উচ্চ আদালতে শুল্কসংক্রান্ত মামলা করার আগে সেগুলোর আইনি ভিত্তি ও প্রয়োজনীয়তা স্বাধীনভাবে যাচাইয়ের জন্য নতুন প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা চালু করেছে পাকিস্তানের ফেডারেল বোর্ড অব রেভিনিউ। নতুন এই ব্যবস্থার লক্ষ্য হলো মামলার মান উন্নত করা, আইনি সিদ্ধান্তে সামঞ্জস্য আনা এবং দুর্বল বা অপ্রয়োজনীয় মামলা কমানো।
চারটি কমিটি গঠন
নতুন নিয়মের মাধ্যমে ২০০১ সালের শুল্ক বিধিমালায় সংশোধন আনা হয়েছে এবং তা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে। এর আওতায় নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকার জন্য চারটি স্বাধীন মামলা যাচাই কমিটি গঠন করবে বোর্ড।
কোনো শুল্ক কর্তৃপক্ষ উচ্চ আদালতে রেফারেন্স কিংবা সুপ্রিম কোর্ট বা ফেডারেল সাংবিধানিক আদালতে আবেদন করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট কমিটির কাছে মামলাটি উপস্থাপন করতে হবে।
প্রথম কমিটির আওতায় থাকবে ইসলামাবাদ, গিলগিত-বালতিস্তানসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন শুল্ক কার্যালয়। দ্বিতীয় কমিটি পেশোয়ার ও আশপাশের এলাকার শুল্ক কার্যালয় দেখবে। তৃতীয় কমিটির দায়িত্বে থাকবে লাহোর, সারগোধা, শিয়ালকোট, ফয়সালাবাদ, মুলতানসহ পাঞ্জাবের গুরুত্বপূর্ণ শুল্ক অঞ্চল। আর চতুর্থ কমিটি করাচি, কোয়েটা, গওয়াদর, তাফতান, হায়দরাবাদ ও গাদানিসহ দক্ষিণাঞ্চলের শুল্ক কার্যক্রমের আওতাধীন মামলা যাচাই করবে।
অবসরপ্রাপ্ত বিচারক ও আইনজীবীরা থাকবেন
নতুন ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো কমিটিগুলোর সদস্য নির্বাচন। প্রতিটি কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে থাকবেন পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট, ফেডারেল সাংবিধানিক আদালত অথবা কোনো হাইকোর্টের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারক।
এ ছাড়া কমিটিতে থাকবেন শুল্ক, কর ও বাণিজ্যিক মামলায় উচ্চ আদালত এবং সুপ্রিম কোর্টে অন্তত ১৫ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন আইনজীবী। পাশাপাশি পাকিস্তান কাস্টমস সার্ভিসের বিংশ গ্রেড বা তার ওপরে কর্মরত অথবা অবসরপ্রাপ্ত একজন কর্মকর্তাও সদস্য হিসেবে থাকবেন।
এর ফলে কোনো মামলা উচ্চ আদালতে নেওয়ার আগে বিচারিক অভিজ্ঞতা, আইনি জ্ঞান ও শুল্ক প্রশাসনের কারিগরি দক্ষতা—তিনটি দিক থেকেই বিষয়টি পর্যালোচনা করা সম্ভব হবে।
কমিটির অনুমোদন ছাড়া মামলা করা যাবে না
নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর কোনো মামলা সংশ্লিষ্ট যাচাই কমিটির কাছে উপস্থাপন না করে উচ্চ আদালতে রেফারেন্স কিংবা সুপ্রিম কোর্ট বা ফেডারেল সাংবিধানিক আদালতে আবেদন করা যাবে না। মামলার বিষয়ে কমিটির সুপারিশও নথিভুক্ত থাকতে হবে।
অর্থাৎ শুল্ক বিভাগের মাঠপর্যায়ের সিদ্ধান্ত এবং উচ্চ আদালতে মামলা করার মধ্যবর্তী সময়ে এখন একটি অতিরিক্ত প্রাতিষ্ঠানিক যাচাই ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে।
কমিটিগুলো নতুন মামলা পর্যালোচনার পাশাপাশি আদালতে চলমান মামলাগুলোও নিয়মিত পর্যালোচনা করবে। কোনো মামলার আইনি অবস্থান ইতোমধ্যে আদালতের রায়ের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেলে সেটি চালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন আছে কি না, তাও যাচাই করা হবে।
পুরোনো মামলাও পর্যালোচনার আওতায়
কমিটিগুলো চলমান রেফারেন্স ও আবেদন পর্যালোচনা করে প্রয়োজন না থাকলে মামলা প্রত্যাহারের বিষয়েও সুপারিশ করতে পারবে। পাশাপাশি আদালতের প্রতিষ্ঠিত আইনি প্রশ্ন ও গুরুত্বপূর্ণ নজিরের তথ্যভান্ডার সংরক্ষণ করা হবে।
এর ফলে ভবিষ্যতে একই ধরনের আইনি বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন সিদ্ধান্ত বা অবস্থান নেওয়ার প্রবণতা কমতে পারে। একই সঙ্গে যেসব মামলায় আদালতের রায়ের মাধ্যমে আইনি অবস্থান ইতোমধ্যে স্পষ্ট হয়ে গেছে, সেগুলো চালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তাও নতুন করে বিবেচনা করা সম্ভব হবে।
অনলাইনে হবে মামলা যাচাই
মামলা যাচাইয়ের পুরো প্রক্রিয়াকে ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনাও করেছে রাজস্ব কর্তৃপক্ষ। মামলার রেফারেন্স, কমিটির কার্যক্রম এবং সুপারিশ আদান-প্রদান করা হবে পাকিস্তান সিঙ্গেল উইন্ডোর জন্য নির্ধারিত পোর্টালের মাধ্যমে অথবা বিদ্যমান ওয়েবক ব্যবস্থা সংশোধন করে।
নতুন পোর্টাল চালু না হওয়া পর্যন্ত নির্ধারিত পদ্ধতিতে হাতে-কলমেও মামলা উপস্থাপন ও যাচাই করা যাবে।
মামলা কমিটির কাছে পাঠানোর সময় সংশ্লিষ্ট মামলার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, প্রয়োজনীয় নথি, রাজস্বের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব, বিবেচনার জন্য আইনি প্রশ্ন এবং প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সুপারিশও দিতে হবে।
১৫ দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত
কমিটির কাছে মামলা পাওয়ার পর সাধারণত ১৫ দিনের মধ্যে সেটি নিষ্পত্তি করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সুপারিশ দিতে না পারলে চেয়ারম্যান আরও ১০ দিন সময় বাড়াতে পারবেন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইন ও হিসাব বিভাগের সদস্যকে জানাতে হবে।
তবে নির্ধারিত সময় এবং অতিরিক্ত সময় শেষ হওয়ার পরও কমিটি কোনো সিদ্ধান্ত না দিলে মামলাটি উচ্চ আদালতে নেওয়ার জন্য অনুমোদিত হয়েছে বলে গণ্য হবে। অবশ্য এ ক্ষেত্রে অন্যান্য প্রযোজ্য আইনি শর্ত পূরণ করতে হবে।
এভাবে নতুন ব্যবস্থায় একদিকে উচ্চ আদালতে যাওয়ার আগে মামলার মান ও প্রয়োজনীয়তা যাচাইয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কমিটি সিদ্ধান্ত না দিলে মামলা আটকে থাকার ঝুঁকিও কমানো হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















