ফরাসি ফ্যাশন ব্র্যান্ড সেজান ১৩ বছরের পথচলার পর এবার প্রবেশ করছে নতুন এক অধ্যায়ে। প্রতিষ্ঠাতা মর্গান সেজালোরির ব্যক্তিগত রুচি ও পোশাকের ভাবনা থেকেই গড়ে ওঠা এই ব্র্যান্ডের শরৎ সংগ্রহে এবার দেখা যাচ্ছে আরও পরিণত, শক্তিশালী ও আত্মবিশ্বাসী নকশা।
স্বতঃস্ফূর্ত যাত্রা থেকেই বিশ্বজয়
সেজান প্রতিষ্ঠার শুরুতে মর্গান সেজালোরির লক্ষ্য ছিল প্রচলিত অর্থে কোনো বড় ব্র্যান্ড তৈরি করা নয়। পুরোনো পোশাক ও পছন্দের নকশা নিয়ে কাজ করতে করতেই তাঁর সৃজনশীল উদ্যোগ ধীরে ধীরে পোশাক তৈরির দিকে এগিয়ে যায়। সেখান থেকেই জন্ম নেয় সেজানের স্বতন্ত্র নান্দনিকতা।
সেজালোরির ভাষায়, তিনি মূলত নিজের জন্য অর্থবহ একটি কাজের পথ তৈরি করতে চেয়েছিলেন। কোনো সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নয়, বরং স্বতঃস্ফূর্তভাবেই গড়ে উঠেছে তাঁর প্রতিষ্ঠান। শেষ পর্যন্ত সেই উদ্যোগই পরিণত হয়েছে বিশ্বজুড়ে পরিচিত একটি সফল ফ্যাশন ব্র্যান্ডে।
১৩ বছর পর নতুন ভাবনা

ব্র্যান্ডটি বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেজালোরির নিজের মধ্যেও এসেছে পরিবর্তন। তাই গত কিছু সময় তিনি ভেবেছেন, প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে নয়, একজন সাধারণ ক্রেতা হিসেবে দেখলে সেজানকে তাঁর নিজের কাছেই কতটা আকর্ষণীয় মনে হবে।
এই আত্মবিশ্লেষণ থেকেই এসেছে নতুন দিকের ভাবনা। পোশাকের মূল চরিত্র ধরে রেখেই ব্র্যান্ডটির চেহারা আরও পরিণত ও ব্যক্তিত্বপূর্ণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন প্রতীকচিহ্ন, প্রচারণার নতুন দৃশ্যভাষা এবং শরৎ সংগ্রহে তার প্রতিফলন স্পষ্ট।
পোশাকে শক্তি ও আত্মবিশ্বাস
নতুন সংগ্রহের প্রচারণায় মডেল ইমান হামামকে দেখা গেছে। পোশাকগুলোর নকশায় এবার আকার ও গঠনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
চওড়া কাঁধ, নাটকীয় উঁচু গলার কলার এবং কৃত্রিম পশম, উল ও চামড়ার তৈরি ছোট জ্যাকেট নতুন ধারার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। ট্রেঞ্চ কোটেও একই ধরনের দৃঢ় গঠন দেখা যাচ্ছে।
পোশাকের পাশাপাশি কাপড়ের স্পর্শ ও বুননেও এসেছে বৈচিত্র্য। বিভিন্ন ধরনের পৃষ্ঠ ও উপকরণের সমন্বয়ে তৈরি হয়েছে এমন নকশা, যা দৈনন্দিন পোশাককে আরও আবেগপূর্ণ ও আকর্ষণীয় করে তুলতে চায়।
বড় আকারের ঢিলেঢালা হাতব্যাগটিও সংগ্রহের উল্লেখযোগ্য অংশ। সেজানের বহুল জনপ্রিয় ঝুড়ি-ধাঁচের হাতব্যাগের মতো এটিও ক্রেতাদের মধ্যে বিশেষ জনপ্রিয়তা পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পুরোনো দিনের প্রতি নতুন শ্রদ্ধা
সেজানের শিকড় যেহেতু পুরোনো ও ব্যবহৃত পোশাকের জগতে, তাই সেই ঐতিহ্যকেও নতুনভাবে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে চালু হবে পুরোনো পোশাকভিত্তিক একটি পৃথক উদ্যোগ, যার নাম রাখা হয়েছে ‘লে কম্পোজঁত’।
প্রতি মাসের ২১ তারিখে সেখানে একেকটি বিশেষ ও একক নকশার পোশাক বিক্রির জন্য আনা হবে। প্রতিষ্ঠাতা মর্গান সেজালোরি নিজে অথবা আমন্ত্রিত কোনো অতিথি এসব পোশাক নির্বাচন করবেন। এই উদ্যোগ থেকে বিশ্বব্যাপী নিট বিক্রির ১০ শতাংশ ব্র্যান্ডটির সামাজিক কল্যাণমূলক কর্মসূচিতে দেওয়া হবে।
সেপ্টেম্বর থেকেই নতুন উদ্যোগটির পোশাক কেনার সুযোগ মিলবে। সব মিলিয়ে সেজানের নতুন যুগ যেন পুরোনো শিকড়কে ধরে রেখেই আরও পরিণত, সাহসী ও আত্মবিশ্বাসী এক ফ্যাশন পরিচয়ের দিকে এগিয়ে যাওয়ার গল্প।
সেজানের নতুন শরৎ সংগ্রহে পুরোনো ঐতিহ্য ও আধুনিক আত্মবিশ্বাসের মেলবন্ধনে ফরাসি ফ্যাশনে শুরু হচ্ছে নতুন অধ্যায়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















