রাশিয়া ও যুক্তরাজ্যের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনায় ভরা। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে সেই উত্তেজনা এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে দুই দেশের সরাসরি সংঘাতের আশঙ্কা আর কেবল কূটনৈতিক মহলের উদ্বেগ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। মস্কো লন্ডনে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত আন্দ্রেই কেলিনকে সরিয়ে নিয়েছে এবং তাঁর স্থলে তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে পাঠানোর উদ্যোগও নেয়নি। অন্যদিকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম ইউক্রেনকে আরও সক্রিয় সামরিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়ে চলেছেন।
তবে রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার মানেই রাশিয়া যুক্তরাজ্যের সঙ্গে যুদ্ধে যেতে প্রস্তুত—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোও ঠিক হবে না। বরং ঘটনাটি দুই দেশের সম্পর্কের গভীর অবনতির একটি রাজনৈতিক সংকেত। সমস্যা হলো, কূটনৈতিক সম্পর্ক যখন প্রায় ভেঙে পড়ার অবস্থায় যায়, তখন ভুল হিসাব, ভুল বার্তা কিংবা একটি অনাকাঙ্ক্ষিত সামরিক ঘটনা পরিস্থিতিকে দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে যেতে পারে।
রাশিয়া-যুক্তরাজ্য সম্পর্ক কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে
সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পরও মস্কো ও লন্ডনের সম্পর্ক কখনোই পুরোপুরি স্বাভাবিক ছিল না। গুপ্তচরবৃত্তি, কূটনীতিক বহিষ্কার এবং হত্যাচেষ্টার অভিযোগ ঘিরে দুই দেশের মধ্যে একাধিকবার বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক পরিস্থিতির বিশেষত্ব হলো, এসব পুরোনো বিরোধের সঙ্গে এখন সরাসরি ইউক্রেন যুদ্ধের সামরিক বাস্তবতা যুক্ত হয়েছে।
২০২২ সালে ইউক্রেন সংঘাত বড় আকার নেওয়ার পর থেকেই ব্রিটেনকে মস্কো সবচেয়ে কঠোর পশ্চিমা সমর্থকদের একটি হিসেবে দেখছে। সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের ভূমিকা, ইউক্রেনকে দূরপাল্লার স্টর্ম শ্যাডো ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ এবং রাশিয়ার ভূখণ্ডে হামলার সক্ষমতা বাড়াতে ব্রিটিশ অস্ত্র ও প্রযুক্তির ব্যবহার—সবকিছুই ক্রেমলিনের দৃষ্টিতে লন্ডনের ভূমিকা আরও সরাসরি করেছে।

এই প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার কূটনৈতিক সতর্কবার্তাগুলোও ক্রমে কঠোর হয়েছে। মস্কোর বক্তব্য হলো, ইউক্রেনকে অস্ত্র সরবরাহ করা আর ইউক্রেনের সামরিক অভিযানে সরাসরি সহায়তা করা এক বিষয় নয়। যখন কোনো দেশ এমন অস্ত্র, তথ্য বা প্রযুক্তি দেয়, যা রাশিয়ার ভূখণ্ডে হামলার সক্ষমতা তৈরি করে, তখন সেই দেশ সংঘাতের অংশীদার হয়ে ওঠার ঝুঁকি তৈরি করে।
লন্ডন অবশ্য সেই সতর্কবার্তায় নীতিগত পরিবর্তনের কোনো লক্ষণ দেখায়নি। বরং ব্রিটিশ সরকার ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন আরও জোরালো করেছে এবং ইউক্রেনের মাটিতে স্টর্ম শ্যাডো ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সক্ষমতা তৈরির জন্য গোপন তথ্য দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
এখানেই মূল দ্বন্দ্বটি। ব্রিটেন মনে করছে, ইউক্রেনকে শক্তিশালী করা রাশিয়াকে প্রতিরোধের উপায়। রাশিয়া মনে করছে, ব্রিটেনের এই সহায়তা সরাসরি তার বিরুদ্ধে সামরিক কর্মকাণ্ডের পরিধি বাড়াচ্ছে।
রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার কি যুদ্ধের পূর্বাভাস?
