আফগানিস্তানে তালেবানের কঠোর বিধিনিষেধে নারীদের অধিকার ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও সংকটময় হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বৈষম্য, বাল্যবিবাহ, পারিবারিক সহিংসতা এবং নিরাপত্তাহীনতা বৃদ্ধির কথা উঠে এসেছে। নারীদের স্বাধীন চলাফেরা ও সামাজিক অংশগ্রহণও নানা বিধিনিষেধের কারণে ক্রমেই সীমিত হয়ে পড়ছে।
অধিকার ও স্বাধীনতায় কঠোর নিয়ন্ত্রণ
তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর নারীদের ওপর একের পর এক কঠোর নীতি আরোপ করা হয়েছে। সমালোচকদের মতে, এসব নীতির ফলে নারীরা মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সময়ের সঙ্গে বিভিন্ন নিয়ম পরিবর্তন ও কঠোরভাবে প্রয়োগের মাধ্যমে নারীদের সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ আরও সংকুচিত করা হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে নারীদের পারিবারিক ও আইনি অধিকার নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। বাল্যবিবাহ ও পারিবারিক সহিংসতার ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। একই সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ কিংবা নির্যাতন থেকে সুরক্ষা পাওয়ার জন্য আইনি সহায়তা নেওয়াও অনেক নারীর জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।

মানসিক স্বাস্থ্যে বাড়ছে চাপ
দীর্ঘদিনের সামাজিক ও আইনি বিধিনিষেধ নারীদের মানসিক সুস্থতা নিয়েও গুরুতর উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আফগানিস্তানে আত্মহত্যার ঘটনা ও আত্মহত্যার চেষ্টার ক্ষেত্রে নারীদের অংশ প্রায় ৮০ শতাংশ। এই পরিসংখ্যান দেশটির নারীদের ওপর তৈরি হওয়া ভয়াবহ মানসিক চাপের বিষয়টি স্পষ্ট করে।
জবাবদিহির অভাবেও বাড়ছে নিরাপত্তাহীনতা
আফগান অনুসন্ধানী সংগঠনগুলো নারীদের হত্যাকাণ্ডের বিভিন্ন ঘটনাও নথিভুক্ত করেছে। এসব ঘটনায় অভিযুক্তদের কেউ কেউ শাস্তি এড়িয়ে যাওয়ায় বিচারহীনতা ও নিরাপত্তাহীনতা আরও বাড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে শুধু নারীরাই নয়, তাঁদের পরিবারগুলোর মধ্যেও ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক ও আফগান বিভিন্ন প্রতিবেদনে দেশটির নারীদের ওপর ক্রমবর্ধমান বিধিনিষেধ এবং নিরাপত্তা সংকটের চিত্র উঠে আসছে। ফলে নারীর অধিকার, স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগও অব্যাহত রয়েছে।
আফগান নারীদের সামাজিক ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতা যত বেশি সংকুচিত হচ্ছে, ততই তাঁদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা গভীর হচ্ছে। বিশেষজ্ঞ ও অধিকারকর্মীদের আশঙ্কা, এই পরিস্থিতির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব আফগান সমাজের ওপরও পড়তে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















