সরকারের প্রথম ছয় মাসে বাজার তদারকি, টিসিবি সংস্কার, স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড চালু, সরবরাহব্যবস্থায় নজরদারি এবং হাজারো অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। জুলাইয়ে মূল্যস্ফীতিও কমেছে। কিন্তু এসব উদ্যোগের প্রভাব সাধারণ মানুষের বাজারে এখনও স্পষ্ট নয়।
জুলাইয়ে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ থেকে কমে ৮ দশমিক ৩২ শতাংশে নেমেছে। খাদ্য মূল্যস্ফীতিও ৮ দশমিক ৬০ শতাংশ থেকে কমে হয়েছে ৭ দশমিক ১৬ শতাংশ। আট মাসের মধ্যে এটি সর্বনিম্ন। তবে মূল্যস্ফীতি কমার অর্থ পণ্যের দাম কমে যাওয়া নয়; বরং আগের বছরের তুলনায় দাম বাড়ার গতি কিছুটা কমেছে।
বাজারে স্বস্তি নেই
রাজধানীর বাজারে ডিমের ডজন ১৫০ টাকা, ব্রয়লার মুরগি ১৯০ টাকা, মিনিকেট চাল ৭৮ টাকা এবং অনেক সবজি ৮০ থেকে ১০০ টাকার ওপরে বিক্রি হয়েছে। মোটা চাল ৫২ থেকে ৫৫ টাকা, বিআর-২৮ প্রায় ৬০ টাকা এবং কাটারি নাজির ৮৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।

১৮ আগস্ট বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরও জীবনযাত্রার বর্তমান ব্যয় নিয়ে সন্তুষ্ট নন বলে জানিয়েছেন। তবে নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও সরকার দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে পেরেছে বলে দাবি করেন তিনি। দাম কমাতে জ্বালানি, বিদ্যুৎ, ঋণের সুদ, উৎপাদনশীলতা, পরিবহন ও অবকাঠামো উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন।
সরবরাহব্যবস্থায় বড় চাপ
সিপিডির তথ্য বলছে, উৎপাদক থেকে খুচরা পর্যায়ে কাঁচামরিচের দাম ১১৬ শতাংশ, মাঝারি চাল প্রায় ১০০ শতাংশ, পেঁয়াজ ৮৭ শতাংশ এবং মসুর ডাল ৭৮ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ে। পরিবহন ব্যয়, সংরক্ষণের দুর্বলতা, অপচয়, তথ্যের ঘাটতি, সরবরাহ সংকট এবং কোথাও কোথাও মজুত ও ব্যবসায়ীদের যোগসাজশও দামের ওপর চাপ তৈরি করে।
বাণিজ্যমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের লজিস্টিক ব্যয় জিডিপির প্রায় ১৬ শতাংশ, যেখানে বৈশ্বিক গড় প্রায় ১০ শতাংশ। ফলে বাজার নিয়ন্ত্রণে শুধু অভিযান নয়, পরিবহন ও সরবরাহব্যবস্থার কাঠামোগত দুর্বলতা কমানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
আইন ও বাজার তদারকিতে নতুন উদ্যোগ
বাজারে প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে ১৯৫৬ সালের আইন পরিবর্তন করে ‘অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইন, ২০২৬’ প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। টিসিবিকে ডিজিটাল করা, স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড ও বায়োমেট্রিক যাচাইয়ের মাধ্যমে সুবিধাভোগী নির্বাচন এবং বাজার তদারকি বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।
বৈদেশিক বাণিজ্যেও অগ্রগতি
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ১৮০ দিনের প্রতিবেদনে জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি এবং দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। বাংলাদেশ বর্তমানে ২০২টি গন্তব্যে ৮১২ ধরনের পণ্য রফতানি করছে। চামড়া, ওষুধ, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য, হালকা প্রকৌশল ও পাটজাত পণ্যকে নতুন রফতানি খাত হিসেবে এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগও রয়েছে।
তবে সাধারণ মানুষের কাছে সরকারের বাজার ব্যবস্থাপনার সাফল্যের সবচেয়ে বড় মাপকাঠি হলো নিত্যপণ্যের দাম। সেই জায়গায় প্রথম ১৮০ দিনের চিত্র এখনও মিশ্র। মূল্যস্ফীতির হিসাবে স্বস্তির ইঙ্গিত মিললেও চাল, ডিম, মুরগি ও সবজির দামে সেই স্বস্তি এখনও পৌঁছায়নি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