মস্কোর রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহারের ঘটনাটি নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ। কিন্তু ইতিহাস বলছে, কূটনৈতিক সংকট যতই তীব্র হোক, রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহারকে সরাসরি যুদ্ধের ঘোষণা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
অতীতে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ, কূটনীতিক বহিষ্কার কিংবা আলেকজান্ডার লিটভিনেঙ্কো ও সের্গেই স্ক্রিপালকে ঘিরে বিরোধের সময়ও রাশিয়া ও ব্রিটেনের সম্পর্ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তখন উভয় দেশ পরস্পরের কূটনীতিক বহিষ্কার করেছে, কনস্যুলার কার্যক্রমে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে এবং রাজনৈতিক যোগাযোগ সীমিত করেছে। কিন্তু রাশিয়া তার রাষ্ট্রদূতকে প্রত্যাহার করেনি।
তাই বর্তমান পদক্ষেপকে যুদ্ধের অবশ্যম্ভাবী সূচনা না ধরে কূটনৈতিক সম্পর্কের গভীর সংকটের প্রতীক হিসেবে দেখা বেশি যুক্তিযুক্ত। কেলিনের বিদায় সম্ভবত এই বার্তাই দিচ্ছে যে, দুই দেশের মধ্যে স্বাভাবিক যোগাযোগের অবশিষ্ট জায়গাটুকুও দ্রুত সংকুচিত হচ্ছে।
আর সেটিই সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয়।
যুদ্ধের সময়ে কূটনীতির গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি
যে দুটি দেশ পরস্পরের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক সংঘাতে যেতে পারে, তাদের মধ্যে যোগাযোগের চ্যানেল যত বেশি থাকে, ভুল বোঝাবুঝির ঝুঁকি তত কমে। সামরিক বাহিনীর মধ্যে যোগাযোগ, কূটনৈতিক বার্তা আদান-প্রদান কিংবা উচ্চপর্যায়ের অনানুষ্ঠানিক সংলাপ—এসব অনেক সময় রাজনৈতিক সমঝোতা তৈরি না করেও সংঘাত নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
রাশিয়া ও যুক্তরাজ্যের ক্ষেত্রে সেই নিরাপত্তাবলয় ক্রমেই দুর্বল হয়েছে।

ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে রাশিয়ার যোগাযোগের বড় অংশ ইতোমধ্যে ভেঙে গেছে। যুক্তরাজ্যও রুশ সামরিক নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগের পথ সংকুচিত করেছে। অথচ একই সময়ে ব্রিটিশ অস্ত্র ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষমতার অংশ হয়ে উঠছে।
এটি একটি বিপজ্জনক বৈপরীত্য। যে পক্ষ সংঘাতে সামরিক ভূমিকা বাড়াচ্ছে, তার সঙ্গে যার বিরুদ্ধে সেই সহায়তা যাচ্ছে, তার যোগাযোগের পথ যদি একই সঙ্গে বন্ধ হতে থাকে, তাহলে একটি ভুল সিদ্ধান্তের পরিণতি সামলানোর সুযোগও কমে যায়।
রাশিয়ার সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া কী?
ইউক্রেনে ব্রিটিশ সহায়তায় তৈরি বা সরবরাহ করা দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের সক্ষমতা ঠেকাতে রাশিয়ার সবচেয়ে সম্ভাব্য পথ হলো সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করা। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভও বলেছেন, রুশ বাহিনী এমন ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জামের উৎপাদনস্থল শনাক্ত করে সেগুলো ধ্বংসের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
অর্থাৎ মস্কোর প্রথম প্রতিক্রিয়া সরাসরি ব্রিটিশ ভূখণ্ডে হামলা নাও হতে পারে। বরং ইউক্রেনের ভেতরে অস্ত্র উৎপাদন, সরবরাহ ও সংরক্ষণের অবকাঠামোকে লক্ষ্য করা হতে পারে।
এখানে রাশিয়ার জন্য একটি সামরিক সুবিধাও রয়েছে। ইউক্রেনের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ঘাটতির কথা বলা হচ্ছে। প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত সীমিত এবং নতুন সরবরাহের সক্ষমতাও অনিশ্চিত। একই সময়ে রুশ বাহিনী ইউক্রেনের অস্ত্র কারখানা, বন্দর, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং অন্যান্য অবকাঠামোর ওপর হামলা অব্যাহত রেখেছে।
ফলে লন্ডন যত বেশি দূরপাল্লার অস্ত্র সরবরাহের দিকে এগোবে, মস্কোর পাল্টা সামরিক চাপও তত বেশি ইউক্রেনের ভেতরে কেন্দ্রীভূত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।
কিন্তু এই হিসাবের একটি বিপজ্জনক দিক রয়েছে। যদি ব্রিটিশ অস্ত্র দিয়ে রাশিয়ার ভূখণ্ডে এমন হামলা হয়, যাতে বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটে, তাহলে মস্কোর কাছে শুধু কূটনৈতিক প্রতিবাদ জানিয়ে থেমে থাকার রাজনৈতিক জায়গা আরও সংকুচিত হবে।
ব্রিটেনের হাতে আসলে কতটা বাড়তি পথ আছে?
