তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয়ের বিরুদ্ধে বিধানসভায় আচরণ নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করেছেন দ্রাবিড় মুন্নেত্রা কাজাগম (ডিএমকে) সভাপতি এম কে স্টালিন। তাঁর অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভাকে সিনেমার সেটের মতো ব্যবহার করছেন এবং সেখানে নীতিনির্ধারণের বদলে ‘পাঞ্চ ডায়লগ’ দেওয়ার দিকেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন।
শনিবার ডিএমকের এক নির্বাহী কমিটির বৈঠকে বক্তব্য দেওয়ার সময় স্টালিন আরও অভিযোগ করেন, তাঁর সরকারের সময়ে চালু করা বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করছেন বিজয়। তাঁর দাবি, ডিএমকে নির্বাচনে জিতুক বা হারুক—দলের নেতাকর্মীরা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত থাকবেন।
বিধানসভায় বিজয়ের আচরণ নিয়ে স্টালিনের কটাক্ষ
স্টালিন বলেন, বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী ডিএমকে সরকারের চালু করা প্রকল্পগুলোর নাম পরিবর্তন করতেই ব্যস্ত। একই সঙ্গে তিনি বিধানসভাকে সিনেমার সেটের মতো বিবেচনা করে সেখানে ‘পাঞ্চ ডায়লগ’ দিচ্ছেন বলেও মন্তব্য করেন।
জুনে বিধানসভায় ডিএমকের সদস্যরা ওয়াকআউট করার সময় বিজয়ের একটি নাটকীয় অঙ্গভঙ্গি নিয়েও আলোচনা হয়। বিরোধী দলের সদস্যরা অধিবেশন থেকে বেরিয়ে গেলেও বিজয় তাঁর বক্তব্য চালিয়ে যান। বক্তব্যের শেষদিকে তিনি স্পিকারের অনুমতি নিয়ে একটি নাটকীয় অঙ্গভঙ্গি করেন, যা সাবেক মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্টালিনের একটি পরিচিত অঙ্গভঙ্গির সঙ্গে তুলনা করা হয়। ওই মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
নির্বাচনী পরাজয়কে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার সুযোগ হিসেবে দেখছে ডিএমকে
নির্বাচনে দলের পরাজয় প্রসঙ্গেও কথা বলেন এম কে স্টালিন। তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, এই পরাজয়কে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও সংগঠন পুনর্গঠনের একটি সুযোগ হিসেবে দেখা উচিত।
স্টালিন জানান, দলের ভবিষ্যৎ সাংগঠনিক কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, নির্বাহী কমিটির এই বৈঠক ডিএমকের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ একটি পর্ব হয়ে উঠতে পারে।
বিজয়ের বিনা মূল্যে গাড়ির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ডিএমকের
এদিকে শুক্রবার বিরোধী দলনেতা উদয়নিধি স্টালিন জানান, বিজয় সরকারের বিধায়কদের বিনা মূল্যে গাড়ি দেওয়ার প্রস্তাব ডিএমকের ৫৯ জন বিধায়কই প্রত্যাখ্যান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
উদয়নিধির দাবি, তামিলনাড়ু সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই রাজ্যের ঋণের কথা বলে আসছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকারি অর্থ ব্যয় করে বিধায়কদের গাড়ি দেওয়ার প্রস্তাব গ্রহণ করা যুক্তিযুক্ত নয় বলে মনে করে ডিএমকে।
তিনি আরও বলেন, বিধায়কদের গাড়ি দেওয়ার আগে তাঁদের নির্বাচনী হলফনামা, ব্যক্তিগত মালিকানায় আগে থেকেই গাড়ি রয়েছে কি না এবং তাঁদের আর্থিক অবস্থার মতো বিষয় যাচাই করা উচিত।
ডিএমকের মুখপাত্র সারাভানান অন্নাদুরাইও এই প্রস্তাবের সমালোচনা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, জনগণের অর্থ এমন একটি বিলাসবহুল খাতে ব্যয় করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যা সরকারের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত নয়। রাজ্যের কোষাগার সংকটের কথা মুখ্যমন্ত্রী নিজেই বলার পর এই প্রতিশ্রুতি কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















