ভারতের পুঁজিবাজারে বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগে জেপিমরগান চেজ অ্যান্ড কোম্পানির মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান কপথল মরিশাস ইনভেস্টমেন্টকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত শেয়ারবাজারে কার্যক্রম চালানো থেকে নিষিদ্ধ করেছে দেশটির বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা। প্রতিষ্ঠানটির লেনদেনের ধরন প্রাথমিকভাবে ‘কারসাজিমূলক’ বলে মনে করছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
বুধবার রাতে প্রকাশিত অন্তর্বর্তী আদেশে কপথল এবং মুম্বাইভিত্তিক মানসি শেয়ার অ্যান্ড স্টক ব্রোকিংয়ের বিরুদ্ধে বাজার কারসাজির অভিযোগ আনা হয়েছে। নতুন চালু হওয়া শেয়ারদরের সমাপনী মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠান দুটি কারসাজিমূলক লেনদেন করেছে বলে অভিযোগ।
সমাপনী দরে কারসাজির অভিযোগ
ভারতের পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার অভিযোগ, গত ১৩ আগস্ট সেনসেক্সভুক্ত বিভিন্ন শেয়ারের দাম কৃত্রিমভাবে বাড়াতে কপথল নতুন চালু হওয়া সমাপনী নিলাম পর্ব ব্যবহার করে। ওই দিন সেনসেক্সভিত্তিক সাপ্তাহিক মেয়াদি চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার দিন ছিল।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার আদেশ অনুযায়ী, কপথল সেনসেক্সের অন্তর্ভুক্ত সব শেয়ারে বাজারদরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি দামে বড় অঙ্কের ক্রয়াদেশ দেয়। এসব ক্রয়াদেশের পেছনে প্রকৃতপক্ষে শেয়ার কেনার আগ্রহ ছিল না বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এর মধ্যে কিছু ক্রয়াদেশ পরে বাতিলও করা হয়।
নতুন সমাপনী নিলাম পদ্ধতি কী
গত ৩ আগস্ট ভারতের শেয়ারবাজারে সমাপনী নিলাম পদ্ধতি চালু করা হয়। দিনের লেনদেন শেষ হওয়ার আগে স্বল্প সময়ের এই নিলাম পর্বে ক্রয় ও বিক্রয়াদেশ মিলিয়ে কোনো শেয়ারের সরকারি সমাপনী দর নির্ধারণ করা হয়।
চীন, তাইওয়ান, হংকং ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ এশিয়ার বেশ কয়েকটি বাজারেও একই ধরনের পদ্ধতি চালু রয়েছে। নতুন ব্যবস্থা চালুর আগে ভারতের শেয়ারবাজারে দিনের শেষ ৩০ মিনিটে হওয়া লেনদেনের গড় দরের ভিত্তিতে সমাপনী মূল্য নির্ধারণ করা হতো।
বিশ্বের অন্যান্য বড় বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য আনতেই নতুন পদ্ধতি চালু করা হয়েছে বলে নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল।
তারল্য কম থাকায় ঝুঁকি বাড়ছে?
সমাপনী নিলাম পদ্ধতি চালুর পর থেকেই ভারতের প্রধান সূচকগুলোতে হঠাৎ দর ওঠানামা এবং দরের বড় ধরনের পার্থক্য দেখা গেছে। প্রায় ২০ মিনিটের এই পর্বে বাজারের তারল্য তুলনামূলকভাবে কম থাকে এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের আধিপত্য বেশি দেখা যায়।
বাজারের তথ্য অনুযায়ী, নতুন পদ্ধতিতে হওয়া লেনদেন মোট দৈনিক নগদ বাজারের লেনদেনের এক শতাংশেরও কম। আগের ব্যবস্থার তুলনায় এ সময়ের লেনদেনের পরিমাণও এক-তৃতীয়াংশের কম।
মানসি ব্রোকারেজের বিরুদ্ধেও অভিযোগ
শুধু কপথল নয়, মানসি শেয়ার অ্যান্ড স্টক ব্রোকিংয়ের বিরুদ্ধেও একই সময়ে কারসাজির অভিযোগ এনেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
অভিযোগ অনুযায়ী, সমাপনী নিলাম পর্বে মানসি সেনসেক্সের আটটি শেয়ারে বাজারদরের চেয়ে কম দামে বড় অঙ্কের বিক্রয়াদেশ দেয়। এর ফলে প্রায় পাঁচ মিনিটের জন্য সূচকটির ওপর নিম্নমুখী চাপ তৈরি হয়।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার দাবি, পরে লাভজনক বিক্রয়চুক্তির অবস্থান থেকে বেরিয়ে এসে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় সব বিক্রয়াদেশ বাতিল করে দেয়।
তদন্ত চলাকালেই বড় অঙ্কের অর্থ জব্দ
তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে ভারতের বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা। দুই প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে মোট ৩ কোটি ৬৮ লাখ রুপি জব্দের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাদের পুঁজিবাজারে অংশগ্রহণ এবং সমাপনী নিলাম পর্বে লেনদেনে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
ভারতীয় শেয়ারে বড় অঙ্কের বিশেষ লেনদেনের মাধ্যমে বিনিয়োগ করা কপথল চাইলে এই আদেশের বিরুদ্ধে ভারতের সিকিউরিটিজ আপিল ট্রাইব্যুনালে আপিল করতে পারবে।
ভারতের বাজারে নতুন সমাপনী মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি চালুর পর এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে আলোচিত কারসাজির অভিযোগগুলোর একটি। ঘটনাটি নিয়ন্ত্রক সংস্থার পাশাপাশি বড় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের লেনদেনের ওপরও নতুন করে নজরদারি বাড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















