ইন্দোনেশিয়ায় ভর্তুকিযুক্ত পেট্রোল পেরটালাইট কেনার ক্ষেত্রে গাড়ির ধরনকে যোগ্যতার মানদণ্ড হিসেবে ব্যবহারের কথা ভাবছে সরকার। দেশটির সমন্বয়কারী অর্থমন্ত্রী এয়ারলাঙ্গা হার্তর্তো জানিয়েছেন, গাড়ির ধরন মালিকের আর্থসামাজিক অবস্থানের একটি সম্ভাব্য সূচক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
জাকার্তায় শুক্রবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এয়ারলাঙ্গা বলেন, সরকার আগে গাড়ির ধরনকে ভিত্তি করে ভর্তুকিযুক্ত জ্বালানি কেনার সুযোগ নির্ধারণের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছিল। কারণ, একটি গাড়ির ধরন থেকে মালিক কোন আর্থসামাজিক স্তরের অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন, তার একটি ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
তবে কোন ধরনের গাড়ির ক্ষেত্রে পেরটালাইট কেনায় বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে, সে বিষয়ে তিনি কোনো নির্দিষ্ট তথ্য দেননি। তার ভাষ্য, সরকার এখনো এই ব্যবস্থার কাঠামো চূড়ান্ত ও পরিমার্জন করছে। নিয়ম চূড়ান্ত হওয়ার পর বিস্তারিত জানানো হবে।
শীর্ষ ২০ শতাংশ পরিবারের জন্য সীমাবদ্ধতা
ইন্দোনেশিয়া দীর্ঘদিন ধরে ভর্তুকিযুক্ত জ্বালানি ব্যবস্থাকে আরও লক্ষ্যভিত্তিক করার চেষ্টা করছে। এর অংশ হিসেবে দেশের সবচেয়ে সচ্ছল পরিবারগুলোর পেরটালাইট কেনার সুযোগ সীমিত করার প্রস্তাব সামনে এসেছে।
সর্বশেষ প্রস্তাব অনুযায়ী, জাতীয় আর্থসামাজিক একক তথ্যভান্ডার ব্যবস্থায় নবম ও দশম দশমাংশে থাকা পরিবারগুলোকে পেরটালাইট কেনা থেকে সীমিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই দুই শ্রেণি মিলে দেশের শীর্ষ ২০ শতাংশ পরিবারকে প্রতিনিধিত্ব করে।
তবে প্রস্তাবটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। অনেকে নিজেদের আর্থসামাজিক দশমাংশের অবস্থান যাচাই করে দেখেছেন এবং সরকারি শ্রেণিবিন্যাসের সঙ্গে নিজেদের বাস্তব আর্থিক অবস্থার মিল না পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। এমনকি নিজেদের মধ্যবিত্ত মনে করা কিছু মানুষ দশম দশমাংশে স্থান পাওয়ায় তথ্যের নির্ভুলতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
তথ্য হালনাগাদের অপেক্ষা
সমালোচনার পর এয়ারলাঙ্গা জনগণকে নতুন আর্থসামাজিক তথ্যের জন্য অপেক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছেন। দেশটির পরিসংখ্যান সংস্থা ২০২৬ সালের জাতীয় আর্থসামাজিক জরিপ এবং অর্থনৈতিক শুমারির মাধ্যমে পরিবারের আর্থসামাজিক শ্রেণিবিন্যাস হালনাগাদ করছে।
অর্থমন্ত্রী পুরবায়া ইউধি সাদেওয়া জানিয়েছেন, সবচেয়ে সচ্ছল পরিবারগুলোর পেরটালাইট কেনা সীমিত করা গেলে সরকারের পরিকল্পিত ভর্তুকি ব্যয়ের প্রায় ১০ শতাংশ সাশ্রয় হতে পারে। প্রথম ধাপে দশম দশমাংশের পরিবারগুলোকে নিয়ে কয়েক মাসের মধ্যে এই ব্যবস্থা পরীক্ষামূলকভাবে চালুর কথা বলা হয়েছে।
দীর্ঘদিনের ভর্তুকি সংকট
ভর্তুকিযুক্ত জ্বালানি নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ ইন্দোনেশিয়ায় নতুন নয়। ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর আন্তর্জাতিক তেলের দাম বেড়ে যাওয়া এবং মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইন্দোনেশীয় রুপিয়ার বড় ধরনের অবমূল্যায়নের কারণে জ্বালানি ভর্তুকির ব্যয় বাজেটের তুলনায় অনেক বেড়ে যায়। এরপর থেকেই সরকার পেরটালাইট ও ভর্তুকিযুক্ত ডিজেল সোলার নিয়ন্ত্রণের বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে।
আগের একটি পরিকল্পনায় গাড়ির ধরন ও ইঞ্জিনের ক্ষমতার ভিত্তিতে জ্বালানি কেনার সুযোগ নির্ধারণের পাশাপাশি গাড়ির মালিকদের স্মার্টফোন অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধনের প্রস্তাব ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা স্থগিত রেখে ২০২২ সালে ভর্তুকিযুক্ত জ্বালানির দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এরপর থেকে দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
এদিকে বৈশ্বিক অপরিশোধিত তেলের বাজারে অস্থিরতা ও বাজার পরিস্থিতির কারণে চলতি বছরের জুনে ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান পেরতামিনা ভর্তুকিবিহীন জ্বালানির দাম প্রায় ৩২ শতাংশ বাড়িয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার ভর্তুকিযুক্ত জ্বালানি নীতিতে গাড়ির ধরনকে নতুন মানদণ্ড হিসেবে যুক্ত করার পরিকল্পনা তাই এখন দেশটির জ্বালানি ভর্তুকি আরও নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর মধ্যে সীমিত করার প্রচেষ্টার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে।




















