পশ্চিম ও মধ্য আফ্রিকায় সংঘাত, রোগের প্রাদুর্ভাব, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং সামাজিক অস্থিরতার ঝুঁকির কারণে ২০২৬ সালেও মানবিক সংকট তীব্র থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এসব সংকটে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে শিশু ও তাদের পরিবার।
জাতিসংঘের শিশু তহবিলের ২০২৬ সালের মানবিক সহায়তা পরিকল্পনা অনুযায়ী, অঞ্চলটির জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য, পুষ্টি, নিরাপদ পানি, পয়োনিষ্কাশন ও পরিচ্ছন্নতা, শিশুসুরক্ষা, শিক্ষা এবং সামাজিক সুরক্ষা খাতে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন হবে।
১৬ দেশের জন্য ৯ কোটি ২৬ লাখ ডলারের আবেদন
শিশুদের জরুরি প্রয়োজন মেটাতে জাতিসংঘের শিশু তহবিল ১৬টি দেশের জন্য মোট ৯ কোটি ২৬ লাখ মার্কিন ডলারের সহায়তা চেয়েছে। দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে বেনিন, কাবো ভের্দে, কঙ্গো, আইভরি কোস্ট, বিষুবীয় গিনি, গ্যাবন, গাম্বিয়া, ঘানা, গিনি, গিনি-বিসাউ, লাইবেরিয়া, মৌরিতানিয়া, সাও টোমে ও প্রিন্সিপে, সেনেগাল, সিয়েরা লিওন ও টোগো।
এর পাশাপাশি পশ্চিম ও মধ্য আফ্রিকার ২৪টি দেশেই জরুরি প্রস্তুতি ও মানবিক সহায়তার সক্ষমতা বাড়াতে আঞ্চলিক পর্যায়ে সহযোগিতা দেওয়া হবে।
স্বাস্থ্যসেবার প্রয়োজন ৭৯ লাখ মানুষের
পরিকল্পনায় উঠে এসেছে সংকটের ভয়াবহ চিত্র। ২০২৬ সালে অঞ্চলটিতে প্রায় ৭৯ লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা প্রয়োজন হবে। পুষ্টি সহায়তার প্রয়োজন হবে প্রায় ৩৭ লাখ মানুষের।
শিশুসুরক্ষা সেবার প্রয়োজন রয়েছে প্রায় ২৫ লাখ শিশুর। একই সময়ে শিক্ষা সহায়তার প্রয়োজন হবে প্রায় ৪১ লাখ শিশুর।
নিরাপদ পানির সুবিধা থেকেও বঞ্চিত প্রায় ৩৬ লাখ মানুষ। সংঘাত, রোগের বিস্তার ও দুর্যোগ পরিস্থিতির সঙ্গে এসব সংকট যুক্ত হয়ে শিশুদের স্বাভাবিক জীবন, শিক্ষা ও নিরাপত্তাকে আরও অনিশ্চিত করে তুলতে পারে।
সমন্বিত প্রস্তুতির ওপর জোর

জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় শুধু তাৎক্ষণিক সহায়তা নয়, আগাম প্রস্তুতি জোরদারের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সরকার, নাগরিক সমাজ এবং সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ও কার্যকর সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
বিশেষ করে স্বাস্থ্য, পুষ্টি, পানি ও পরিচ্ছন্নতা, শিশুসুরক্ষা এবং শিক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে একযোগে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে সংকটের সময় শিশুদের জীবন রক্ষা এবং তাদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে।
পশ্চিম ও মধ্য আফ্রিকায় ২০২৬ সালের মানবিক পরিস্থিতি তাই শুধু তাৎক্ষণিক ত্রাণের বিষয় নয়; বরং শিশুদের নিরাপত্তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ সুরক্ষার জন্য দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তাও সামনে আনছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















