১২:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬
মিসর-জর্ডানের নতুন পর্যটন জোট, এক সফরেই মিলবে দুই দেশের ঐতিহ্যের স্বাদ গাজার আকাশে যুদ্ধ কমলেও বদলে যাচ্ছে মানচিত্র তুরস্কে রোবোটিক অস্ত্রোপচার শিখবেন মিশরের ২০ চিকিৎসক কারাগার থেকে নির্বাসন: তালেবানের দমননীতির বিরুদ্ধে এক আফগান নারীর অবিচল লড়াই দক্ষিণ আফগানিস্তানে নারীর কণ্ঠ স্তব্ধ, সংবাদমাধ্যমে নেই কোনো নারী সাংবাদিক তালেবান শাসনে ছেলেদের পোশাকে কাজ, ১৩ বছরের আফগান কিশোরী  আটক বাস্তুচ্যুতি ও খাদ্যসংকটে বিপর্যস্ত আফগানিস্তান, সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে নারী ও শিশুরা যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ পেরিয়ে নারীরাই লিখছেন আশা, সাহস ও পুনর্গঠনের গল্প লিবিয়া–মিসরের জ্বালানি, অবকাঠামো ও নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদারের আলোচনা সেজানের নতুন যুগের শরৎ সংগ্রহে বদলে যাচ্ছে ফরাসি ফ্যাশনের পরিচিত চেহারা

চীনা সাম্রাজ্যের ইতিহাস নিয়ে মার্কিন গবেষকদের বিরুদ্ধে বেইজিংয়ের ক্ষোভ

চীনের শেষ সাম্রাজ্য চিং রাজবংশের ইতিহাস নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গড়ে ওঠা একটি গবেষণাধারার বিরুদ্ধে সরব হয়েছে বেইজিং। চীনা কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, এই ইতিহাসচর্চা দেশকে বিভক্ত করার প্রচেষ্টায় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের জন্য ‘তাত্ত্বিক অস্ত্র’ সরবরাহ করছে।

চিং রাজবংশের ইতিহাস ঘিরে অনলাইনে বিতর্ক ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। ১৬৪৪ থেকে ১৯১১ সাল পর্যন্ত চীনে শাসন করা এই রাজবংশের পরিচয়, জাতিগত বৈচিত্র্য এবং চীনা রাষ্ট্রের ঐতিহাসিক কাঠামো নিয়ে বিভিন্ন ব্যাখ্যা এখন দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতারও অংশ হয়ে উঠেছে।

‘নিউ চিং হিস্ট্রি’ নিয়ে আপত্তি

চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের একটি সাম্প্রতিক নিবন্ধে যুক্তরাষ্ট্রে বিকশিত ‘নিউ চিং হিস্ট্রি’ বা ‘নতুন চিং ইতিহাস’ ধারার তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে। নিবন্ধটিতে দাবি করা হয়, এই ইতিহাসচর্চা বাস্তব জগতে চীনা জাতির ঐক্য ও অভিন্ন পরিচয়ের ঐতিহাসিক ভিত্তিকে গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

চীনা রাষ্ট্রীয় সংবাদপত্র ‘চায়না এথনিক নিউজ’-এ প্রকাশিত ওই নিবন্ধে বলা হয়েছে, এই ধরনের ব্যাখ্যার বিরুদ্ধে জোরালোভাবে অবস্থান নেওয়া প্রয়োজন।

Why criticism of the Qing dynasty scares the Communist Party

ইতিহাস এখন রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্র

চীনের অভিযোগের পেছনে দেশটির জাতিগত নীতি ও জাতীয় পরিচয় নিয়ে চলমান বিতর্কও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বেইজিং সাম্প্রতিক সময়ে চীনের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে অভিন্ন জাতীয় পরিচয় জোরদারের ওপর গুরুত্ব বাড়িয়েছে।

