অন্ত্রের সুস্থতা ভালো রাখতে খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত আঁশ রাখা গুরুত্বপূর্ণ। তবে প্রতিদিন কতটা আঁশ খাওয়া যায় এবং তা কীভাবে সহজে খাবারের সঙ্গে যুক্ত করা সম্ভব, তার বাস্তব উদাহরণ দিয়েছেন কিংস কলেজ লন্ডনের অন্ত্রস্বাস্থ্যবিষয়ক বিজ্ঞানী ও নিবন্ধিত খাদ্যবিশেষজ্ঞ মেগান রসি। তিনি প্রতিদিন প্রায় ৫০ গ্রাম আঁশ গ্রহণ করেন এবং দিনের বিভিন্ন খাবারে নানা ধরনের উদ্ভিদজাত উপাদান রাখেন।
সকালের খাবারেই শুরু আঁশের যাত্রা
মেগান রসির খাদ্যাভ্যাসের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো দিনের শুরুতেই আঁশসমৃদ্ধ খাবার রাখা। শস্য, ফল, বীজ ও অন্যান্য উদ্ভিদজাত খাবারকে সকালের খাবারের অংশ করে তিনি দিনের শুরুতেই শরীরের প্রয়োজনীয় আঁশের একটি বড় অংশ পূরণ করেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একই ধরনের খাবারের ওপর নির্ভর না করে বিভিন্ন উৎস থেকে আঁশ গ্রহণ করলে খাদ্যতালিকায় বৈচিত্র্য আসে। এর ফলে অন্ত্রে বসবাসকারী উপকারী অণুজীবের জন্যও বিভিন্ন ধরনের খাদ্য উপাদান সরবরাহ করা সম্ভব হয়।
দুপুরের খাবারে উদ্ভিদজাত খাবারের বৈচিত্র্য
দুপুরের খাবারেও রসি বিভিন্ন ধরনের উদ্ভিদজাত খাবার রাখেন। শাকসবজি, ডাল, শস্য ও অন্যান্য আঁশসমৃদ্ধ উপাদান খাবারের পরিমাণ বাড়ানোর পাশাপাশি দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতেও সহায়তা করতে পারে।
আঁশ শুধু কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সহায়ক নয়, এটি অন্ত্রের সামগ্রিক পরিবেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে বিভিন্ন ধরনের আঁশ অন্ত্রের উপকারী অণুজীবের খাদ্য হিসেবে কাজ করতে পারে।
রাতের খাবারেও থাকে আঁশ
দিনের শেষ খাবারেও আঁশের পরিমাণ ধরে রাখেন এই অন্ত্রস্বাস্থ্যবিষয়ক বিজ্ঞানী। তাঁর খাদ্যাভ্যাসে রাতের খাবারও উদ্ভিদভিত্তিক উপাদানে বৈচিত্র্যময়। ফলে একবারে বিপুল পরিমাণ আঁশ খাওয়ার পরিবর্তে দিনের তিনটি প্রধান খাবারের মধ্যেই তা ভাগ করে নেওয়া সম্ভব হয়।
তবে হঠাৎ করে খাদ্যতালিকায় আঁশের পরিমাণ অনেক বাড়িয়ে দিলে কারও কারও পেট ফাঁপা, গ্যাস বা অস্বস্তি হতে পারে। তাই ধীরে ধীরে আঁশ বাড়ানো এবং পর্যাপ্ত পানি পান করা গুরুত্বপূর্ণ।
শুধু পরিমাণ নয়, খাবারের বৈচিত্র্যও গুরুত্বপূর্ণ
মেগান রসির খাদ্যাভ্যাসের মূল শিক্ষা হলো, প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ আঁশ গ্রহণের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের উদ্ভিদজাত খাবার খাওয়ার চেষ্টা করা। শাকসবজি, ফল, ডাল, পূর্ণশস্য, বাদাম ও বীজের মতো খাবার নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখলে আঁশের বিভিন্ন উৎস পাওয়া যায়।
অন্ত্রের সুস্থতা ধরে রাখতে তাই কোনো একটি বিশেষ খাবারের ওপর নির্ভর না করে বৈচিত্র্যময় খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলাই হতে পারে কার্যকর পথ। তবে ব্যক্তিভেদে আঁশের প্রয়োজন ও সহনশীলতা ভিন্ন হওয়ায় খাদ্যাভ্যাসে বড় পরিবর্তন আনার আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















