চীনে কফি শপ ও কেএফসি শাখার বিস্তার বিশ্বে শীর্ষে হলেও চকলেটের বাজার এতদিন ছিল তুলনামূলকভাবে ছোট। দেশটির একজন মানুষ বছরে গড়ে মাত্র ১০০ গ্রাম চকলেট খান। ফ্রান্সের একজন মানুষের বার্ষিক চকলেট খাওয়ার পরিমাণের তুলনায় যা মাত্র একশ ভাগের এক ভাগ। তবে স্থানীয় চকলেট প্রস্তুতকারকদের উত্থানে সেই চিত্র বদলাতে শুরু করেছে।
চীনা চকলেট বাজারে নতুন উত্থান
চীনে দীর্ঘদিন ধরে চকলেটের বাজারের প্রায় ৮০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করেছে মার্স, ফেরেরো, নেসলে ও হার্শির মতো কয়েকটি বহুজাতিক ব্র্যান্ড। বিশ্বজুড়ে যত চকলেট খাওয়া হয়, তার মাত্র ২ শতাংশ চীনা ভোক্তাদের স্বাদে পৌঁছায়।
এখন দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে গড়ে উঠছে একাধিক স্থানীয় চকলেট প্রতিষ্ঠান। বেশির ভাগই ছোট ও কারুশিল্পভিত্তিক দোকান হলেও কিছু কোম্পানি বড় পরিসরে সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তুলছে এবং দ্রুত ব্যবসা সম্প্রসারণ করছে।
সাংহাইভিত্তিক চকলেট প্রতিষ্ঠান চক রিভাইভ এর অন্যতম উদাহরণ। তাজা কৃষিপণ্য ব্যবসায়ী শিয়ে লিয়াং ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলেন। বর্তমানে কোম্পানিটির প্রায় ৮০টি বিক্রয়কেন্দ্র রয়েছে। চলতি বছরের শেষ নাগাদ তা ৩০০-তে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা জানান, গত বছর চক রিভাইভের বিক্রি ছিল ১৬ কোটি ইউয়ান, যা প্রায় ২ কোটি ৩৭ লাখ মার্কিন ডলারের সমান। চলতি বছরে তিনি সেই বিক্রি অন্তত চার গুণ করার আশা করছেন।
চকলেটে স্থানীয় স্বাদের সংযোজন
চক রিভাইভ চকলেটকে চীনা বাজারের উপযোগী করে তুলতে নিজস্ব সরবরাহব্যবস্থা তৈরি করছে। আফ্রিকা থেকে নিজেদের পছন্দের কোকো বিন সংগ্রহের পাশাপাশি চীনে গবেষণা ও উন্নয়ন ইউনিট স্থাপন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। বিন ভাজা ও গুঁড়া করার কাজও তারা নিজেরাই করছে।
বড় বিনিয়োগের মাধ্যমে উৎপাদন বাড়িয়ে খরচ কমানোর পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি চকলেট তৈরির নিজস্ব দক্ষতা অর্জন করছে। এর ফলে ভবিষ্যতে চীনে আরও স্থানীয় প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠান তৈরি হওয়ার সুযোগও তৈরি হতে পারে।
চীনের আরেক স্থানীয় ব্র্যান্ড নিবো ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পুরস্কার পেয়েছে। দক্ষিণ-পশ্চিম চীনে কফি চাষ দিয়ে যাত্রা শুরু করা স্যাটার্নবার্ডও এখন নিজস্ব কোকো গাছ লাগাচ্ছে।
দাম বেশি হলেও কেন বাড়ছে চাহিদা
চীনের ভোক্তারা যখন ব্যয়ের ক্ষেত্রে সতর্ক, তখন প্রিমিয়াম চকলেটের জন্য তুলনামূলক বেশি দাম নেওয়া কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ। চক রিভাইভের ১০০ গ্রামের একটি চকলেটের দাম ৫৮ ইউয়ান, যা দুইজনের একটি সস্তা খাবারের সমান।
তবু স্থানীয় স্বাদের চকলেট ভোক্তাদের আকৃষ্ট করছে। চক রিভাইভ চীনা ফল লংগানের মতো উপাদান ব্যবহার করছে। লিচুর মতো দেখতে এই ফলের স্বাদ চকলেটে যোগ করার বিষয়টি ভালোভাবে গ্রহণ করছেন ক্রেতারা বলে মনে করছেন প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা।
চীনে দুধ-চা ব্র্যান্ডগুলোর মতো কম দামে বাজার দখলের প্রবণতা যেখানে শক্তিশালী, সেখানে স্থানীয় স্বাদ, নতুনত্ব ও চকলেটের প্রতি ধীরে ধীরে তৈরি হওয়া আগ্রহ বাজারের চিত্র পাল্টাতে পারে। দীর্ঘদিনের অনাগ্রহ কাটিয়ে চীনা ভোক্তারা হয়তো এবার সত্যিই চকলেটের স্বাদে অভ্যস্ত হয়ে উঠছেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















