১৯৯৬ সালের ভারত–বাংলাদেশ গঙ্গা পানি চুক্তি বর্তমান কাঠামোতে নবায়ন করা হলে বিহারের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের জনতা দল (ইউনাইটেড)-এর জাতীয় কার্যকরী সভাপতি সঞ্জয় ঝা। তাঁর দাবি, চুক্তি কার্যকর হওয়ার গত তিন দশকের তথ্য বিশ্লেষণ করলে বিহারের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
বিহারের স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়ার দাবি
ভারতের সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সঞ্জয় ঝা বলেন, দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক বিষয়গুলো সমাধানের প্রয়োজন থাকলেও বিহারের স্বার্থকেও সমানভাবে বিবেচনায় রাখতে হবে। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভারতের ভাবমূর্তি রক্ষায় চুক্তিটি হয়তো কিছু সুবিধা দিয়েছে, কিন্তু বিহারের স্বার্থ এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
২০২১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিহারের পানি সম্পদমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ঝা বলেন, চুক্তি চালু হওয়ার পর গত ৩০ বছরের তথ্যই দেখাচ্ছে যে বিহার প্রত্যাশিত সুবিধা পায়নি।
বছরের শেষেই শেষ হচ্ছে চুক্তির মেয়াদ
১৯৯৬ সালের গঙ্গা পানি চুক্তির মেয়াদ আগামী ৩১ ডিসেম্বর শেষ হওয়ার কথা। তবে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে এখনো চুক্তিটি নবায়নের বিষয়ে চূড়ান্ত দফার আলোচনা হয়নি। দুই দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই এই আলোচনা ঝুলে আছে।
চুক্তিটি ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত হয়। সে সময় আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর শেখ হাসিনা প্রথমবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
এদিকে, সঞ্জয় ঝার বক্তব্য নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে জানতে চাওয়া হলেও প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ঢাকা–নয়াদিল্লি সম্পর্কে নতুন সমীকরণ
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর তিনি ভারতে অবস্থান করছেন। এর পর থেকে ঢাকা ও নয়াদিল্লির সম্পর্কেও নানা ধরনের টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে।
চলতি মাসের শুরুতে ঢাকা জানিয়েছিল, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে দুই দেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে আলোচনা করছে। তবে শেখ হাসিনা দিল্লিতে একটি ভার্চ্যুয়াল সংবাদ সম্মেলন করার পর সামগ্রিক পরিবেশ আরও জটিল হয়ে উঠেছে বলে জানিয়েছিল ঢাকা।
এমন পরিস্থিতিতে তারেক রহমান ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সম্ভাব্য বৈঠকে গঙ্গা পানি চুক্তি নবায়নের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যৌথ নদী কমিশনের বৈঠক ও ফারাক্কা পরিদর্শন
এর আগে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দায়িত্বে থাকলেও গঙ্গা পানি চুক্তি নবায়ন নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা করেনি বলে জানা গেছে।
তারেক রহমানের নির্বাচনী বিজয়ের পর গত মে মাসে বাংলাদেশ যৌথ নদী কমিশনের বৈঠকে অংশ নিতে একটি প্রতিনিধি দল ভারতে পাঠায়। কলকাতায় বৈঠকের পাশাপাশি প্রতিনিধি দলটি ফারাক্কা পরিদর্শন করে এবং সেখানে কারিগরি মূল্যায়নও চালায়।
গঙ্গার পানি বণ্টন নিয়ে দীর্ঘদিনের এই চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে দুই দেশের আলোচনায় এখন একদিকে বাংলাদেশের পানির ন্যায্য হিস্যা, অন্যদিকে ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজ্যগুলোর স্বার্থ—দুই বিষয়ই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
গঙ্গা পানি চুক্তির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে তাই শুধু ঢাকা ও নয়াদিল্লির দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নয়, ভারতের বিহারসহ সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলোর স্বার্থও বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















