০৭:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬
প্রতিদিন ৫০ গ্রাম আঁশ খেয়ে অন্ত্র সুস্থ রাখেন এই পুষ্টিবিজ্ঞানী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যাখ্যা শুনে মানুষ কি নিজের চিন্তার ক্ষমতা হারাচ্ছে? অবহেলিত পরিচ্ছন্নতা কর্মী; আমলা তোষন; বঙ্গভবনের শপথ অনুষ্ঠান তপ্ত ব্রিটেনের ভবিষ্যৎ কি শীতল থাকবে জলবায়ুবান্ধব ঘরেই? লখিন্দরদেশ মার্কিন ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধ’ জোরদার, ইরানকে বিচ্ছিন্ন করতে মিত্র ও চীনের ওপর ট্রাম্পের চাপ ইমরান খানের জন্য ‘ডিল বা ছাড়ের’ সুযোগ শূন্য, শেহবাজ-মুনির দ্বন্দ্বের গুঞ্জনও ভিত্তিহীন ইমরান খানের হাসপাতাল স্থানান্তর নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আদেশ ভঙ্গের অভিযোগ, অবমাননার আবেদন পিটিআইয়ের জিও টিভির প্রতিবেদন: পাকিস্তান-তুরস্ক-সৌদি প্রতিরক্ষা জোটে যোগ দিতে আগ্রহী বাংলাদেশ কোভিডের চেয়ে কতটা আলাদা সোয়াইন ফ্লু

জাতীয় স্বার্থ আগে, তারপর ভারত সফর: তারেক রহমানের সফরে তাড়াহুড়ো নেই

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে কোনো তাড়াহুড়ো নেই বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নবনিযুক্ত প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি বলেছেন, দুই দেশের মধ্যে আলোচনায় অগ্রগতি এবং বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েই সফরের উপযুক্ত সময় নির্ধারণ করা হবে।

শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

ভারতের সঙ্গে ইতিবাচক সম্পর্কের বার্তা

হুমায়ুন কবির বলেন, প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশ ইতিবাচক ও কার্যকর সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। তবে কোনো দেশের সঙ্গেই সম্পর্ক এগিয়ে নিতে গিয়ে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে আপস করা হবে না।

তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক চাওয়ার কারণ স্পষ্ট—দুই দেশ প্রতিবেশী। তাই পারস্পরিক স্বার্থ ও প্রয়োজনের ভিত্তিতে কার্যকর সম্পর্ক গড়ে তোলা জরুরি। একই সঙ্গে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ অক্ষুণ্ণ রাখাকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে।

শেখ হাসিনাকে ফেরানোর বিষয়ও আলোচনায়

ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের বিষয়েও কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি দাবি করেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের সময় ১ হাজার ৫০০ মানুষের হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার পর শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলার বিচারিক কার্যক্রম ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে এবং আরও অনেক মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলেও জানান তিনি।

হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে প্রত্যর্পণ চুক্তি রয়েছে। ফলে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি নতুন কোনো শর্ত বা নতুন ধরনের যোগাযোগের বিষয় নয়; এটি দুই দেশের চলমান সম্পর্কেরই একটি অংশ।

তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনাসহ ভারতে পালিয়ে যাওয়া অন্যান্য অভিযুক্তকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি বাংলাদেশের জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে যুক্ত। জনগণের অনুভূতির প্রতি গুরুত্ব দিয়েই ভারত সরকারের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা এগিয়ে নিতে চায় বাংলাদেশ।

তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে দেওয়া বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহার করল ভারত

প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগে প্রয়োজন প্রস্তুতি

ভারত সফর নিয়ে তাড়াহুড়ো না করার কারণ ব্যাখ্যা করে হুমায়ুন কবির বলেন, জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে যদি আলোচনায় দ্রুত সমঝোতা হয়, তাহলে আগামী সপ্তাহেও সফর হতে পারে। আবার প্রয়োজন হলে তার পরের সপ্তাহেও হতে পারে। তবে সফর আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় আলোচনা ও প্রস্তুতি সম্পন্ন করাই গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ের সফর হঠাৎ করে আয়োজন করা যায় না। দুই দেশের সরকারপ্রধানের বৈঠকের আগে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা, সমন্বয় এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে হয়। সরকার বর্তমানে সেই কাজই করছে।

ভারতের ইতিবাচক মনোভাবের ইঙ্গিত

ভারতের পক্ষ থেকে ইতিবাচক মনোভাব ও সদিচ্ছার কিছু ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে বলেও জানান হুমায়ুন কবির। তাঁর ভাষ্য, বাংলাদেশের জনগণের অনুভূতির বিষয়টি ভারতও উপলব্ধি করেছে।

