০৪:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬
প্রতিদিন গড়ে খুন হচ্ছে ১০ জন, সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ড কেন নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না? ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং বা অন্তর্বর্তী উপবাসের উপকারিতা কি অতিরঞ্জিত? রাশিয়া-যুক্তরাজ্য কি যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে? কূটনীতি সরে গেলে যে বিপদ বাড়ে বাংলাদেশে আবারও বাড়ল সোনার দাম, ভরিতে নতুন দর ২ লাখ ৪৭ হাজার ৭৪৩ টাকা ব্যক্তিগত আমানতকারীদের টাকা তোলার সীমা তুলে দিচ্ছে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক যুক্তরাষ্ট্রের ‘অর্থনৈতিক সর্বাত্মক চাপ’ ইরানের বিরুদ্ধে, মিত্র দেশগুলোকেও নিষেধাজ্ঞার হুমকি চালক থেকে রোবোট্যাক্সি কর্মী, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নতুন কর্মজীবনের চিত্র কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উত্থানেই কি আরও গভীর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক ঘাটতি? ইরানের সঙ্গে ব্যবসা বন্ধে দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের হুঁশিয়ারি, আপাতত নিষেধাজ্ঞা নয় দীর্ঘমেয়াদি ইয়েনের দুর্বলতায় নতুন কৌশল খুঁজছে জাপানের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো

আশ্রয়প্রার্থীদের ভিসা বাতিলের পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়ের আবেদন করেছেন বা বর্তমানে আশ্রয়প্রার্থী—এমন বিদেশিদের অ-অভিবাসী ভিসা বাতিলের পরিকল্পনা করেছে। অভিবাসনবিরোধী কঠোর পদক্ষেপের ধারাবাহিকতায় নতুন এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে এমন বিদেশিদের শনাক্ত করা হচ্ছে, যারা স্বল্পমেয়াদি ভ্রমণের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের কথা বলে পরে স্থায়ীভাবে থাকার জন্য আশ্রয়ের আবেদন করেছেন। তবে কতসংখ্যক ভিসা বাতিল করা হবে, সে বিষয়ে পররাষ্ট্র দপ্তর কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা জানায়নি।

দুই লাখ পর্যন্ত ভিসা বাতিলের আশঙ্কা

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্যবসা ও পর্যটনের জন্য দেওয়া প্রায় দুই লাখ ভিসা বাতিল হতে পারে। এমনটি হলে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে একসঙ্গে সবচেয়ে বেশি ভিসা বাতিলের ঘটনা হতে পারে এটি।

২০১৬ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে দেওয়া ব্যবসা ও পর্যটন ভিসার মধ্যে যেসব ভিসাধারী আশ্রয়ের আবেদন করেছেন বা বর্তমানে আশ্রয় চাইছেন, তাদের ভিসা বাতিলের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব ভিসা মূলত ব্যবসায়িক সফর ও পর্যটনের জন্য দেওয়া হয়।

Trump administration to revoke up to 200,000 visas of asylum seekers

তবে ভিসা বাতিল হলেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তাৎক্ষণিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হবে—এমন নয়। বর্তমানে যাদের আশ্রয় আবেদন বিচারাধীন, তাদের অবস্থার ধরন পরিবর্তন করা হতে পারে। তবে তারা আর ব্যবসা বা পর্যটন ভ্রমণকারী হিসেবে আগের মর্যাদা ধরে রাখতে পারবেন না।

আশ্রয়ব্যবস্থার অপব্যবহারের অভিযোগ

মার্কিন উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টোফার ল্যান্ডাও অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসনব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে ভিত্তিহীন আশ্রয়ের আবেদনে চাপের মুখে রয়েছে।

পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের সময়ে এরই মধ্যে এক লাখ ৭৫ হাজারের বেশি বিদেশি নাগরিকের ভিসা বাতিল করা হয়েছে। নতুন উদ্যোগ সেই কঠোর অভিবাসন নীতিকে আরও বিস্তৃত করতে পারে।

কঠোর হচ্ছে বৈধ অভিবাসনও

Trump administration plans to revoke visas of foreigners seeking asylum |  Reuters

ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতিতে শুধু অবৈধ অভিবাসন ঠেকানো নয়, বৈধ অভিবাসনের পথও কঠিন হয়ে উঠেছে। নির্দিষ্ট ধরনের কর্মসংস্থানভিত্তিক ভিসার আবেদনকারীদের জন্য নতুন ও ব্যয়বহুল ফি আরোপ করা হয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, এসব পদক্ষেপের লক্ষ্য দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার করা। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, কঠোর অভিবাসন অভিযান মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচারের অধিকারকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। বিশেষ করে বিভিন্ন জাতিগত সংখ্যালঘু গোষ্ঠী বর্ণভিত্তিক হয়রানি ও বৈষম্যের আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।

ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী নীতির বিভিন্ন অংশ এরই মধ্যে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

মার্কিন আশ্রয়নীতি, ভিসা বাতিল এবং ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন পদক্ষেপ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রতিদিন গড়ে খুন হচ্ছে ১০ জন, সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ড কেন নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না?

আশ্রয়প্রার্থীদের ভিসা বাতিলের পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনের

০২:৫৮:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়ের আবেদন করেছেন বা বর্তমানে আশ্রয়প্রার্থী—এমন বিদেশিদের অ-অভিবাসী ভিসা বাতিলের পরিকল্পনা করেছে। অভিবাসনবিরোধী কঠোর পদক্ষেপের ধারাবাহিকতায় নতুন এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে এমন বিদেশিদের শনাক্ত করা হচ্ছে, যারা স্বল্পমেয়াদি ভ্রমণের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের কথা বলে পরে স্থায়ীভাবে থাকার জন্য আশ্রয়ের আবেদন করেছেন। তবে কতসংখ্যক ভিসা বাতিল করা হবে, সে বিষয়ে পররাষ্ট্র দপ্তর কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা জানায়নি।

দুই লাখ পর্যন্ত ভিসা বাতিলের আশঙ্কা

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্যবসা ও পর্যটনের জন্য দেওয়া প্রায় দুই লাখ ভিসা বাতিল হতে পারে। এমনটি হলে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে একসঙ্গে সবচেয়ে বেশি ভিসা বাতিলের ঘটনা হতে পারে এটি।

২০১৬ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে দেওয়া ব্যবসা ও পর্যটন ভিসার মধ্যে যেসব ভিসাধারী আশ্রয়ের আবেদন করেছেন বা বর্তমানে আশ্রয় চাইছেন, তাদের ভিসা বাতিলের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব ভিসা মূলত ব্যবসায়িক সফর ও পর্যটনের জন্য দেওয়া হয়।

Trump administration to revoke up to 200,000 visas of asylum seekers

তবে ভিসা বাতিল হলেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তাৎক্ষণিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হবে—এমন নয়। বর্তমানে যাদের আশ্রয় আবেদন বিচারাধীন, তাদের অবস্থার ধরন পরিবর্তন করা হতে পারে। তবে তারা আর ব্যবসা বা পর্যটন ভ্রমণকারী হিসেবে আগের মর্যাদা ধরে রাখতে পারবেন না।

আশ্রয়ব্যবস্থার অপব্যবহারের অভিযোগ

মার্কিন উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টোফার ল্যান্ডাও অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসনব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে ভিত্তিহীন আশ্রয়ের আবেদনে চাপের মুখে রয়েছে।

পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের সময়ে এরই মধ্যে এক লাখ ৭৫ হাজারের বেশি বিদেশি নাগরিকের ভিসা বাতিল করা হয়েছে। নতুন উদ্যোগ সেই কঠোর অভিবাসন নীতিকে আরও বিস্তৃত করতে পারে।

কঠোর হচ্ছে বৈধ অভিবাসনও

Trump administration plans to revoke visas of foreigners seeking asylum |  Reuters

ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতিতে শুধু অবৈধ অভিবাসন ঠেকানো নয়, বৈধ অভিবাসনের পথও কঠিন হয়ে উঠেছে। নির্দিষ্ট ধরনের কর্মসংস্থানভিত্তিক ভিসার আবেদনকারীদের জন্য নতুন ও ব্যয়বহুল ফি আরোপ করা হয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, এসব পদক্ষেপের লক্ষ্য দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার করা। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, কঠোর অভিবাসন অভিযান মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচারের অধিকারকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। বিশেষ করে বিভিন্ন জাতিগত সংখ্যালঘু গোষ্ঠী বর্ণভিত্তিক হয়রানি ও বৈষম্যের আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।

ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী নীতির বিভিন্ন অংশ এরই মধ্যে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

মার্কিন আশ্রয়নীতি, ভিসা বাতিল এবং ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন পদক্ষেপ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।