১২:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬
লিবিয়া–মিসরের জ্বালানি, অবকাঠামো ও নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদারের আলোচনা সেজানের নতুন যুগের শরৎ সংগ্রহে বদলে যাচ্ছে ফরাসি ফ্যাশনের পরিচিত চেহারা ২০০০-এর দশকের পুরোনো ফ্যাশনে আবার ফিরলেন রিহানা চীনের নতুন বৈজ্ঞানিক সাফল্য, গাছের রোগ প্রতিরোধে তৈরি হলো কৃত্রিম রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা চীনের বৈঠকের আগে ‘আমেরিকা প্রথম’ নীতিতে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় বাণিজ্যে যুক্তরাষ্ট্র চীনা সাম্রাজ্যের ইতিহাস নিয়ে মার্কিন গবেষকদের বিরুদ্ধে বেইজিংয়ের ক্ষোভ মার্কিন এআই সরবরাহব্যবস্থা সুরক্ষার উদ্যোগ ব্যর্থ হবে: চীনা শিক্ষাবিদ চীনা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় ভরসা বাড়ছে আফ্রিকার ব্যবসায়, পাশে রাখছে পশ্চিমাকেও চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে বরফ খুঁজতে চীনের চাং’এ-৭ অভিযান স্থগিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের স্বীকৃতির অপেক্ষায় থাকবেন না, ভালো বাবা-মা হওয়ার প্রমাণ দিতে গিয়ে সম্পর্ক নষ্ট হতে পারে

ইসরায়েলের সঙ্গে নিরাপত্তা আলোচনা দ্রুত শুরুর আশা সিরিয়ার

ইসরায়েলের সঙ্গে নিরাপত্তা চুক্তি নিয়ে স্থগিত হয়ে থাকা আলোচনা শিগগিরই আবার শুরু হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছে সিরিয়া। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল-শাইবানি বলেছেন, ইসরায়েলের সঙ্গে আস্থার সংকট থাকলেও কূটনীতির দরজা এখনো খোলা রয়েছে। তিনি ইসরায়েলকে এই মুহূর্তকে একটি ‘ঐতিহাসিক সুযোগ’ হিসেবে কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

দামেস্কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শাইবানি বলেন, সিরিয়ার প্রধান অগ্রাধিকার হলো ইসরায়েলের হামলা বন্ধ করা। এ জন্য নিরাপত্তা চুক্তিতে পৌঁছানোর আগে আস্থা তৈরির কিছু পদক্ষেপ প্রয়োজন।

ইরান যুদ্ধের পর আলোচনা স্থগিত

ইসরায়েল ও সিরিয়ার মধ্যে নিরাপত্তা চুক্তির বিষয়ে আলোচনা ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে স্থগিত রয়েছে। তবে শাইবানি মনে করছেন, শিগগিরই দুই পক্ষ আবার আলোচনার টেবিলে ফিরতে পারে।

সাম্প্রতিক সময়ে সিরিয়ার একটি বিমানঘাঁটিতে ইসরায়েল হামলা চালানোর পর দুই দেশের যোগাযোগও বন্ধ হয়ে যায়। শাইবানি বলেন, সিরিয়ার নিরাপত্তার জন্য যারা নিয়মিত হুমকি তৈরি করছে, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ থাকা প্রয়োজন। তবে সেই যোগাযোগে কোনো ফল না এলে তার প্রয়োজনও নেই।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বর্তমানে ইসরায়েলের ওপর সিরিয়ার কোনো আস্থা নেই।

Syria foreign minister sees Israel security talks resuming despite no trust  | Arab News

গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়ার নতুন সরকারের সঙ্গে ইসরায়েলের একটি নিরাপত্তা চুক্তি করানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু সিরিয়ার ভূখণ্ডে ইসরায়েলি সেনাদের অবস্থান এবং সিরীয় সরকারি স্থাপনায় হামলার কারণে সেই উদ্যোগ বারবার জটিল হয়ে পড়েছে।

চুক্তির খসড়ায় প্রায় সব বিষয়ে ঐকমত্য

শাইবানি জানান, চলতি বছরের শুরুর দিকে নিরাপত্তা চুক্তির বেশির ভাগ বিষয় নিয়ে দুই পক্ষ কাগজে-কলমে প্রায় একমত হয়েছিল। প্রস্তাবিত চুক্তিতে ইসরায়েলকে সিরিয়ায় হামলা বন্ধ করতে হবে এবং প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দখল করা কিছু এলাকা থেকে ইসরায়েলি বাহিনীকে সরিয়ে নিতে হবে।

চুক্তির অংশ হিসেবে ইসরায়েল-সিরিয়া সীমান্তের কাছে সিরিয়ার ভূখণ্ডে কয়েকটি নিরাপত্তা অঞ্চল তৈরির পরিকল্পনা ছিল। এর মধ্যে একটি এলাকায় শুধু জাতিসংঘের উপস্থিতি থাকার কথা ছিল। অন্য অঞ্চলগুলোতে পরিস্থিতি অনুযায়ী সিরীয় বাহিনীকে সীমিত বা নির্দিষ্ট মাত্রায় মোতায়েন করা হতে পারে।

