মাত্র চার বছর বয়সে অভিনয়ে পা রাখা মার্কিন অভিনেত্রী হেইডেন প্যানেটিয়ের ৩৬ বছর বয়সেই মারা গেছেন। জনপ্রিয় টেলিভিশন ধারাবাহিক ‘হিরোস’ ও ‘ন্যাশভিল’-এ অভিনয়ের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পাওয়া এই অভিনেত্রীর মৃত্যুতে শোক নেমে এসেছে বিনোদন অঙ্গনে।
তার বাবা স্কিপ প্যানেটিয়ের মেয়ের মৃত্যুর খবর জানিয়ে তাকে ‘অসাধারণ আলো’ এবং ‘প্রকৃতির এক দুর্দমনীয় শক্তি’ হিসেবে স্মরণ করেছেন।
চার বছর বয়সেই অভিনয়ে যাত্রা
১৯৮৯ সালের আগস্টে নিউইয়র্কের পালিসেডসে জন্ম হেইডেনের। তার মা লেসলি ভোগেল ছিলেন অভিনেত্রী ও প্রযোজক, আর বাবা স্কিপ ছিলেন সাবেক অগ্নিনির্বাপক।
মাত্র চার বছর বয়সে জনপ্রিয় মার্কিন ধারাবাহিক ‘ওয়ান লাইফ টু লাইভ’-এ অভিনয়ের সুযোগ পান তিনি। এরপর নব্বইয়ের দশকের শেষভাগ ও দুই হাজার দশকের শুরুতে একের পর এক টেলিভিশন অনুষ্ঠান ও চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন।
‘অ্যালি ম্যাকবিল’, ‘ম্যালকম ইন দ্য মিডল’ এবং অ্যানিমেশন চলচ্চিত্র ‘এ বাগস লাইফ’-এও তাকে দেখা যায়।
‘হিরোস’ বদলে দেয় ক্যারিয়ার
২০০৬ সালে ‘হিরোস’ ধারাবাহিকে ক্লেয়ার বেনেট চরিত্রে অভিনয় করে হেইডেনের ক্যারিয়ারে বড় পরিবর্তন আসে। সুপারহিরো ঘরানার এই ধারাবাহিকে তিনি এমন এক তরুণীর চরিত্রে অভিনয় করেন, যার শরীর দ্রুত নিজেকে সারিয়ে তুলতে পারে।
২০০৬ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত চলা ধারাবাহিকটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। এর মাধ্যমে হেইডেনও আন্তর্জাতিক দর্শকের কাছে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন।
এর আগে ২০০৪ সালে কেট হাডসনের সঙ্গে ‘রেইজিং হেলেন’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছিলেন তিনি। ২০০৬ সালে ‘ব্রিং ইট অন: অল অর নাথিং’ চলচ্চিত্রে ব্রিটনি অ্যালেন চরিত্রটিও তরুণ দর্শকদের মধ্যে তাকে জনপ্রিয় করে তোলে।
‘ন্যাশভিল’-এ নতুন পরিচয়
২০১২ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ‘ন্যাশভিল’ ধারাবাহিকে উদীয়মান দেশীয় সংগীতশিল্পী জুলিয়েট বার্নস চরিত্রে অভিনয় করেন হেইডেন। এই চরিত্রের জন্য তিনি দুটি গোল্ডেন গ্লোব মনোনয়ন পান।
তার অভিনীত গানগুলোও যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় দেশীয় সংগীতের তালিকায় ১১ বার জায়গা করে নেয়।
ভৌতিক চলচ্চিত্র ‘স্ক্রিম’ সিরিজেও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। ২০১১ সালের ‘স্ক্রিম ফোর’-এ কিরবি রিড চরিত্রে দেখা যায় তাকে। ২০২৩ সালের ‘স্ক্রিম সিক্স’-এও একই চরিত্রে ফিরে আসেন তিনি।

ব্যক্তিজীবনে নানা সংগ্রাম
হেইডেনের ব্যক্তিজীবনও ছিল নানা উত্থান-পতনে ভরা। ইউক্রেনীয় সাবেক পেশাদার মুষ্টিযোদ্ধা ভ্লাদিমির ক্লিৎসকোর সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল। ২০১৪ সালে তাদের একটি কন্যাসন্তান, কায়া, জন্ম নেয়। ২০১৮ সালে তাদের সম্পর্কের ইতি ঘটে।
সন্তান জন্মের পর প্রসব-পরবর্তী বিষণ্নতার চিকিৎসার জন্য তিনি একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে ভর্তি হওয়ার কথাও জানিয়েছিলেন। সে সময় তিনি বলেছিলেন, অনেক নারীই এমন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যান।
সম্প্রতি প্রকাশিত নিজের স্মৃতিকথায় শৈশবে অভিনয়ে প্রবেশ, আসক্তি, নির্যাতন এবং পরবর্তী সময়ে ঘুরে দাঁড়ানোর অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছিলেন হেইডেন।
পাঁচ বছর বয়সেই ৫০টি বিজ্ঞাপন
মৃত্যুর কয়েক মাস আগে নিজের শৈশবের অভিনয়জীবন নিয়ে বিবিসির সহযোগী প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হেইডেন বলেছিলেন, মাত্র আট মাস বয়সে তার মা তাকে অভিনয়ের জন্য অডিশনে নিয়ে যেতেন।
তিনি স্মরণ করেছিলেন, সেখান থেকেই তার অভিনয়জীবনের শুরু এবং মাত্র পাঁচ বছর বয়সে প্রায় ৫০টি বিজ্ঞাপনে অভিনয় করা হয়ে গিয়েছিল। এরপর আর থামেনি সেই যাত্রা।
তিন দশকজুড়ে অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকদের মনে জায়গা করে নেওয়া হেইডেন প্যানেটিয়েরের জীবন তাই একই সঙ্গে ছিল খ্যাতি, সাফল্য, ব্যক্তিগত সংগ্রাম ও ঘুরে দাঁড়ানোর এক দীর্ঘ গল্প।
হেইডেনের বাবা-মা ও ছোট ভাই জ্যানসেনকে ঘিরে তার পারিবারিক জীবনও ছিল আলোচিত। তার ভাই জ্যানসেন ২০২৩ সালে মাত্র ২৮ বছর বয়সে মারা যান।
হেইডেন প্যানেটিয়েরের আকস্মিক মৃত্যু তার ভক্ত ও সহকর্মীদের জন্য এক গভীর শোকের ঘটনা হয়ে রইল।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















