চীনের প্রেক্ষাগৃহে এমন এক অ্যানিমেশন সিনেমা হঠাৎ ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে, যেটিকে দর্শকদের বড় একটি অংশ আসলে ‘খুবই খারাপ’ বলে মনে করছেন। সিনেমাটির দুর্বল নির্মাণ, অদ্ভুত চরিত্র আর জটিল কাহিনিই শেষ পর্যন্ত এর জনপ্রিয়তার প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গত ৫ আগস্ট মুক্তির দিন ‘দ্য অ্যারাইভাল অব দ্য অক্স’ নামের অ্যানিমেশনটি আয় করেছিল মাত্র ৩ হাজার ৪২০ ইউয়ান। কিন্তু মুক্তির প্রায় ১০ দিন পর সিনেমাটির দর্শকসংখ্যা আচমকা বাড়তে শুরু করে। শনিবার এর আয় বেড়ে দাঁড়ায় ৭ লাখ ১৭ হাজার ইউয়ানে। সোমবার নাগাদ এক দিনের আয় ছাড়িয়ে যায় ১ কোটি ১০ লাখ ইউয়ান।
এর ফলে চলতি বছরে চীনে মুক্তি পাওয়া দেশীয় অ্যানিমেশন সিনেমাগুলোর মধ্যে মোট আয়ের হিসাবে এটি শীর্ষ দশের তালিকায় উঠে আসে।
সিনেমাটি দেখতে মানুষ ছুটছেন কেন
সিনেমাটির জনপ্রিয়তার পেছনে প্রচলিত কোনো ইতিবাচক প্রশংসা নেই। বরং সিনেমাটি এতটাই অদ্ভুত ও নিম্নমানের বলে আলোচিত হয়েছে যে, সেটিই দর্শকদের কৌতূহলী করে তুলেছে।

সিনেমার গরুর চরিত্রগুলোকে দেখতে অনেকটা রঙিন বাক্স একটির ওপর আরেকটি সাজিয়ে রাখার মতো মনে হয়। তাদের মুখে রয়েছে অস্বাভাবিক মানবসদৃশ হাসি। অ্যানিমেশনের নড়াচড়া অনেকের কাছে শক্ত ও খাপছাড়া মনে হয়েছে। কণ্ঠসংযোজনও দর্শকদের কাছে কর্কশ বলে সমালোচিত হয়েছে।
সমালোচনাই হয়ে গেল প্রচারের হাতিয়ার
সিনেমাটির কাহিনি নিয়েও রয়েছে ব্যাপক বিভ্রান্তি। চরিত্রের নকশা, অ্যানিমেশনের মান এবং গল্প বলার ধরন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের মন্তব্য ছড়িয়ে পড়ে। তবে নেতিবাচক আলোচনা শেষ পর্যন্ত সিনেমাটির জন্য বিনামূল্যের প্রচারে পরিণত হয়।
মানুষ সিনেমাটি ভালো কি না, তা জানার চেয়ে এটি আসলে কতটা খারাপ—সেটি নিজের চোখে দেখার আগ্রহেই প্রেক্ষাগৃহে যেতে শুরু করেন। ফলে ব্যর্থতার পথে থাকা সিনেমাটি আচমকাই পরিণত হয় আলোচিত এক প্রদর্শনীতে।
‘খারাপ সিনেমা’ দেখার নতুন কৌতূহল
সিনেমাটির ঘটনা দেখিয়ে দিচ্ছে, দর্শকদের আকৃষ্ট করার জন্য সব সময় প্রশংসাই প্রয়োজন হয় না। কখনও কখনও তীব্র সমালোচনা, অস্বাভাবিক নির্মাণ এবং কৌতূহলও একটি সিনেমাকে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসতে পারে।
চীনের এই অ্যানিমেশনটির ক্ষেত্রে সেই কৌতূহলই শেষ পর্যন্ত বক্স অফিসে বড় সাফল্যের দরজা খুলে দিয়েছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















