০২:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬
বিদেশে উচ্চশিক্ষায় এসএসসির রেজাল্টের গুরুত্ব কতটা? অ্যালার্ম ছাড়াই ঘুম থেকে উঠবেন যেভাবে হিমাগারে আটকা দেড় লাখ বস্তা আলু, প্রতি বস্তায় ৪৬০ টাকা লোকসান এআইকে অধিকার দিলে মানুষই কি হারাবে নিয়ন্ত্রণ? কানাডার সঙ্গে নতুন বাণিজ্যযুদ্ধের ঝুঁকি বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্রে দুই দিনেই ইনিংস ব্যবধানে হারল বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ ১–১ জাহাজডুবির সর্বশেষ আপডেট: ২ চীনা নাবিক উদ্ধার, ২২ জন নিখোঁজ—বেঁচে থাকা নিয়ে শঙ্কা চালের দাম আকাশছোঁয়া, কমতে পারে উৎপাদন দ্রব্যমূল্য কমেনি, স্বস্তি শুধু পরিসংখ্যানে গ্যাস-সংকট ও লোডশেডিংয়ে ২০২৭ সালের বিনা মূল্যের পাঠ্যবই ছাপায় শঙ্কা

দুই দিনেই ইনিংস ব্যবধানে হারল বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ ১–১

ম্যাকাই টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ইনিংস ও ৫১ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে মাত্র ৬৪ রানে অলআউট হওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসেও ৯৫ রানে গুটিয়ে যায় টাইগাররা। টেস্ট ইতিহাসে এই প্রথম কোনো ম্যাচে বাংলাদেশের দুই ইনিংসেই দলীয় সংগ্রহ একশ রানের নিচে থাকল।

ব্যাটিং ব্যর্থতায় বড় পরাজয়

টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেওয়া অস্ট্রেলিয়াকে ম্যাচের শুরু থেকেই কোনো পর্যায়ে চ্যালেঞ্জে ফেলতে পারেনি বাংলাদেশ। দুই ইনিংসেই ব্যাটারদের ব্যর্থতায় মাত্র দুই দিনেই শেষ হয়ে যায় ম্যাচ। তবে বাংলাদেশের জন্য বড় স্বস্তির জায়গা ছিলেন পেসার শরীফুল ইসলাম। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসে ৭ উইকেট নিয়ে তিনি টেস্টে কোনো বাংলাদেশি পেসারের সেরা বোলিংয়ের রেকর্ড গড়েছেন। একই সঙ্গে এটি তার ক্যারিয়ারসেরা বোলিং।

দ্বিতীয় দিনের শুরুতে ৮ উইকেটে ১৬৫ রান নিয়ে ব্যাট করতে নামা অস্ট্রেলিয়াকে ২১০ রানে থামিয়ে দেয় বাংলাদেশ। এরপর ইনিংস হার এড়ানোর লক্ষ্যে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমেও শুরু থেকেই বিপর্যয়ে পড়ে সফরকারীরা।

দুই দিনেই ইনিংস ব্যবধানে টেস্ট হারল বাংলাদেশ | প্রথম আলো

স্টার্কের তাণ্ডবে শুরুতেই ধস

প্রথম দুই ওভারে ৫ রান তুলেছিল বাংলাদেশ। তৃতীয় ওভারে মিচেল স্টার্কের বলে পয়েন্টে মার্নাস লাবুশেনের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন সাদমান ইসলাম। পরের বলেই মুমিনুল হকের অফস্টাম্প উড়িয়ে দেন স্টার্ক। মাত্র ৫ রানেই দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ।

তানজিদ হাসান ও নাজমুল হোসেন শান্ত কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও অষ্টম ওভারের শেষ বলে প্যাট কামিন্সের বলে স্টার্কের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তানজিদ। ৩৯ রানে তিন উইকেট হারিয়ে মধ্যাহ্নভোজের বিরতিতে যায় বাংলাদেশ।

বিরতির পরও থামেনি ধস

মধ্যাহ্নভোজের পরও বাংলাদেশের ইনিংসে ধস অব্যাহত থাকে। ডাউন দ্য উইকেটে এসে খেলতে গিয়ে আউট হন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। এরপর লিটন দাস ও মেহেদী হাসান মিরাজও ফিরে গেলে ইনিংস ব্যবধানে পরাজয় কার্যত নিশ্চিত হয়ে যায়।

অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ইনিংস ব্যবধানে হেরেও সিরিজ ড্র বাংলাদেশের

হাসান মাহমুদ ও তাইজুল ইসলাম বোল্ড হয়ে ফেরার পর মুশফিকুর রহিম তাসকিন আহমেদকে সঙ্গে নিয়ে ইনিংস বড় করার চেষ্টা করেন। চা-বিরতিতে যাওয়ার সময় বাংলাদেশের হাতে ছিল মাত্র দুই উইকেট, ইনিংস হার এড়াতে প্রয়োজন ছিল আরও ৫১ রান। একপ্রান্তে মুশফিক একাই লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন।

শেষ পর্যন্ত অবশ্য ইনিংস হার এড়ানো সম্ভব হয়নি। বিরতির পর প্রথম বলেই স্লিপে ক্যাচ দিয়ে আউট হন তাসকিন। এরপর ব্যাট করতে নামা শরীফুল ইসলাম দ্বিতীয় বলেই নাথান লায়নের বলে আউট হলে ৯৫ রানে শেষ হয় বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংস।

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে স্মরণীয় সিরিজ

ম্যাকাইয়ে হতাশাজনক পরাজয় এলেও পুরো সিরিজ বাংলাদেশের ক্রিকেটে আলাদা গুরুত্ব নিয়ে থাকবে। দীর্ঘ ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে নেমে ডারউইন টেস্টে জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত দুই ম্যাচের সিরিজ ১–১ সমতায় শেষ হয়েছে।

ম্যাকাইয়ে দুই দিনের মধ্যেই ম্যাচ শেষ হলেও সিরিজের শুরুতে পাওয়া সেই জয় অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের অন্যতম স্মরণীয় অর্জন হিসেবেই থেকে যাবে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

বিদেশে উচ্চশিক্ষায় এসএসসির রেজাল্টের গুরুত্ব কতটা?

