এসবগুলো নিয়েই আজকের পোস্ট। গতকাল সন্ধ্যায় ছিল নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শপথ অনুষ্ঠান। এটা নিয়ে দু একটি কথা বলব।
কিন্তু তার আগে গতকাল সকালের একটা করুন কাহিনী আপনাদের শুনাই। আমি ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এলাকার বাসিন্দা। আমি সাধারণত খুব ভোরে আমাদের মাঠে হাঁটতে যাই। তখন প্রায় অন্ধকার থাকে। প্রতিদিন যাওয়ার সময় পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের সঙ্গে আমার সালাম এবং কুশল বিনিময় হয়। আমি তাদের আগে সালাম দেই এবং ভালো-মন্দ জিজ্ঞাসা করি। এ কারণেই বোধ হয় তারা আমাকে তাদের একজন আপনজন মনে করে।
গতকাল সকাল দশটার দিকে অল্প কিছু বাজার করার জন্য হাঁটতে হাঁটতে আমাদের এলাকার সুপার মার্কেটে যাই। ওই সময়ে তাদেরকে ঝাড়ু দিতে দেখে সালাম দিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, কি ব্যাপার আজকে এত দেরি কেন। বলল, ‘স্যার, গত দুমাস থেকে আমরা বেতন পাই না। আজকে গেছিলাম সিটি কর্পোরেশনের হেড অফিসে। এ জন্য দেরি হয়েছে’। আমি বললাম, সিটি কর্পোরেশন তো সরকারি প্রতিষ্ঠান, তাদের টাকা-পয়সাও আছে। আপনারা বেতন পাচ্ছেন না কেন সেটা তো বুঝতে পারলাম না। তারা কাঁদো কাঁদো হয়ে বলল, স্যার, আমাদের কোন কারণ বলে না। শুধু বলে, আজকে দিব,কালকে দিব। আমাদের এখন এমন অবস্থা ঘর ভাড়া দিতে পারছিনা বিধায় ঘর থেকে বের করে দিচ্ছে; বাজার করার পয়সা নেই। (আমার সঙ্গে আলাপচারিতার ভিডিও লিংক কমেন্টে
)।
)।উত্তর সিটি কর্পোরেশনের কয়েক হাজার পরিচ্ছন্নতা কর্মী দুমাস থেকে বেতন পাচ্ছে না এ খবর সংবাদমাধ্যমে কোথাও দেখিনি। ভাবলাম আমার সহকর্মী সংবাদকর্মীরাও হয়তো এদেরকে মানুষ হিসেবে গণ্য করে না। তাই এদের দুঃখ-বেদনা নিয়ে তাদের কোন মাথাব্যথা নেই। এদের এখন প্রায়োরিটি সম্ভবত ক্ষমতাধরদের তোষামোদ করে বিভিন্ন খবর প্রচার করা।
এরপর চিন্তা করলাম প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও উত্তর সিটির বাসিন্দা। তিনি বা তার আশেপাশে যারা থাকেন তাদের চোখেও কি এটা পড়েনি; তারাও কি ব্যাপারটা জানে না? আজ ইন্টারনেট ঘেঁটে দেখার চেষ্টা করলাম উত্তর সিটির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন এটা নিয়ে কোন বক্তব্য দিয়েছেন কিনা। সেটাও দেখলাম না কোথাও।

পাশাপাশি আরেকটা জিনিস নিশ্চয়ই আপনারা খেয়াল করেছেন। সংবাদমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন ভাতা দ্বিগুণ করার খবর প্রকাশিত হচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরপর তারেক রহমানের সরকার এসেও এটাকে মনে হয় প্রায়োরিটি হিসেবে নিয়েছে। তারাও বলছে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে তাদের বর্ধিত বেতন ভাতা দেওয়া হবে। সেটার পরিমাণও নিশ্চয়ই আপনারা জেনেছেন– সর্বনিম্ন গ্রেডের সাড়ে আট হাজার থেকে বেড়ে হয়েছে বিশ হাজার টাকা; আর সর্বোচ্চ গ্রেডের কর্মকর্তাদের বেতন ৭৮ হাজার থেকে বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। এর জন্য সরকারের ব্যয় হবে ১ লক্ষ ৩১ হাজার কোটি টাকা। একবার চিন্তা করে দেখেন, সরকারের মোট বাজেট হল ৯ লক্ষ ৩০ হাজার কোটি টাকা। এরমধ্যে এই ১৫ লক্ষ সরকারি চাকরিজীবী এবং প্রায় নয় লক্ষ অবসারভোগীদের জন্য ব্যয় হবে এক লক্ষ ৩১ হাজার কোটি। একবার চিন্তা করে দেখেন, কতটা অমানবিক একটা রাষ্ট্রে আমরা বসবাস করি যেখানে ১৮ কোটি মানুষের মধ্যে মাত্র ২৪ লাখ লোকের জন্য এই বিশাল সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।

