নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের রাজধানী আলবেনির ক্যাপিটল ভবনে বোমা হামলা চালিয়ে আইনপ্রণেতাদের হত্যার পরিকল্পনার অভিযোগে ৩৫ বছর বয়সী এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা। কর্মকর্তাদের দাবি, অভিযুক্ত নারী জেসিকা বোয়ি হামলার আগে ভবনটি একাধিকবার পর্যবেক্ষণ করেছিলেন।
হামলার লক্ষ্য ছিল আইনপ্রণেতারা
মামলার নথি অনুযায়ী, বোয়ি আগে ইসলামিক স্টেটের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেছিলেন। তার বিরুদ্ধে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠনকে বস্তুগত সহায়তা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
তদন্তকারীদের অভিযোগ, তিনি ভবনটি অন্তত পাঁচবার ঘুরে দেখে হামলার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, হোয়াইট হাউসের তুলনায় নিউইয়র্কের ক্যাপিটল ভবনকে তিনি তুলনামূলক সহজ লক্ষ্য মনে করেছিলেন।
তদন্তকারীদের কাছে বোয়ি নাকি বলেছিলেন, তিনি ভবনটির যতটা সম্ভব ধ্বংস করতে এবং সিনেটরদের হত্যা করতে চান। হামলার মাধ্যমে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ব্যবস্থার ওপর প্রভাব ফেলতে চেয়েছিলেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
গোপন এজেন্টদের সঙ্গে কয়েক সপ্তাহ যোগাযোগ
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, বোয়ি কয়েক সপ্তাহ ধরে এফবিআইয়ের গোপন এজেন্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। ওই এজেন্টরা ইসলামিক স্টেটের সদস্য সেজে তার সঙ্গে কথা বলছিলেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, হামলার জন্য বোমা তৈরির উপকরণ সংগ্রহে তাকে অর্থও দিয়েছিলেন এজেন্টরা। একপর্যায়ে তাকে স্থানীয় একটি নির্মাণসামগ্রীর দোকানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে বেরিয়ে বোয়ি বিস্ফোরক তৈরির কাজে ব্যবহার করার জন্য কেনা পেরেক যথেষ্ট বড় কি না, তা নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন বলে তদন্তকারীদের দাবি।
তিনি বোমাটি খাবার সরবরাহের ব্যাগের মধ্যে লুকিয়ে ক্যাপিটল ভবনে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন বলেও অভিযোগে বলা হয়েছে।
হাতে ছিল নকল বোমা ও ত্রুটিপূর্ণ অস্ত্র
তদন্তকারীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের সময় বোয়ির কাছে একটি নকল বোমা ও ত্রুটিপূর্ণ আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। এসব সামগ্রী গোপন এজেন্টরাই তাকে দিয়েছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তার কাছে ছুরি এবং ইসলামিক স্টেটের প্রতি আনুগত্যের লিখিত শপথও পাওয়া যায়।
তদন্তের আগে ক্যাপিটল ভবন পরিদর্শনের সময় তাকে ছবি তুলতেও দেখা গেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও উগ্র বক্তব্য
মামলার নথিতে বলা হয়েছে, বোয়ি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ সক্রিয় ছিলেন এবং সেখানে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী বক্তব্য প্রকাশ করতেন। বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের নীতিমালা লঙ্ঘনের কারণে তাকে কয়েকটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল বলেও নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
তার বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ, তিনি আল-কায়েদার চালানো ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার প্রশংসা করেছিলেন।
তদন্তকারীদের সঙ্গে কথোপকথনে বোয়ি দাবি করেছিলেন, প্রায় পাঁচ বছর আগে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। অভিযোগে তার ধর্মান্তরের বিষয়টি উল্লেখ করা হলেও, কোনো ধর্মীয় পরিচয়কে এই কথিত সহিংস ষড়যন্ত্রের কারণ হিসেবে দেখানো হয়নি।
নিরাপত্তা জোরদারের কথা জানালেন গভর্নর
নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল তদন্তে এফবিআই এবং অঙ্গরাজ্য পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, বিপজ্জনক এই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারে তদন্তকারীদের প্রচেষ্টার জন্য তিনি কৃতজ্ঞ।
রাজনৈতিক সহিংসতা ও সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে হুমকি বাড়তে থাকায় চলতি বছরের শুরুতেই অঙ্গরাজ্যের ক্যাপিটল ভবন ও সরকারি স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছিল বলেও জানান তিনি।
বোয়ি অভিযোগগুলো অস্বীকার করে আদালতে লড়বেন কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
নিউইয়র্ক ক্যাপিটল ভবনে হামলার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে এই গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে অঙ্গরাজ্যের সরকারি স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক সহিংসতার ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
নিউইয়র্ক ক্যাপিটল ভবনে বোমা হামলার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে নারী গ্রেপ্তার; আইনপ্রণেতাদের হত্যার পরিকল্পনা, গোপন এজেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ ও হামলার প্রস্তুতির চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















