ইমরান খানের জন্য কোনো ধরনের ‘ডিল’ বা ছাড়ের সম্ভাবনা নেই বলে দাবি করেছেন পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও সরকারি পরিস্থিতির ওপর ঘনিষ্ঠ নজর রাখা এক গুরুত্বপূর্ণ ও তথ্যসমৃদ্ধ সূত্র। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস (সিডিএফ) এবং চিফ অব আর্মি স্টাফ (সিওএএস) ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের মধ্যে কোনো ধরনের মতবিরোধের সম্ভাবনাও ‘শূন্য’ বলে জানিয়েছেন তিনি।
পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিও নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ইমরান খানের চিকিৎসা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর নতুন করে নানা জল্পনা শুরু হয়। ইমরান খানকে চিকিৎসার জন্য শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নেওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তাকে পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসে (পিআইএমএস) নেওয়া হয়। পরে তাকে আবার আদিয়ালা কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
ইমরানের চিকিৎসা ঘিরে জল্পনা
চিকিৎসার স্থান পরিবর্তন এবং পরে কারাগারে ফেরত পাঠানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন ওঠে—এর পেছনে কি ইমরান খানের জন্য কোনো গোপন সমঝোতা বা রাজনৈতিক ছাড়ের বিষয় রয়েছে?
এ বিষয়ে সূত্রটির কাছে সরাসরি জানতে চাওয়া হলে তার উত্তর ছিল এককথায়, ‘শূন্য’। অর্থাৎ ইমরান খানের জন্য কোনো ডিল বা বিশেষ ছাড়ের সম্ভাবনা নেই বলেই তিনি দাবি করেছেন।
শেহবাজ-মুনির দ্বন্দ্বের গুঞ্জনও নাকচ
একই সূত্রকে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের মধ্যে মতবিরোধের খবর সম্পর্কেও প্রশ্ন করা হয়। এ ক্ষেত্রেও তার উত্তর ছিল ‘শূন্য’।
সূত্রটি বলেন, পাকিস্তানে রাজনৈতিক বা সামরিক নেতৃত্বকে ঘিরে কোনো অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটলেই তা অতীতের অভিজ্ঞতার আলোকে ব্যাখ্যা করার প্রবণতা রয়েছে। তখন দ্রুত ‘ডিল’, ‘ছাড়’ কিংবা বেসামরিক সরকার ও সামরিক নেতৃত্বের মধ্যে ‘দ্বন্দ্বের’ মতো নানা ধারণা ছড়িয়ে পড়ে।
বর্তমান পরিস্থিতি অতীতের মতো নয়
তবে ওই সূত্রের দাবি, বর্তমান রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাকে পাকিস্তানের অতীতের রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে এক করে দেখা ঠিক হবে না। তার ভাষায়, প্রায় তিন থেকে চার বছর আগে যে রাজনৈতিক কাঠামোর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের নেতৃত্বাধীন বেসামরিক সরকার ও সামরিক নেতৃত্বের যাত্রা শুরু হয়েছে, তা অতীতের ধারার তুলনায় ‘সম্পূর্ণ ভিন্ন’।
সূত্রটি আরও বলেন, বর্তমানে ছড়িয়ে পড়া অনেক খবর বাস্তব পরিস্থিতির চেয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির প্রত্যাশা বা ইচ্ছার প্রতিফলন হতে পারে। প্রভাবশালী ব্যক্তিরাও কখনো কখনো এমন দাবি করতে পারেন, যার বাস্তব ভিত্তি নেই।
ইমরান খান ও সামরিক প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তানের রাজনীতির অন্যতম স্পর্শকাতর বিষয়। একসময় ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকলেও পরবর্তী সময়ে সেই সম্পর্ক ভেঙে গিয়ে ইমরান ও সামরিক নেতৃত্বের মধ্যে তীব্র বিরোধ তৈরি হয়। ফলে তার কারাবাস, স্বাস্থ্য কিংবা সম্ভাব্য রাজনৈতিক ছাড়সংক্রান্ত যেকোনো ঘটনাকে ঘিরেই নতুন করে গোপন সমঝোতার জল্পনা তৈরি হয়।
তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এমন কোনো সমঝোতা নেই বলেই ওই সূত্রের বক্তব্য। তার দেওয়া সারকথা—ইমরান খানের জন্য কোনো ‘ডিল বা ডিল’ নেই এবং প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের মধ্যেও কোনো দ্বন্দ্ব নেই।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















