০৭:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬
মিডটার্ম নির্বাচনে রিপাবলিকানদের ১ বিলিয়ন ডলারের তহবিল, তবু ট্রাম্পের অর্থ ছাড় নিয়ে অনিশ্চয়তা জেন-জি থেকে জেন-আলফা: তরুণদের ক্ষোভ কি আসলে ব্যর্থ ব্যবস্থার বিরুদ্ধে? কোয়ান্টাম জগতের কোয়ান্টাম কমপিউটিং আগুন নেভাতে সুপারম্যান সেজে মাঠে ১৭ বছরের কিশোর আরও চড়া দামে দুই কার্গো এলএনজি কিনছে সরকার, ইউনিটপ্রতি দাম ২৪ ডলার ছাড়াল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে মাসের সর্বনিম্ন লেনদেন, টানা দুই দিনে ১৪১ পয়েন্ট সূচক পতন রাশিয়ার বন্দিশালায় ইউক্রেনীয়দের খোঁজ: রাষ্ট্রীয় নীরবতার দেয়াল ভাঙার লড়াই নারীদের জন্য বছরে ৩টি বিনামূল্যে গ্যাস সিলিন্ডার, বাসে ফ্রি যাত্রা—বড় ঘোষণা বিজয়ের খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে হবিগঞ্জে পানিবন্দি ৫ হাজার, ডুবেছে শত শত হেক্টর ফসল ৩ লাখ ৬৫ হাজার টন সার কিনবে সরকার, ব্যয় ২ হাজার ৫৬২ কোটি টাকা

মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে পররাষ্ট্রনীতিতে সাফল্যের সংকটে ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ ব্যয়বহুল অচলাবস্থায় আটকে আছে, ইউক্রেন থেকে গাজা—কোনো সংকটেরই স্থায়ী সমাধান আসেনি। এমন পরিস্থিতিতে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের দিকে এগোচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় ফিরে নিজেকে ‘শান্তি প্রতিষ্ঠাকারী’ হিসেবে তুলে ধরলেও তাঁর উচ্চাভিলাষী পররাষ্ট্রনীতি এখন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে।

ক্ষমতায় ফেরার পর আন্তর্জাতিক সংঘাতের অবসানকে দ্বিতীয় মেয়াদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য করেছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু সময় যত গড়াচ্ছে, তাঁর কূটনৈতিক উদ্যোগগুলোর সাফল্যের বদলে অচলাবস্থাই বেশি স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

ইরান সংকটে বাড়ছে রাজনৈতিক চাপ

ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সমাধানের চেষ্টা কয়েক সপ্তাহ চালানোর পর ট্রাম্প আলোচনা বাতিল করেছেন। বুধবার তিনি ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধ’ শুরুর ঘোষণা দেন। এতে অনেকের কাছে স্পষ্ট হয়েছে, কয়েক মাসের সামরিক হামলাও তেহরানকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাশিত ছাড় দিতে বাধ্য করতে পারেনি।

এরই মধ্যে মূল্যস্ফীতি অব্যাহত রয়েছে এবং ইরান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম বেড়েছে। সাম্প্রতিক এক জরিপে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা আরও কমে ৩৩ শতাংশে নেমে এসেছে।

গাজা ও ইউক্রেনেও পরিস্থিতি খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়। গাজায় শান্তি চুক্তি এগিয়ে নিতে ট্রাম্পের দূত ও জামাতা জ্যারেড কুশনারের সাম্প্রতিক আলোচনা কোনো ফল ছাড়াই শেষ হয়েছে। অন্যদিকে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা পুনরুজ্জীবিত করতে কুশনার ও ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের কিয়েভ সফরের কথা থাকলেও তা এখনো হয়নি।

শুরুর সাফল্য এখন ম্লান

ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতে কয়েকটি পররাষ্ট্রনীতিগত সাফল্য দেখা গিয়েছিল। গাজায় যুদ্ধবিরতি এবং ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার মতো ঘটনাকে তাঁর প্রশাসন বড় অর্জন হিসেবে তুলে ধরেছে।

কিন্তু পরবর্তী সময়ে তাঁর পররাষ্ট্রনীতির চিত্র ক্রমেই দীর্ঘস্থায়ী কূটনৈতিক অচলাবস্থায় আবদ্ধ হয়েছে।

ওয়াশিংটনের প্রচলিত পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে দীর্ঘদিনের ধারণাকে ট্রাম্প চ্যালেঞ্জ করেছেন এবং অনেক পুরোনো কূটনৈতিক পদ্ধতি বদলে দিয়েছেন। তবে সেই পরিবর্তনকে সাধারণ মার্কিন নাগরিকের জন্য দৃশ্যমান ও টেকসই ফলাফলে রূপ দিতে পারেননি বলে মনে করেন বিশ্লেষকদের অনেকে।

ইউক্রেন ও গাজায়ও সমাধান অধরা

রাশিয়া ও ইউক্রেনকে আলোচনার টেবিলে বসানোর চেষ্টা করলেও ইউরোপের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ের অন্যতম দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ এখনো শেষ হওয়ার কাছাকাছি নয়।

গাজাতেও পরিস্থিতি জটিল। ইসরায়েলি হামলা তীব্র হওয়ায় যুদ্ধ বন্ধের মধ্যস্থতা প্রচেষ্টা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে ইসরায়েল ও হামাস—উভয় পক্ষই শান্তি পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় কিছু শর্ত মেনে নিতে অনাগ্রহী।