লন্ডনের জন্য সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, ইউক্রেনকে আরও সহায়তা করার বাস্তব সীমা কোথায়।
রাজনৈতিক বক্তব্যে ব্রিটিশ সরকার ইউক্রেনের পাশে থাকার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি দিতে পারে। আরও অস্ত্রের ঘোষণা দিতে পারে। গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় বাড়াতে পারে। কিন্তু সরাসরি ব্রিটিশ সামরিক বাহিনীকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামানো সম্পূর্ণ ভিন্ন মাত্রার সিদ্ধান্ত।

এর কারণ শুধু রাশিয়ার সামরিক সক্ষমতা নয়; পারমাণবিক শক্তিধর রাশিয়ার সঙ্গে ন্যাটোর একটি সদস্য দেশের সরাসরি সংঘাত শুরু হলে সেটি দ্রুত বৃহত্তর যুদ্ধে রূপ নিতে পারে।
ব্রিটেনের নিজের সামরিক সক্ষমতাও সীমাহীন নয়। দীর্ঘ সময়ের প্রতিরক্ষা ব্যয় সংকোচনের কারণে ব্রিটিশ সামরিক বাহিনী জনবল, গোলাবারুদ ও আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতার নানা সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি। পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ দীর্ঘদিন চালানোর মতো মজুত নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
এই বাস্তবতা ব্রিটিশ সরকারের রাজনৈতিক বক্তব্য এবং সামরিক সক্ষমতার মধ্যে একটি ব্যবধান তৈরি করে। লন্ডন যতটা কঠোর অবস্থান নিতে চায়, বাস্তবে তার প্রতিটি পদক্ষেপের সামরিক মূল্যও তত বেশি।
সামরিক মহলেও সতর্কতার সুর
ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা মহলের সবাই যে আরও সংঘাত চান, তা নয়। বরং সাবেক ও বর্তমান কয়েকজন সামরিক কর্মকর্তা রাশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ পুনরুদ্ধারের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন।
সাবেক ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা প্রধান টনি রাডাকিন এবং তাঁর উত্তরসূরি রিচার্ড নাইটন রুশ সামরিক নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছেন বলে খবর এসেছে, বিশেষ করে নৌ-সংঘাতের ঝুঁকি কমানোর লক্ষ্যে। আরেক সাবেক প্রতিরক্ষা প্রধান ডেভিড রিচার্ডসও দীর্ঘদিন ধরে আলোচনার প্রয়োজনীয়তার কথা বলে আসছেন।
এমনকি ব্রিটিশ সামরিক গোয়েন্দা ও প্রতিরক্ষা মহলের কট্টর রাশিয়াবিষয়ক বিশ্লেষকদের মধ্যেও এখন বাস্তববাদী অবস্থানের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। মার্ক গ্যালিওটি যেমন ইঙ্গিত দিয়েছেন, ব্রিটিশ নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক অঙ্গনের একটি অংশ মনে করছে, সংঘাতকে অনির্দিষ্টকাল সামরিকভাবে চালিয়ে যাওয়ার বদলে কোনো ধরনের সমাধানের দিকে উভয় পক্ষকে ঠেলে দেওয়া প্রয়োজন।
এটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। কারণ দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমা নীতির কেন্দ্রীয় বক্তব্য ছিল—ইউক্রেনকে যতদিন প্রয়োজন, ততদিন সহায়তা দিতে হবে। কিন্তু যুদ্ধ যত দীর্ঘ হচ্ছে, ততই প্রশ্ন উঠছে: এই নীতি ইউক্রেনের জন্য বাস্তবে কী অর্জন করছে এবং পশ্চিমা দেশগুলোর নিজেদের নিরাপত্তার ওপর এর মূল্য কত?