তবে শাইবানি অভিযোগ করেন, চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ইসরায়েলের প্রকৃত আগ্রহ দেখা যায়নি।

গোলান মালভূমি নিয়ে বড় প্রশ্ন

সিরিয়া ও ইসরায়েল ১৯৪৮ সাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধাবস্থায় রয়েছে। ১৯৬৭ সালের যুদ্ধে ইসরায়েল সিরিয়ার কাছ থেকে গোলান মালভূমি দখল করে নেয়।

শাইবানির মতে, এখন প্রথম কাজ হলো কোনো নিরাপত্তা চুক্তির আগেই ইসরায়েলের হামলা বন্ধ করা। এরপর শান্তি এবং গোলান মালভূমির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করা সম্ভব হবে।

Syria expects security talks with Israel to resume soon, minister says | |  AW

যুক্তরাষ্ট্রের সিরিয়া বিষয়ক বিশেষ দূত টম ব্যারাক জানিয়েছেন, ইসরায়েল, তুরস্ক ও সিরিয়ার মধ্যে সংঘাত ঠেকাতে একটি ব্যবস্থা তৈরির জন্য ওয়াশিংটন কাজ করছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি বলে জানিয়েছেন শাইবানি।

তার ভাষায়, এই ব্যবস্থার লক্ষ্য হওয়া উচিত হামলা বন্ধ করা এবং নিরাপত্তা চুক্তির পথ তৈরি করা; ইসরায়েলের দখলদারত্বকে আরও স্থায়ী করা নয়।

তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে দামেস্ক

সিরিয়ার একটি বিমানঘাঁটিতে ইসরায়েল হামলা চালিয়ে দাবি করেছিল, সেখানে তুরস্কের বাহিনী মোতায়েনের প্রস্তুতি চলছে। সিরিয়া ও তুরস্ক উভয়েই এই দাবি অস্বীকার করেছে।

শাইবানি বলেন, সিরিয়া ইসরায়েলের নিরাপত্তা উদ্বেগকে সম্মান করে। একইভাবে ইসরায়েলকেও সিরিয়ার নিরাপত্তা উদ্বেগকে সম্মান করতে হবে। সিরিয়ার আকাশসীমা ব্যবহার, দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি অভিযান ও গ্রেপ্তার নিয়েও দামেস্কের উদ্বেগ রয়েছে।

তিনি জানান, সামরিক প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতার ক্ষেত্রে তুরস্ক সিরিয়াকে সহায়তা করছে। একই ধরনের সহযোগিতা জর্ডান, সৌদি আরবসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গেও রয়েছে। সিরিয়ার সামরিক বাহিনী পুনর্গঠনে তুরস্কের সহায়তার জন্য দামেস্ক কৃতজ্ঞ এবং ভবিষ্যতেও এই সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।

শাইবানি বলেন, সিরিয়া প্রতিবেশীদের সঙ্গে স্থিতিশীল সম্পর্ক গড়তে আগ্রহী এবং শান্তি, সমঝোতা ও কূটনীতির জন্য তার দেশ এখনো হাত বাড়িয়ে রেখেছে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

লিবিয়া–মিসরের জ্বালানি, অবকাঠামো ও নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদারের আলোচনা

ইসরায়েলের সঙ্গে নিরাপত্তা আলোচনা দ্রুত শুরুর আশা সিরিয়ার

১০:৪৯:৩৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

ইসরায়েলের সঙ্গে নিরাপত্তা চুক্তি নিয়ে স্থগিত হয়ে থাকা আলোচনা শিগগিরই আবার শুরু হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছে সিরিয়া। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল-শাইবানি বলেছেন, ইসরায়েলের সঙ্গে আস্থার সংকট থাকলেও কূটনীতির দরজা এখনো খোলা রয়েছে। তিনি ইসরায়েলকে এই মুহূর্তকে একটি ‘ঐতিহাসিক সুযোগ’ হিসেবে কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

দামেস্কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শাইবানি বলেন, সিরিয়ার প্রধান অগ্রাধিকার হলো ইসরায়েলের হামলা বন্ধ করা। এ জন্য নিরাপত্তা চুক্তিতে পৌঁছানোর আগে আস্থা তৈরির কিছু পদক্ষেপ প্রয়োজন।

ইরান যুদ্ধের পর আলোচনা স্থগিত

ইসরায়েল ও সিরিয়ার মধ্যে নিরাপত্তা চুক্তির বিষয়ে আলোচনা ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে স্থগিত রয়েছে। তবে শাইবানি মনে করছেন, শিগগিরই দুই পক্ষ আবার আলোচনার টেবিলে ফিরতে পারে।

সাম্প্রতিক সময়ে সিরিয়ার একটি বিমানঘাঁটিতে ইসরায়েল হামলা চালানোর পর দুই দেশের যোগাযোগও বন্ধ হয়ে যায়। শাইবানি বলেন, সিরিয়ার নিরাপত্তার জন্য যারা নিয়মিত হুমকি তৈরি করছে, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ থাকা প্রয়োজন। তবে সেই যোগাযোগে কোনো ফল না এলে তার প্রয়োজনও নেই।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বর্তমানে ইসরায়েলের ওপর সিরিয়ার কোনো আস্থা নেই।

