চীনের বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বিওয়াইডি ইউরোপ থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া—বিভিন্ন বাজারে দ্রুত এগিয়ে গেলেও জাপানে এখনো তেমন সাফল্য পায়নি। বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম গাড়ির বাজারটিতে দীর্ঘদিন চেষ্টা করেও প্রতিষ্ঠানটির বিক্রি উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে পৌঁছায়নি। তবে নতুন একটি ছোট বৈদ্যুতিক গাড়িকে ঘিরে সেই পরিস্থিতি বদলের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
ছোট গাড়িতেই বড় সুযোগ
জুলাই মাসে বিওয়াইডি জাপানের বাজারে ‘র্যাকো’ নামের ছোট গাড়ি নিয়ে এসেছে। জাপানি ভাষায় র্যাকো শব্দের অর্থ সামুদ্রিক ভোঁদড়। দেশটির দীর্ঘদিনের ছোট, কম খরচের গাড়ির প্রতি আগ্রহকে লক্ষ্য করেই এই গাড়ি তৈরি করা হয়েছে।
জাপানে ছোট গাড়ির একটি বিশেষ শ্রেণি রয়েছে, যাকে ‘কেই’ গাড়ি বলা হয়। এসব গাড়ি সাধারণ ছোট গাড়ির চেয়েও আকারে ছোট। দৈর্ঘ্য সর্বোচ্চ ৩ দশমিক ৪ মিটার এবং প্রস্থ ১ দশমিক ৪৮ মিটারের মধ্যে রাখতে হয়। এমন গাড়ির জন্য জাপানে আলাদা কর ও বীমা ব্যবস্থাও রয়েছে।
বিওয়াইডিই প্রথম বিদেশি গাড়ি নির্মাতা, যারা এই বিশেষ জাপানি গাড়ির শ্রেণিকে লক্ষ্য করে আলাদা নকশায় বৈদ্যুতিক গাড়ি তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে।

দামে প্রতিযোগিতা, সুবিধায় বাড়তি আকর্ষণ
র্যাকোর প্রাথমিক মডেলের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ২১ লাখ ৪৫ হাজার ইয়েন, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় আনুমানিক ১০ লাখ টাকার কাছাকাছি। এই দাম থেকে বোঝা যায়, জাপানের ছোট গাড়ির বাজারে নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে বিওয়াইডি বেশ গুরুত্ব দিয়ে এগোচ্ছে।
জাপানের জনপ্রিয় নিসান সাকুরা ছোট বৈদ্যুতিক গাড়ির দাম তালিকাভুক্ত হিসাবে কিছুটা বেশি হলেও সরকারি ভর্তুকি হিসাব করলে সেটি র্যাকোর তুলনায় সামান্য সাশ্রয়ী হয়ে যায়। তবে র্যাকোতে তুলনামূলক বেশি সুবিধা রয়েছে এবং পুরো চার্জে এর চলার সক্ষমতাও সাকুরার চেয়ে বেশি।
ফলে একই ধরনের দামের মধ্যে গ্রাহকদের কাছে বেশি সুবিধা ও বেশি দূরত্ব চলার সুযোগ দেওয়াই জাপানের বাজারে বিওয়াইডির নতুন কৌশলের মূল শক্তি হয়ে উঠতে পারে।
জাপানের বাজারে বড় পরীক্ষা
জাপানের গাড়ির বাজারে ছোট গাড়ির জনপ্রিয়তা কয়েক দশকের পুরোনো। শহরের সরু রাস্তা, পার্কিংয়ের সীমাবদ্ধতা এবং কম পরিচালন ব্যয়ের কারণে ছোট গাড়ি দেশটির মানুষের কাছে বিশেষভাবে জনপ্রিয়।
এ কারণে বিওয়াইডির জন্য র্যাকো শুধু আরেকটি বৈদ্যুতিক গাড়ি নয়; এটি জাপানের নিজস্ব গাড়ি সংস্কৃতি ও ভোক্তা পছন্দের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার একটি বড় পরীক্ষা।
বহু বছর ধরে জাপানের বাজারে প্রবেশের চেষ্টা করেও উল্লেখযোগ্য সাফল্য না পাওয়া বিওয়াইডি এবার ছোট গাড়িকে হাতিয়ার করে সেই বাধা ভাঙতে চাইছে। র্যাকো যদি জাপানি ক্রেতাদের মন জয় করতে পারে, তাহলে বিশ্বের অন্যতম কঠিন গাড়ির বাজারে চীনা নির্মাতাটির জন্য নতুন দরজা খুলে যেতে পারে।
জাপানের ছোট বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারে বিওয়াইডির এই নতুন পদক্ষেপ তাই শুধু একটি নতুন মডেল বাজারজাত করার ঘটনা নয়; বরং দীর্ঘদিনের প্রতিযোগিতাপূর্ণ বাজারে নিজেদের জায়গা করে নেওয়ার একটি কৌশলগত অভিযান।
বিওয়াইডির র্যাকো, জাপানের ছোট বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজার, জাপানের গাড়ির বাজারে চীনা প্রতিষ্ঠানের প্রবেশ এবং কম দামে বেশি সুবিধা—এই চারটি বিষয়ই এখন নতুন করে আলোচনায় আসছে।
জাপানের ছোট গাড়ির বাজারে বিওয়াইডির নতুন র্যাকো মডেল বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। কমপ্যাক্ট নকশা, প্রতিযোগিতামূলক দাম ও বেশি চলার সক্ষমতা দিয়ে জাপানি ক্রেতাদের মন জয় করতে চায় প্রতিষ্ঠানটি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















