কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিভিন্ন কথোপকথনভিত্তিক যন্ত্র ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের বাড়ির কাজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাসাইনমেন্ট তৈরি করা এখন আগের চেয়ে অনেক সহজ। তবে যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক স্টিভ হ্যাঙ্কে বলছেন, এতে তিনি মোটেও বিচলিত নন। বরং শিক্ষার্থীরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্য নিয়েছে কি না, তা শনাক্ত করা তার কাছে বেশ সহজ।
প্রায় ছয় দশক ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানো হ্যাঙ্কে নিজেকে এ বিষয়ে একজন ‘পুরোনো শেয়াল’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার দাবি, শিক্ষার্থীর নিজের লেখা আর যন্ত্রের তৈরি লেখার মধ্যে পার্থক্য তিনি খুব সহজেই বুঝতে পারেন।
শিক্ষার্থীর স্বাভাবিক দক্ষতাই বড় সূত্র
প্রয়োগমূলক অর্থনীতির এই অধ্যাপক বলেন, বর্তমানে অনেক শিক্ষার্থীর লেখার মান এমনিতেই খুব দুর্বল। এমনকি নামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যেও তিনি লেখার দুর্বলতা দেখতে পান। ফলে হঠাৎ কোনো শিক্ষার্থীর জমা দেওয়া লেখার মান তার স্বাভাবিক দক্ষতার তুলনায় অনেক উন্নত হলে বিষয়টি সহজেই চোখে পড়ে।
হ্যাঙ্কের ভাষ্য অনুযায়ী, কোনো লেখা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি করা হয়েছে—এমনটা অনেক সময় স্পষ্টভাবেই বোঝা যায়। কারণ একজন শিক্ষক দীর্ঘদিন শিক্ষার্থীদের পড়ানোর ফলে তাদের জ্ঞান, চিন্তার ধরন ও লেখার সক্ষমতা সম্পর্কে একটি পরিষ্কার ধারণা তৈরি করে ফেলেন।

অর্থনীতির জ্ঞান সম্পর্কেও শিক্ষার্থীদের দক্ষতা তিনি মোটামুটি জানেন। তাই কোনো শিক্ষার্থীর জমা দেওয়া কাজ তার পরিচিত জ্ঞান ও সক্ষমতার সঙ্গে না মিললে সেটি শনাক্ত করা তার জন্য কঠিন নয়।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে আপত্তি নেই
হ্যাঙ্কে বলেন, শিক্ষার্থীরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করছে—এতে তার মৌলিকভাবে কোনো সমস্যা নেই। তার মতে, একমাত্র সমস্যা হলো এখন একজন শিক্ষককে আগের তুলনায় আরও বেশি সতর্ক থাকতে হয়।
অর্থাৎ প্রযুক্তিটিকে তিনি নিজে সমস্যা হিসেবে দেখছেন না; বরং শিক্ষার্থীরা সেটিকে কীভাবে ব্যবহার করছে এবং তাদের জমা দেওয়া কাজের সঙ্গে সেটির কোনো অসামঞ্জস্য আছে কি না, সেটিই তার নজরে থাকে।
শিক্ষকেরাও বদলাচ্ছেন পদ্ধতি
শিক্ষার্থীদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার ঠেকাতে বিশ্বের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা ইতিমধ্যে পড়াশোনা ও মূল্যায়নের পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনছেন।
কিছু শিক্ষক এমন ধরনের প্রশ্ন ও কাজ তৈরি করছেন, যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে সহজে সম্পন্ন করা কঠিন। আবার কেউ কেউ শিক্ষার্থীদের হাতে লিখে পরীক্ষা বা কাজ জমা দেওয়ার পদ্ধতিতেও ফিরছেন।
হার্ভার্ড ও কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভর্তি কর্মকর্তা ড্রুসিলা ব্ল্যাকম্যানও হ্যাঙ্কের সঙ্গে অনেকটা একমত। তার মতে, শিক্ষার্থীর স্বাভাবিক লেখার ধরন, চিন্তাশক্তি ও কাজের মানের সঙ্গে জমা দেওয়া লেখার বড় ধরনের পার্থক্য থাকলে শিক্ষক সাধারণত বিষয়টি বুঝতে পারেন।
ফলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শিক্ষার্থীদের কাজ সহজ করে দিলেও শিক্ষকদের চোখ এড়িয়ে যাওয়া সবসময় ততটা সহজ নয়। বরং শিক্ষার্থীর আগের কাজ ও বর্তমান কাজের মধ্যে সামঞ্জস্য আছে কি না, সেটিই হয়ে উঠছে যন্ত্রনির্ভর নকল শনাক্ত করার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপায়।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে শিক্ষার্থীদের নকল করার সুযোগ বাড়লেও অভিজ্ঞ শিক্ষকের পর্যবেক্ষণ ও শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতার সঙ্গে কাজের তুলনা এখনো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