বিশেষ করে চলতি বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের মানুষের অনুভূতিতে আঘাত লাগার বিষয়টি ভারতীয় পক্ষ নজরে নিয়েছে বলে জানান তিনি। এটিকে তিনি দুই দেশের আলোচনার ক্ষেত্রে একটি ভালো সূচনা হিসেবে উল্লেখ করেন।

হুমায়ুন কবির বলেন, এখন আলোচনার বাকি বিষয়গুলোতে কতটা অগ্রগতি হয়, সেটিই দেখার বিষয়। আলোচনার ফলাফল এবং বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপযুক্ত সময়ে ভারত সফর করবেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রতিদিন ৫০ গ্রাম আঁশ খেয়ে অন্ত্র সুস্থ রাখেন এই পুষ্টিবিজ্ঞানী

জাতীয় স্বার্থ আগে, তারপর ভারত সফর: তারেক রহমানের সফরে তাড়াহুড়ো নেই

০৬:১৮:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে কোনো তাড়াহুড়ো নেই বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নবনিযুক্ত প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি বলেছেন, দুই দেশের মধ্যে আলোচনায় অগ্রগতি এবং বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েই সফরের উপযুক্ত সময় নির্ধারণ করা হবে।

শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

ভারতের সঙ্গে ইতিবাচক সম্পর্কের বার্তা

হুমায়ুন কবির বলেন, প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশ ইতিবাচক ও কার্যকর সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। তবে কোনো দেশের সঙ্গেই সম্পর্ক এগিয়ে নিতে গিয়ে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে আপস করা হবে না।

তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক চাওয়ার কারণ স্পষ্ট—দুই দেশ প্রতিবেশী। তাই পারস্পরিক স্বার্থ ও প্রয়োজনের ভিত্তিতে কার্যকর সম্পর্ক গড়ে তোলা জরুরি। একই সঙ্গে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ অক্ষুণ্ণ রাখাকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে।

শেখ হাসিনাকে ফেরানোর বিষয়ও আলোচনায়

ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের বিষয়েও কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি দাবি করেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের সময় ১ হাজার ৫০০ মানুষের হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার পর শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলার বিচারিক কার্যক্রম ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে এবং আরও অনেক মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলেও জানান তিনি।

হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে প্রত্যর্পণ চুক্তি রয়েছে। ফলে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি নতুন কোনো শর্ত বা নতুন ধরনের যোগাযোগের বিষয় নয়; এটি দুই দেশের চলমান সম্পর্কেরই একটি অংশ।

তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনাসহ ভারতে পালিয়ে যাওয়া অন্যান্য অভিযুক্তকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি বাংলাদেশের জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে যুক্ত। জনগণের অনুভূতির প্রতি গুরুত্ব দিয়েই ভারত সরকারের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা এগিয়ে নিতে চায় বাংলাদেশ।

তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে দেওয়া বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহার করল ভারত

প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগে প্রয়োজন প্রস্তুতি

ভারত সফর নিয়ে তাড়াহুড়ো না করার কারণ ব্যাখ্যা করে হুমায়ুন কবির বলেন, জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে যদি আলোচনায় দ্রুত সমঝোতা হয়, তাহলে আগামী সপ্তাহেও সফর হতে পারে। আবার প্রয়োজন হলে তার পরের সপ্তাহেও হতে পারে। তবে সফর আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় আলোচনা ও প্রস্তুতি সম্পন্ন করাই গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ের সফর হঠাৎ করে আয়োজন করা যায় না। দুই দেশের সরকারপ্রধানের বৈঠকের আগে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা, সমন্বয় এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে হয়। সরকার বর্তমানে সেই কাজই করছে।

ভারতের ইতিবাচক মনোভাবের ইঙ্গিত

ভারতের পক্ষ থেকে ইতিবাচক মনোভাব ও সদিচ্ছার কিছু ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে বলেও জানান হুমায়ুন কবির। তাঁর ভাষ্য, বাংলাদেশের জনগণের অনুভূতির বিষয়টি ভারতও উপলব্ধি করেছে।

বিশেষ করে চলতি বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের মানুষের অনুভূতিতে আঘাত লাগার বিষয়টি ভারতীয় পক্ষ নজরে নিয়েছে বলে জানান তিনি। এটিকে তিনি দুই দেশের আলোচনার ক্ষেত্রে একটি ভালো সূচনা হিসেবে উল্লেখ করেন।

হুমায়ুন কবির বলেন, এখন আলোচনার বাকি বিষয়গুলোতে কতটা অগ্রগতি হয়, সেটিই দেখার বিষয়। আলোচনার ফলাফল এবং বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপযুক্ত সময়ে ভারত সফর করবেন।