দেশের নাম লখিন্দর
আঁচলে ঢেকে রাখে তাকে বেহুলা
কালনাগিনী ঢোকে নিশিরাতে।
নীল বিষে মাঝে মাঝে
হৃদস্পন্দন থেমে যায়—
খসে পড়ে লখিন্দরদেশের
চর্ম, মাংস একে একে।
এ শুধু একবার নয়—
সেই জন্মকাল থেকে।
নীল বিষে ভরা এ লখিন্দরকে
নিয়ে বেহুলা ভেসে
চলে মরণকে করে আলিঙ্গন বার বার
দিনের আলো ও গভীর কালো রাত মাথায় নিয়ে।
নীল বিষে যখনই অসাড় হয় লখিন্দরদেশ
তখন দেশের ঘাসফুল, পাখি– রাতের
শেষের শুকতারাটিও কাঁদে নীরবে।
সব ফুল শুষ্ক মুখে চেয়ে থাকে
গাঙুড়ের পানে।
গভীর নিশীথে ফুল শুধু নয়—
পাতারও চোখের পানি পড়ে ঝরে—
শুধু বেহুলার পথ চেয়ে।
কাতর কণ্ঠ তাদের নিশিবাতাসের মত
কান্না হয়ে ফেরে আকাশ থেকে আকাশে।
ডুকরে ওঠে যেন বাতাসের কণ্ঠ
ফিরে আয় বেহুলা, ফিরে আয়
তুই ছাড়া ফুটবে না ভাট ফুল, ঘাস ফুল যত
তুই ছাড়া কে আবার জাগাবে কচি পাতা
নতুন ভোরের ছোট্ট ঘাসফুল—
নীল বিষে অসাড় দেহের, মাংস খসে পড়া
লখিন্দরদেশের।
ফিরে আয় বেহুলা, ফিরে আয়
কাঁদে আকাশ, কাঁদে ঘাস, কাঁদে ভাটফুল
কাঁদে ছোট্ট চোখের বুলবুলি, কাঁদে বাউরি বাতাস।
ফিরে আয় বেহুলা, ফিরে আয়— ফিরে আয়।
স্বদেশ রায় 



















