যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে প্রতিযোগিতা যত তীব্র হচ্ছে, আফ্রিকার অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ততই বাস্তববাদী কৌশল নিচ্ছে। তারা কোনো একটি পক্ষ বেছে নেওয়ার বদলে যে প্রযুক্তি তুলনামূলক ভালো সুবিধা, কম খরচ বা বেশি নমনীয়তা দিচ্ছে, সেটিই ব্যবহার করছে। ফলে চীনা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেলগুলো আফ্রিকার ব্যবসায়িক পরিসরে ধীরে ধীরে জায়গা করে নিচ্ছে।
আফ্রিকার প্রযুক্তি খাতের এই প্রবণতা দেখিয়ে দিচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র-চীন প্রযুক্তি প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাঝেও ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তে লাভ, কার্যকারিতা ও ব্যবহারিক সুবিধাই অনেক প্রতিষ্ঠানের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
চীনা প্রযুক্তির দিকে নজর আফ্রিকার প্রতিষ্ঠানের
এর একটি উদাহরণ নাইজেরিয়াভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান কুরাসেল। আফ্রিকার বিমা ও আর্থিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক দাবি যাচাই ও জালিয়াতি শনাক্তকরণ অবকাঠামো সরবরাহ করে প্রতিষ্ঠানটি।
নিজেদের অভ্যন্তরীণ প্রযুক্তি অবকাঠামোর জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেলের পরিসর বাড়ানোর সময় কুরাসেল শুধু যুক্তরাষ্ট্রের সিলিকন ভ্যালির প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নির্ভর করেনি। তারা পশ্চিমা প্রযুক্তির পাশাপাশি চীনের তৈরি জিএলএম-৫.৩ মডেলও যুক্ত করেছে।
মডেলটি তৈরি করেছে বেইজিংভিত্তিক ঝিপু এআই। এর মাধ্যমে কুরাসেল দেখিয়েছে, আফ্রিকার প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এখন উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে উৎস বা দেশের চেয়ে কার্যকারিতা ও ব্যবসায়িক উপযোগিতাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
এক পক্ষের ওপর নির্ভর করতে চাইছে না আফ্রিকা
যুক্তরাষ্ট্র চাইছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন দেশ ও প্রতিষ্ঠানকে চীন অথবা যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি পক্ষ বেছে নিতে। কিন্তু আফ্রিকার ব্যবসাগুলোর বাস্তবতা ভিন্ন।

অনেক প্রতিষ্ঠানই দুই পক্ষের প্রযুক্তি পাশাপাশি ব্যবহার করে নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী সবচেয়ে কার্যকর সমাধান খুঁজছে। এতে তারা প্রযুক্তিগত বিকল্পও ধরে রাখতে পারছে, আবার কোনো একটি দেশের প্রযুক্তিনির্ভরতার ঝুঁকিও কমাতে পারছে।
আফ্রিকার এই কৌশল ভবিষ্যতে বৈশ্বিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিযোগিতায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। কারণ নতুন প্রযুক্তির বাজারে শুধু রাজনৈতিক প্রভাব নয়, খরচ, সহজলভ্যতা, নমনীয়তা ও বাস্তব প্রয়োগের সক্ষমতাও প্রযুক্তি বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা যত এগোবে, আফ্রিকার ব্যবসাগুলোর এই ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান চীনা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নতুন বাজার তৈরির পাশাপাশি পশ্চিমা প্রযুক্তি সরবরাহকারীদেরও প্রতিযোগিতার মুখে ফেলতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