আপনারা নিশ্চয়ই খেয়াল করেছেন প্রতিটা সরকার ক্ষমতায় আসার আগে সাধারণ মানুষের ভাগ্যোন্নয়ন এবং কল্যাণের কথা জোরেশোরে বলে। এদের মধ্যে হতদরিদ্রের সংখ্যা ৪ কোটির উপর। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে ক্ষমতাসীন হওয়ার পর পরই এদের প্রায়োরিটি হয় মুষ্টিমেয় সুবিধাভোগী দুর্নীতি পরায়ণ আমলাদের তোষণ এবং ভাগ্যোন্নয়ন। তখন এই ক্ষমতাসীনরা মনোযোগী হয় কিভাবে এই আমলাদের খুশি রেখে নিজেরা দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকবে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কার্যকলাপ দেখেও একই কথা মনে হচ্ছে। প্রায়ই ভাবি এদেশের সাধারণ মানুষের মুক্তি মনে হয় কোনদিন আসবেনা।
এই পোস্ট শেষ করছি গত সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের শপথ অনুষ্ঠান নিয়ে আমার কিছু অবজারভেশন দিয়ে। টিভিতে দেখলাম বিরাট জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠান। সামনের সারিতে বসে আছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, তার স্ত্রী এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান মুহাম্মদ ইউনুস। কিন্তু খটকা লাগলো সেখানে সদ্য বিদায় নেওয়া রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন ছুপপুকে না দেখে।

অনেকে বলতে পারেন তিনি তো একজন দুর্নীতি পরায়ন বিতর্কিত ব্যক্তি। স্বৈরশাসক হাসিনার আমলে নিয়োগ পাওয়া। তাই এই সরকার তো তাকে দাওয়াত দিতে পারেনা। প্রশ্ন হল এই শাহাবুদ্দিনের কাছেই তো শপথ নিয়েছেন ইউনুস, তারেক রহমান এবং তার মন্ত্রিসভা। তার চেয়েও বড় কথা শাহাবুদ্দিনের চেয়েও এখন বেশি বিতর্কিত এবং দেশব্যাপী ঘৃণিত ইউনুস। যিনি এখন বাটপাড় লরিয়েট হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি এবং অন্যান্য অপকর্মের নানা অভিযোগ দুর্নীতি দমন কমিশনে জমা পড়েছে। বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ্য করছি তারেক রহমানের সরকার এ ব্যাপারে সম্পূর্ণ নিশ্চুপ। তার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগের তদন্ত তো হচ্ছেই না; উপরন্ত তাকে নানাভাবে জনসমক্ষে হাজির করা হচ্ছে প্রমিনেন্টলি। এটা দেখে অনেকের মত আমারও মনে হচ্ছে যে এসব কিছুই লন্ডন বৈঠকের মাধ্যমে অলিখিত চুক্তি অনুযায়ী হচ্ছে। ইউনূসের তো এখন জেলে থাকার কথা। কিন্তু দেখতে পাচ্ছি তাকে শুধু এসএসএফ প্রটেকশনই নয়, প্রধানমন্ত্রী তাকে কাছাকাছি রেখে জনগণকে সম্ভবত এই মেসেজ দিতে চাচ্ছেন যে ইউনূস কে কোন ভাবেই স্পর্শ করা যাবে না সে যত অন্যায় করুক না কেন। এর প্রমাণ দেখতে পাচ্ছি উচ্চ আদালতে সাম্প্রতিককালে তার বিরুদ্ধে করা মামলা গুলো আমলে নেওয়া হচ্ছে না। তারেক রহমানকে শুধু একটাই কথা বলব জনগণ কিন্তু সব বুঝতে পারছে।
আরশাদ মাহমুদ 



















