মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সরবরাহব্যবস্থা-সংক্রান্ত উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হতে বাধ্য বলে মন্তব্য করেছেন চীনের বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিজ্ঞানী ঝেং ইয়ংনিয়ান। একই সঙ্গে চীনের স্বল্পমূল্যের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেল ব্যবহারে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রবেশাধিকার সীমিত করার প্রচেষ্টাও উল্টো ফল দেবে বলে তিনি সতর্ক করেছেন।
চীনা এই শিক্ষাবিদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তি খাতে চীনকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের যে জোট ও বিধিনিষেধমূলক কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে, সেগুলো দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হবে না। বরং এসব পদক্ষেপ বিশ্ব অর্থনীতিতে বিভাজন আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।

রোববার এক সম্মেলনে চীনের হংকং বিশ্ববিদ্যালয়, শেনঝেনের জননীতি বিদ্যালয়ের ডিন ঝেং ইয়ংনিয়ান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বিভিন্ন কাঠামো সরাসরি তৃতীয় একটি পক্ষকে লক্ষ্য করে তৈরি করা হচ্ছে। এ ধরনের উদ্যোগ সফল হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।
চীন-যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতার পক্ষে যুক্তি
ঝেং ইয়ংনিয়ান মনে করেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রতিযোগিতা ও বিচ্ছিন্নতার বদলে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে দুই দেশের সহযোগিতা করা উচিত। তার মতে, বিশ্ব অর্থনীতির চাহিদা বাড়াতে পারলে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা সহজ হবে।
তিনি বিশেষভাবে যুক্তরাষ্ট্রের তথাকথিত ‘প্যাক্স সিলিকা’, চিপ জোট এবং বিরল মাটি-সম্পদ জোটের কথা উল্লেখ করেন। তার দাবি, এসব উদ্যোগের লক্ষ্য যদি মূলত চীনকে মোকাবিলা করা হয়, তাহলে তা বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থাকে আরও জটিল করে তুলবে এবং শেষ পর্যন্ত উদ্যোগগুলোর নিজেদের জন্যই সমস্যা তৈরি করতে পারে।
সস্তা চীনা এআই ঠেকানো কঠিন
চীনা কম খরচের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেল থেকে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোকে দূরে রাখার চেষ্টা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। তার মতে, কম খরচে উন্নত প্রযুক্তি পাওয়ার সুযোগ সীমিত করলে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরই অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ তৈরি হতে পারে।
ঝেংয়ের বক্তব্যের মূল বার্তা হলো, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কেন্দ্র করে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিগত প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও বাড়ানোর পরিবর্তে দুই দেশের উচিত এমন একটি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে প্রযুক্তি ও বাণিজ্য উভয়ই বৃহত্তর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