অন্যদিকে, চিং রাজবংশকে চীনের ইতিহাসে কীভাবে দেখা হবে—তা নিয়ে গবেষকদের মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে। কেউ কেউ চিং শাসনকে বহুজাতিক সাম্রাজ্য হিসেবে বিশ্লেষণ করেন, যেখানে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর পৃথক রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। বেইজিংয়ের আশঙ্কা, এমন ব্যাখ্যা বর্তমান চীনের ভূখণ্ডগত ও জাতীয় ঐক্য নিয়ে ভিন্ন রাজনৈতিক দাবি তৈরিতে ব্যবহার হতে পারে।

ফলে ইতিহাসের একটি একাডেমিক বিতর্ক ধীরে ধীরে চীনের জাতীয় নিরাপত্তা, জাতিগত নীতি এবং বিচ্ছিন্নতাবাদবিরোধী অবস্থানের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়ছে।

 

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

মিসর-জর্ডানের নতুন পর্যটন জোট, এক সফরেই মিলবে দুই দেশের ঐতিহ্যের স্বাদ

চীনা সাম্রাজ্যের ইতিহাস নিয়ে মার্কিন গবেষকদের বিরুদ্ধে বেইজিংয়ের ক্ষোভ

১১:৪৯:২০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

চীনের শেষ সাম্রাজ্য চিং রাজবংশের ইতিহাস নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গড়ে ওঠা একটি গবেষণাধারার বিরুদ্ধে সরব হয়েছে বেইজিং। চীনা কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, এই ইতিহাসচর্চা দেশকে বিভক্ত করার প্রচেষ্টায় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের জন্য ‘তাত্ত্বিক অস্ত্র’ সরবরাহ করছে।

চিং রাজবংশের ইতিহাস ঘিরে অনলাইনে বিতর্ক ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। ১৬৪৪ থেকে ১৯১১ সাল পর্যন্ত চীনে শাসন করা এই রাজবংশের পরিচয়, জাতিগত বৈচিত্র্য এবং চীনা রাষ্ট্রের ঐতিহাসিক কাঠামো নিয়ে বিভিন্ন ব্যাখ্যা এখন দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতারও অংশ হয়ে উঠেছে।

‘নিউ চিং হিস্ট্রি’ নিয়ে আপত্তি

চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের একটি সাম্প্রতিক নিবন্ধে যুক্তরাষ্ট্রে বিকশিত ‘নিউ চিং হিস্ট্রি’ বা ‘নতুন চিং ইতিহাস’ ধারার তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে। নিবন্ধটিতে দাবি করা হয়, এই ইতিহাসচর্চা বাস্তব জগতে চীনা জাতির ঐক্য ও অভিন্ন পরিচয়ের ঐতিহাসিক ভিত্তিকে গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

চীনা রাষ্ট্রীয় সংবাদপত্র ‘চায়না এথনিক নিউজ’-এ প্রকাশিত ওই নিবন্ধে বলা হয়েছে, এই ধরনের ব্যাখ্যার বিরুদ্ধে জোরালোভাবে অবস্থান নেওয়া প্রয়োজন।

Why criticism of the Qing dynasty scares the Communist Party

ইতিহাস এখন রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্র

চীনের অভিযোগের পেছনে দেশটির জাতিগত নীতি ও জাতীয় পরিচয় নিয়ে চলমান বিতর্কও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বেইজিং সাম্প্রতিক সময়ে চীনের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে অভিন্ন জাতীয় পরিচয় জোরদারের ওপর গুরুত্ব বাড়িয়েছে।

অন্যদিকে, চিং রাজবংশকে চীনের ইতিহাসে কীভাবে দেখা হবে—তা নিয়ে গবেষকদের মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে। কেউ কেউ চিং শাসনকে বহুজাতিক সাম্রাজ্য হিসেবে বিশ্লেষণ করেন, যেখানে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর পৃথক রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। বেইজিংয়ের আশঙ্কা, এমন ব্যাখ্যা বর্তমান চীনের ভূখণ্ডগত ও জাতীয় ঐক্য নিয়ে ভিন্ন রাজনৈতিক দাবি তৈরিতে ব্যবহার হতে পারে।

ফলে ইতিহাসের একটি একাডেমিক বিতর্ক ধীরে ধীরে চীনের জাতীয় নিরাপত্তা, জাতিগত নীতি এবং বিচ্ছিন্নতাবাদবিরোধী অবস্থানের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়ছে।