মিয়ানমারের মধ্যাঞ্চলের সাগাইং অঞ্চলের মিয়াউং এলাকায় বৌদ্ধ ধর্মীয় সাধনা উপলক্ষে একটি মঠে জড়ো হওয়া বেসামরিক মানুষের ওপর বিমান হামলায় ১৪ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১১ জন পুরুষ ও তিনজন নারী রয়েছেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
তিন মাসের সাধনায় ছিলেন বয়স্করা
শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল ৯টার দিকে একটি মঠের সাধনাকেন্দ্রে হামলাটি চালানো হয়। সেখানে বৌদ্ধ ধর্মের বর্ষাবাস উপলক্ষে কয়েক মাস ধরে বয়স্ক ব্যক্তিরা ধ্যান ও ধর্মীয় সাধনায় অংশ নিচ্ছিলেন।
গণতন্ত্রপন্থী বিদ্রোহী যোদ্ধা নুয়ে উ মিয়াউং জানান, নিহতদের বয়স আনুমানিক ৫০ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে। তিনি বলেন, এটি ভুল লক্ষ্যবস্তুতে হামলা ছিল না; মঠটিকেই লক্ষ্য করে ইচ্ছাকৃতভাবে বিমান হামলা চালানো হয়েছে।
আরেক স্থানীয় বিরোধী যোদ্ধা জানান, নিহতদের পাঁচজন একই গ্রামের বাসিন্দা এবং বাকি নয়জন আশপাশের বিভিন্ন গ্রামের মানুষ। উদ্ধারকাজ চলার সময় বিমানটি আবারও ফিরে এসে হামলা চালায় বলেও তিনি দাবি করেন।
বেসামরিক স্থাপনায় হামলার অভিযোগ
মিয়ানমারে ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে সেনাবাহিনী ও বিভিন্ন গণতন্ত্রপন্থী এবং জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত চলছে। এই সংঘাতে গত পাঁচ বছরে এক লাখের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন হিসাব থেকে ধারণা করা হয়।
সেনাবাহিনী বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে চীন ও রাশিয়ায় তৈরি যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে থাকে। দেশটিতে মঠ, বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বেসামরিক স্থাপনায় বিমান হামলার অভিযোগও নিয়মিত উঠে আসছে।
জাতিসংঘের মিয়ানমারবিষয়ক স্বাধীন তদন্তকারী সংস্থা সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বেসামরিক মানুষের ওপর নির্বিচার ও ইচ্ছাকৃত বিমান হামলার অভিযোগ তুলেছে। তবে মিয়ানমার সরকার ওই প্রতিবেদনকে একপেশে এবং যাচাই করা যায় না—এমন তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
ধর্মীয় সমাবেশও হয়ে উঠছে হামলার লক্ষ্য
সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী একটি সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর চলমান আতঙ্ক সৃষ্টির কৌশলের মধ্যে বেসামরিক অবকাঠামো ও সামাজিক জমায়েতকে লক্ষ্যবস্তু করার প্রবণতা রয়েছে। বিয়ে, ধর্মীয় উৎসবসহ বিভিন্ন জনসমাগমস্থলেও হামলার অভিযোগ রয়েছে।
সামরিক শাসনের পাঁচ বছর পর ২০২৬ সালের শুরুতে মিয়ানমারে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সেনাবাহিনী এটিকে স্বাভাবিক রাজনৈতিক ব্যবস্থায় ফেরার পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরলেও গণতন্ত্রপন্থীরা নির্বাচনটিকে সামরিক শাসনকে নতুনভাবে প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা বলে সমালোচনা করে।
নির্বাচনের পর এপ্রিল মাসে অভ্যুত্থানের নেতা মিন অং হ্লাইং বেসামরিক প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেন। এরপর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ার লক্ষ্যে তিনি বিভিন্ন দেশে কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। ভারত, চীন, লাওস ও থাইল্যান্ডের নেতাদের সঙ্গে তার যোগাযোগ এবং সাম্প্রতিক রাশিয়া ও বেলারুশ সফরও এ তৎপরতার অংশ।
এদিকে চীনের মধ্যস্থতায় কয়েকটি শক্তিশালী সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে সমঝোতার পর সাম্প্রতিক সময়ে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী কয়েকটি এলাকায় সামরিকভাবে অগ্রগতি অর্জন করেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















