যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের প্ল্যাটসবার্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইতিহাস গড়েছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ব্যাটারিচালিত বৈদ্যুতিক বিমান। হার্ট অ্যারোস্পেসের তৈরি ‘এক্স১’ পরীক্ষামূলক বিমানটি সফলভাবে প্রথমবার আকাশে উড়েছে। মাত্র ৫ ডলারের বিদ্যুৎ খরচে সম্পন্ন হয়েছে এই পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন।
২৭ মিনিটের ঐতিহাসিক উড্ডয়ন
গত ১২ আগস্ট এক্স১ বিমানটি ২৭ মিনিট আকাশে অবস্থান করে। এ সময় এটি ভূমি থেকে সর্বোচ্চ ১ হাজার ১০০ ফুট বা প্রায় ৩৩৫ মিটার উচ্চতায় ওঠে। উড্ডয়নের পুরো সময় বিমানটির বৈদ্যুতিক চালনা ব্যবস্থা ১ মেগাওয়াটের বেশি শক্তি সরবরাহ করেছে।
পরীক্ষামূলক উড্ডয়নটি পরিচালিত হয় প্ল্যাটসবার্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হার্ট অ্যারোস্পেসের পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, বাণিজ্যিক যাত্রীবাহী বিমানের সমপর্যায়ের আকার ও ক্ষমতায় সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক উড্ডয়ন প্রযুক্তি প্রদর্শনের লক্ষ্যেই এই পরীক্ষা চালানো হয়েছে।

বাণিজ্যিক বিমান চলাচলে নতুন সম্ভাবনা
হার্ট অ্যারোস্পেসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী আন্দের্স ফোরসলুন্ড বলেন, এক্স১-এর প্রথম উড্ডয়নের মাধ্যমে বাণিজ্যিক বিমানের সমপর্যায়ে বৈদ্যুতিক উড্ডয়নের সক্ষমতা দেখানো সম্ভব হয়েছে।
তার মতে, বৈদ্যুতিক বাণিজ্যিক বিমান ভবিষ্যতে বিমান পরিবহনের অর্থনৈতিক কাঠামো বদলে দিতে পারে। একই সঙ্গে বিমান ভ্রমণকে আরও সাশ্রয়ী, ঘন ঘন পরিচালনাযোগ্য এবং পরিবেশবান্ধব করার সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে।
এক্স১-এর দৈর্ঘ্য ৩২ দশমিক ৩ মিটার এবং উড্ডয়নের সময় এর ওজন ছিল ২৫ হাজার পাউন্ডের বেশি।
জ্বালানি ব্যয়ে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত
পরীক্ষামূলক উড্ডয়নে মাত্র প্রায় ৫ ডলারের বিদ্যুৎ খরচ হওয়াকে বৈদ্যুতিক বিমান প্রযুক্তির সম্ভাবনার গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্বজুড়ে উড়োজাহাজের জ্বালানির দাম যখন বেশি, তখন বৈদ্যুতিক চালনা ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালন ব্যয় কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

হার্ট অ্যারোস্পেস বলছে, বৈদ্যুতিক প্রযুক্তি বিমান সংস্থাগুলোকে তেলের দামের ওঠানামার ওপর নির্ভরশীলতা কমাতেও সহায়তা করতে পারে।
তবে বিমান চলাচলের জ্বালানি রূপান্তর একক কোনো প্রযুক্তির মাধ্যমে হবে না। পরিচালন দক্ষতা বাড়ানো, পরিবেশবান্ধব উড়োজাহাজ জ্বালানি এবং সম্পূর্ণ নতুন ধরনের বিমান প্রযুক্তি—সবকিছুর সমন্বয়েই ভবিষ্যতের পরিচ্ছন্ন বিমান চলাচল ব্যবস্থা গড়ে উঠবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
মাত্র ৫ ডলারের বিদ্যুতে ২৭ মিনিটের এই উড্ডয়ন তাই শুধু একটি পরীক্ষামূলক সাফল্য নয়; বরং ভবিষ্যতের কম খরচের ও কম দূষণকারী বিমান চলাচলের সম্ভাবনারও একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় ব্যাটারিচালিত বৈদ্যুতিক বিমানের সফল প্রথম উড্ডয়ন বৈদ্যুতিক আকাশযাত্রার বাণিজ্যিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আগ্রহ তৈরি করেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