বার্নহ্যামের রাজনৈতিক সংকট
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামের জন্য এখানেই সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক জটিলতা। রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নিলে তাঁকে নিজের দেশের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের পাশাপাশি দলীয় কট্টরপন্থীদেরও সমালোচনার মুখে পড়তে হতে পারে।
ইউক্রেনের প্রতি কঠোর সমর্থন এখন ব্রিটিশ রাজনীতিতে একটি শক্তিশালী অবস্থান। ফলে হঠাৎ করে মস্কোর সঙ্গে সংলাপের আহ্বান জানানোকে অনেকে দুর্বলতা বা পশ্চাদপসরণ হিসেবে ব্যাখ্যা করতে পারেন।
কিন্তু পররাষ্ট্রনীতির সমস্যা হলো, রাজনৈতিক জনপ্রিয়তা দিয়ে সামরিক ঝুঁকি মাপা যায় না।

লন্ডনের সামনে এখন মূলত দুটি পথ। একটি হলো ইউক্রেনকে আরও দূরপাল্লার অস্ত্র, গোয়েন্দা সহায়তা ও প্রযুক্তি দেওয়া এবং ধরে নেওয়া যে রাশিয়া সীমিত পাল্টা পদক্ষেপের মধ্যেই থাকবে। অন্যটি হলো যোগাযোগ পুনরুদ্ধার করে এমন একটি সীমারেখা নির্ধারণ করা, যার ওপারে গেলে সরাসরি রাশিয়া-যুক্তরাজ্য সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হবে।
প্রথম পথটি রাজনৈতিকভাবে সহজ হতে পারে, কিন্তু সামরিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। দ্বিতীয় পথটি রাজনৈতিকভাবে কঠিন, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে বিপর্যয় এড়ানোর সম্ভাবনা বেশি।
কূটনৈতিক দরজা পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার আগে
রাশিয়া ও যুক্তরাজ্য এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধে নেই। রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহারও যুদ্ধের সমার্থক নয়। কিন্তু যুদ্ধের সবচেয়ে বিপজ্জনক মুহূর্ত অনেক সময় যুদ্ধ শুরু হওয়ার ঘোষণা নয়; বরং সেই সময়, যখন প্রতিপক্ষের উদ্দেশ্য বোঝার মতো যোগাযোগ আর অবশিষ্ট থাকে না।
লন্ডনের প্রতি মস্কোর সতর্কবার্তা একের পর এক এসেছে। ব্রিটেন সেগুলো উপেক্ষা করেছে। একইভাবে রাশিয়াও ইউক্রেনের বিরুদ্ধে তার সামরিক অভিযান আরও তীব্র করেছে। এই পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপের মধ্যে এখন একটি ভুল হিসাবের সম্ভাবনা বাড়ছে।
বিশেষ করে ইউক্রেনে ব্রিটিশ অস্ত্র ব্যবহারের পর যদি রাশিয়ার বেসামরিক জনগণের বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটে, তাহলে মস্কোর জন্য ব্রিটেনের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া দেখানোর চাপ বাড়বে। আর যদি সেই প্রতিক্রিয়া ইউক্রেনের বাইরে গিয়ে সরাসরি ব্রিটিশ সামরিক সম্পদকে লক্ষ্য করে, তখন পরিস্থিতি দ্রুত ন্যাটো-রাশিয়া সংঘাতের দিকে এগোতে পারে।
সেই কারণেই রাষ্ট্রদূতের চেয়ার খালি থাকা কেবল একটি কূটনৈতিক প্রতীক নয়; এটি যোগাযোগের সংকুচিত পরিসরেরও ইঙ্গিত। এখন প্রয়োজন কে কতটা কঠোর, তা প্রমাণ করা নয়। প্রয়োজন এমন কিছু ন্যূনতম যোগাযোগের পথ খোলা রাখা, যার মাধ্যমে সংকটের মুহূর্তে প্রতিপক্ষকে থামানো যায়।
ইউক্রেনকে সমর্থন করা এবং রাশিয়ার সঙ্গে কথা বলা—এই দুটি বিষয় পরস্পরবিরোধী হতে হবে এমন কোনো নিয়ম নেই। বরং পারমাণবিক শক্তিধর দুই পক্ষের সংঘাতের ঝুঁকি যত বাড়ে, সামরিক সহায়তার পাশাপাশি কূটনৈতিক যোগাযোগের প্রয়োজনও তত বাড়ে।
রাশিয়া ও ব্রিটেন যুদ্ধের খুব কাছাকাছি চলে গেছে কি না, তার উত্তর এখনো নিশ্চিতভাবে ‘হ্যাঁ’ নয়। কিন্তু একটি বিষয় স্পষ্ট: দুই দেশের সম্পর্ক এমন এক জায়গায় পৌঁছেছে, যেখানে কূটনৈতিক ভুলের মূল্য আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। আর সেই কারণেই যুদ্ধ এড়ানোর শেষ নিরাপদ পথ হয়তো যুদ্ধক্ষেত্রে নয়—আবারও আলোচনার টেবিলে।
জন ফোরম্যান 


