Syria foreign minister sees Israel security talks resuming despite no trust  | Arab News

গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়ার নতুন সরকারের সঙ্গে ইসরায়েলের একটি নিরাপত্তা চুক্তি করানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু সিরিয়ার ভূখণ্ডে ইসরায়েলি সেনাদের অবস্থান এবং সিরীয় সরকারি স্থাপনায় হামলার কারণে সেই উদ্যোগ বারবার জটিল হয়ে পড়েছে।

চুক্তির খসড়ায় প্রায় সব বিষয়ে ঐকমত্য

শাইবানি জানান, চলতি বছরের শুরুর দিকে নিরাপত্তা চুক্তির বেশির ভাগ বিষয় নিয়ে দুই পক্ষ কাগজে-কলমে প্রায় একমত হয়েছিল। প্রস্তাবিত চুক্তিতে ইসরায়েলকে সিরিয়ায় হামলা বন্ধ করতে হবে এবং প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দখল করা কিছু এলাকা থেকে ইসরায়েলি বাহিনীকে সরিয়ে নিতে হবে।

চুক্তির অংশ হিসেবে ইসরায়েল-সিরিয়া সীমান্তের কাছে সিরিয়ার ভূখণ্ডে কয়েকটি নিরাপত্তা অঞ্চল তৈরির পরিকল্পনা ছিল। এর মধ্যে একটি এলাকায় শুধু জাতিসংঘের উপস্থিতি থাকার কথা ছিল। অন্য অঞ্চলগুলোতে পরিস্থিতি অনুযায়ী সিরীয় বাহিনীকে সীমিত বা নির্দিষ্ট মাত্রায় মোতায়েন করা হতে পারে।

তবে শাইবানি অভিযোগ করেন, চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ইসরায়েলের প্রকৃত আগ্রহ দেখা যায়নি।

গোলান মালভূমি নিয়ে বড় প্রশ্ন

সিরিয়া ও ইসরায়েল ১৯৪৮ সাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধাবস্থায় রয়েছে। ১৯৬৭ সালের যুদ্ধে ইসরায়েল সিরিয়ার কাছ থেকে গোলান মালভূমি দখল করে নেয়।

শাইবানির মতে, এখন প্রথম কাজ হলো কোনো নিরাপত্তা চুক্তির আগেই ইসরায়েলের হামলা বন্ধ করা। এরপর শান্তি এবং গোলান মালভূমির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করা সম্ভব হবে।

Syria expects security talks with Israel to resume soon, minister says | |  AW

যুক্তরাষ্ট্রের সিরিয়া বিষয়ক বিশেষ দূত টম ব্যারাক জানিয়েছেন, ইসরায়েল, তুরস্ক ও সিরিয়ার মধ্যে সংঘাত ঠেকাতে একটি ব্যবস্থা তৈরির জন্য ওয়াশিংটন কাজ করছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি বলে জানিয়েছেন শাইবানি।

তার ভাষায়, এই ব্যবস্থার লক্ষ্য হওয়া উচিত হামলা বন্ধ করা এবং নিরাপত্তা চুক্তির পথ তৈরি করা; ইসরায়েলের দখলদারত্বকে আরও স্থায়ী করা নয়।

তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে দামেস্ক

সিরিয়ার একটি বিমানঘাঁটিতে ইসরায়েল হামলা চালিয়ে দাবি করেছিল, সেখানে তুরস্কের বাহিনী মোতায়েনের প্রস্তুতি চলছে। সিরিয়া ও তুরস্ক উভয়েই এই দাবি অস্বীকার করেছে।

শাইবানি বলেন, সিরিয়া ইসরায়েলের নিরাপত্তা উদ্বেগকে সম্মান করে। একইভাবে ইসরায়েলকেও সিরিয়ার নিরাপত্তা উদ্বেগকে সম্মান করতে হবে। সিরিয়ার আকাশসীমা ব্যবহার, দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি অভিযান ও গ্রেপ্তার নিয়েও দামেস্কের উদ্বেগ রয়েছে।

তিনি জানান, সামরিক প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতার ক্ষেত্রে তুরস্ক সিরিয়াকে সহায়তা করছে। একই ধরনের সহযোগিতা জর্ডান, সৌদি আরবসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গেও রয়েছে। সিরিয়ার সামরিক বাহিনী পুনর্গঠনে তুরস্কের সহায়তার জন্য দামেস্ক কৃতজ্ঞ এবং ভবিষ্যতেও এই সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।

শাইবানি বলেন, সিরিয়া প্রতিবেশীদের সঙ্গে স্থিতিশীল সম্পর্ক গড়তে আগ্রহী এবং শান্তি, সমঝোতা ও কূটনীতির জন্য তার দেশ এখনো হাত বাড়িয়ে রেখেছে।