিবর্তন হিসেবে ‘সার্কেল’কে তৈরি করা হয়েছে। পরিচয়ে পরিবর্তন এলেও মানুষের মধ্যে আস্থা, সাশ্রয়ী সেবা ও নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ নিশ্চিত করার মূল প্রতিশ্রুতি অপরিবর্তিত থাকবে।
বিনোদন ও ডিজিটাল অভিজ্ঞতায় গুরুত্ব
ব্র্যান্ডটির মূল লক্ষ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে দৈনন্দিন ডিজিটাল অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করা। বিনোদন, গেমিং, কনটেন্ট তৈরি এবং অনলাইন কমিউনিটির মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে তরুণ গ্রাহকদের জন্য উন্নত ডিজিটাল অভিজ্ঞতা তৈরিতে গুরুত্ব দেবে ‘সার্কেল’। পাশাপাশি তরুণদের প্রয়োজন অনুযায়ী ডিজিটাল উদ্ভাবনে বিনিয়োগ অব্যাহত রাখবে অপারেটরটি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