দুই দিনেই ইনিংস ব্যবধানে হারল বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ ১–১

০১:০৭:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

ম্যাকাই টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ইনিংস ও ৫১ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে মাত্র ৬৪ রানে অলআউট হওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসেও ৯৫ রানে গুটিয়ে যায় টাইগাররা। টেস্ট ইতিহাসে এই প্রথম কোনো ম্যাচে বাংলাদেশের দুই ইনিংসেই দলীয় সংগ্রহ একশ রানের নিচে থাকল।

ব্যাটিং ব্যর্থতায় বড় পরাজয়

টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেওয়া অস্ট্রেলিয়াকে ম্যাচের শুরু থেকেই কোনো পর্যায়ে চ্যালেঞ্জে ফেলতে পারেনি বাংলাদেশ। দুই ইনিংসেই ব্যাটারদের ব্যর্থতায় মাত্র দুই দিনেই শেষ হয়ে যায় ম্যাচ। তবে বাংলাদেশের জন্য বড় স্বস্তির জায়গা ছিলেন পেসার শরীফুল ইসলাম। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসে ৭ উইকেট নিয়ে তিনি টেস্টে কোনো বাংলাদেশি পেসারের সেরা বোলিংয়ের রেকর্ড গড়েছেন। একই সঙ্গে এটি তার ক্যারিয়ারসেরা বোলিং।

দ্বিতীয় দিনের শুরুতে ৮ উইকেটে ১৬৫ রান নিয়ে ব্যাট করতে নামা অস্ট্রেলিয়াকে ২১০ রানে থামিয়ে দেয় বাংলাদেশ। এরপর ইনিংস হার এড়ানোর লক্ষ্যে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমেও শুরু থেকেই বিপর্যয়ে পড়ে সফরকারীরা।

দুই দিনেই ইনিংস ব্যবধানে টেস্ট হারল বাংলাদেশ | প্রথম আলো

স্টার্কের তাণ্ডবে শুরুতেই ধস

প্রথম দুই ওভারে ৫ রান তুলেছিল বাংলাদেশ। তৃতীয় ওভারে মিচেল স্টার্কের বলে পয়েন্টে মার্নাস লাবুশেনের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন সাদমান ইসলাম। পরের বলেই মুমিনুল হকের অফস্টাম্প উড়িয়ে দেন স্টার্ক। মাত্র ৫ রানেই দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ।

তানজিদ হাসান ও নাজমুল হোসেন শান্ত কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও অষ্টম ওভারের শেষ বলে প্যাট কামিন্সের বলে স্টার্কের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তানজিদ। ৩৯ রানে তিন উইকেট হারিয়ে মধ্যাহ্নভোজের বিরতিতে যায় বাংলাদেশ।

বিরতির পরও থামেনি ধস

মধ্যাহ্নভোজের পরও বাংলাদেশের ইনিংসে ধস অব্যাহত থাকে। ডাউন দ্য উইকেটে এসে খেলতে গিয়ে আউট হন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। এরপর লিটন দাস ও মেহেদী হাসান মিরাজও ফিরে গেলে ইনিংস ব্যবধানে পরাজয় কার্যত নিশ্চিত হয়ে যায়।

অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ইনিংস ব্যবধানে হেরেও সিরিজ ড্র বাংলাদেশের

হাসান মাহমুদ ও তাইজুল ইসলাম বোল্ড হয়ে ফেরার পর মুশফিকুর রহিম তাসকিন আহমেদকে সঙ্গে নিয়ে ইনিংস বড় করার চেষ্টা করেন। চা-বিরতিতে যাওয়ার সময় বাংলাদেশের হাতে ছিল মাত্র দুই উইকেট, ইনিংস হার এড়াতে প্রয়োজন ছিল আরও ৫১ রান। একপ্রান্তে মুশফিক একাই লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন।

শেষ পর্যন্ত অবশ্য ইনিংস হার এড়ানো সম্ভব হয়নি। বিরতির পর প্রথম বলেই স্লিপে ক্যাচ দিয়ে আউট হন তাসকিন। এরপর ব্যাট করতে নামা শরীফুল ইসলাম দ্বিতীয় বলেই নাথান লায়নের বলে আউট হলে ৯৫ রানে শেষ হয় বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংস।

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে স্মরণীয় সিরিজ

ম্যাকাইয়ে হতাশাজনক পরাজয় এলেও পুরো সিরিজ বাংলাদেশের ক্রিকেটে আলাদা গুরুত্ব নিয়ে থাকবে। দীর্ঘ ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে নেমে ডারউইন টেস্টে জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত দুই ম্যাচের সিরিজ ১–১ সমতায় শেষ হয়েছে।

ম্যাকাইয়ে দুই দিনের মধ্যেই ম্যাচ শেষ হলেও সিরিজের শুরুতে পাওয়া সেই জয় অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের অন্যতম স্মরণীয় অর্জন হিসেবেই থেকে যাবে।