ইতালির সিসিলি দ্বীপের মেসিনা শহরের একটি জাদুঘর থেকে বিখ্যাত রেনেসাঁ শিল্পী আন্তোনেল্লো দা মেসিনার চারটি মূল্যবান শিল্পকর্ম চুরি হয়েছে। চুরি হওয়া এসব শিল্পকর্মের মোট মূল্য সর্বোচ্চ ৮ কোটি ইউরো বা প্রায় ৯ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শনিবার রাতে স্থানীয় একটি বড় ধর্মীয় শোভাযাত্রাকে ঘিরে শহরের কেন্দ্রে বিপুল মানুষের সমাগম এবং ব্যাপক পুলিশি উপস্থিতির সুযোগ নিয়ে চোরেরা জাদুঘরে ঢোকে। রাত প্রায় ৯টা ৫০ মিনিটে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে মেসিনার আঞ্চলিক আন্তঃবিষয়ক জাদুঘর হিসেবে পরিচিত জাদুঘরটিতে প্রবেশ করে।
নিরাপত্তা ভেঙে জাদুঘরে প্রবেশ
তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, চোরেরা ভিয়ালে আনুনৎসিয়াতা সড়কের পাশের ধাতব বেড়া কেটে জাদুঘর চত্বরে ঢোকে। এরপর একটি পাশের দরজা জোর করে খুলে তারা প্রদর্শনী কক্ষে প্রবেশ করে। সেখানে সাঁজোয়া কাচের প্রদর্শনী বাক্স ভেঙে মূল্যবান শিল্পকর্মগুলো নিয়ে যায়।
চুরি হওয়া শিল্পকর্মগুলোর মধ্যে রয়েছে ১৪৬৫ থেকে ১৪৭৪ সালের মধ্যে আঁকা একটি ছোট দ্বিমুখী চিত্রফলক। এক পাশে রয়েছে শিশু যিশুকে কোলে নেওয়া মেরি ও একজন ফ্রান্সিসকান সন্ন্যাসীর ছবি। অন্য পাশে রয়েছে ক্রুশবিদ্ধ যিশুর মৃত্যুর পরের দৃশ্য।
সিসিলি অঞ্চল ২০০৩ সালে শিল্পকর্মটি সংগ্রহ করে। এর আগে আনুষ্ঠানিকভাবে এটি আন্তোনেল্লো দা মেসিনার সৃষ্টি হিসেবে স্বীকৃতি পায়।

চুরি হয়েছে বিখ্যাত বেদিচিত্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ
চোরেরা ১৪৭৩ সালের ‘সান গ্রেগোরিও’ নামের বেদিচিত্রের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অংশও খুলে নিয়ে যায়। পালিয়ে যাওয়ার সময় আরও দুটি অংশ—সেন্ট বেনেডিক্ট ও সেন্ট গ্রেগরির ছবি—তারা ফেলে যায়। পরে জাদুঘরের কাছাকাছি একটি দেয়ালের পাশে সেগুলো পাওয়া যায়।
‘সান গ্রেগোরিও’ বেদিচিত্রটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটিই আন্তোনেল্লোর নিজের শহরে টিকে থাকা তাঁর একমাত্র শ্রেষ্ঠ শিল্পকর্ম হিসেবে বিবেচিত হয়।
জাদুঘরের পরিচালক মারিসা মারকুরিও এই ঘটনায় গভীর হতাশা প্রকাশ করেছেন। তাঁর ভাষায়, চুরি হওয়া শিল্পকর্ম দুটি শিল্পীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও সুপরিচিত সৃষ্টিগুলোর মধ্যে অন্যতম।
বৈধ বাজারে বিক্রি করা কঠিন
আন্তোনেল্লোর শিল্পকর্ম নিয়ে আন্তর্জাতিক আগ্রহ সাম্প্রতিক সময়ে আরও বেড়েছে। চলতি বছরের শুরুতে ইতালির সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় তাঁর ‘এচ্চে হোমো’ চিত্রকর্ম ১ কোটি ৪৯ লাখ মার্কিন ডলারে কিনেছিল।
শিল্প অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে, চুরি হওয়া এই চারটি শিল্পকর্ম এতটাই পরিচিত যে বৈধ শিল্পবাজারে এগুলো বিক্রি করা চোরদের জন্য অত্যন্ত কঠিন হবে। তবে এ ধরনের মূল্যবান শিল্পকর্ম অপরাধী চক্রের গোপন নেটওয়ার্কে ঘুরতে পারে এবং অন্য বেআইনি কর্মকাণ্ডে দর-কষাকষির উপকরণ হিসেবেও ব্যবহৃত হতে পারে।
এই চুরির কিছুদিন আগেই ইতালির পুলিশ পারমায় সংঘটিত আরেকটি বড় শিল্পকর্ম চুরির ঘটনায় রেনোয়া, সেজান ও মাতিসের চুরি যাওয়া কাজ উদ্ধার করেছিল।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