বিশ্লেষকদের মতে, ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান তুলনামূলকভাবে সহজে সফল হওয়ায় ট্রাম্প হয়তো ইরানের ক্ষেত্রেও একই ধরনের কৌশল কার্যকর হবে বলে ধারণা করেছিলেন। কিন্তু সেই হিসাব ভুল প্রমাণিত হয়েছে।

ইরানের অর্থনীতি দুর্বল হলেও দেশটির নেতৃত্ব হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে বা যুক্তরাষ্ট্রের চাপে পিছু হটতে খুব বেশি আগ্রহী নয়। ফলে সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের কৌশল কাঙ্ক্ষিত ফল দিচ্ছে না।

অপ্রচলিত কূটনীতি, মিশ্র ফল

ট্রাম্পের সমর্থকদের কেউ কেউ অবশ্য মনে করেন, অন্য অনেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট যে সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা করতে পারেননি বা চাননি, ট্রাম্প সেগুলোর মোকাবিলা করতে আগ্রহী।

রুয়ান্ডা ও কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র এবং থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যকার বিরোধ মেটাতেও তাঁর প্রশাসন উদ্যোগ নিয়েছে।

তবে ট্রাম্পের কূটনীতি প্রচলিত শান্তি আলোচনার ধারা থেকে অনেকটাই আলাদা। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও সামরিক শক্তিকে চাপ তৈরির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন, এমনকি ঘনিষ্ঠ মিত্রদের ক্ষেত্রেও। এই কৌশল কখনো প্রতিপক্ষকে আলোচনার টেবিলে আনতে পারলেও স্থায়ী সমঝোতা তৈরি করতে বারবার ব্যর্থ হচ্ছে।

নির্বাচনের আগে সময় ফুরিয়ে আসছে

ট্রাম্পের জন্য সবচেয়ে বড় সমস্যা এখন শুধু আন্তর্জাতিক সংকট নয়, দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সময়সূচিও।

সেপ্টেম্বরের ৭ তারিখ শ্রম দিবসের পর যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচনী প্রচার সাধারণত আরও তীব্র হয়ে ওঠে। এর আগে ইরান যুদ্ধ, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংকটের অর্থনৈতিক প্রভাব রিপাবলিকান দলের জন্য রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করছে।

নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের একটি বা উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারালে ট্রাম্পের বাকি মেয়াদের অভ্যন্তরীণ কর্মসূচি বাস্তবায়নের ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের প্রতিপক্ষরাও এই রাজনৈতিক বাস্তবতা বুঝতে পারছে। তাই তারা হয়তো এখনই বড় কোনো ছাড় না দিয়ে অপেক্ষা করার কৌশল নিতে পারে। কারণ ট্রাম্পের রাজনৈতিক সময়সীমা তাদের তুলনায় অনেক ছোট।

ফলে নভেম্বরের নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে—ট্রাম্পের জন্য পররাষ্ট্রনীতিতে শুধু নতুন কোনো সাফল্য অর্জন করাই নয়, ইতিমধ্যে শুরু হওয়া যুদ্ধ ও সংকটগুলোর বাস্তব সমাধান দেখানোও রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মিডটার্ম নির্বাচনে রিপাবলিকানদের ১ বিলিয়ন ডলারের তহবিল, তবু ট্রাম্পের অর্থ ছাড় নিয়ে অনিশ্চয়তা

মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে পররাষ্ট্রনীতিতে সাফল্যের সংকটে ট্রাম্প

০৫:৫৫:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ ব্যয়বহুল অচলাবস্থায় আটকে আছে, ইউক্রেন থেকে গাজা—কোনো সংকটেরই স্থায়ী সমাধান আসেনি। এমন পরিস্থিতিতে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের দিকে এগোচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় ফিরে নিজেকে ‘শান্তি প্রতিষ্ঠাকারী’ হিসেবে তুলে ধরলেও তাঁর উচ্চাভিলাষী পররাষ্ট্রনীতি এখন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে।

ক্ষমতায় ফেরার পর আন্তর্জাতিক সংঘাতের অবসানকে দ্বিতীয় মেয়াদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য করেছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু সময় যত গড়াচ্ছে, তাঁর কূটনৈতিক উদ্যোগগুলোর সাফল্যের বদলে অচলাবস্থাই বেশি স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

ইরান সংকটে বাড়ছে রাজনৈতিক চাপ

ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সমাধানের চেষ্টা কয়েক সপ্তাহ চালানোর পর ট্রাম্প আলোচনা বাতিল করেছেন। বুধবার তিনি ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধ’ শুরুর ঘোষণা দেন। এতে অনেকের কাছে স্পষ্ট হয়েছে, কয়েক মাসের সামরিক হামলাও তেহরানকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাশিত ছাড় দিতে বাধ্য করতে পারেনি।

এরই মধ্যে মূল্যস্ফীতি অব্যাহত রয়েছে এবং ইরান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম বেড়েছে। সাম্প্রতিক এক জরিপে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা আরও কমে ৩৩ শতাংশে নেমে এসেছে।

গাজা ও ইউক্রেনেও পরিস্থিতি খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়। গাজায় শান্তি চুক্তি এগিয়ে নিতে ট্রাম্পের দূত ও জামাতা জ্যারেড কুশনারের সাম্প্রতিক আলোচনা কোনো ফল ছাড়াই শেষ হয়েছে। অন্যদিকে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা পুনরুজ্জীবিত করতে কুশনার ও ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের কিয়েভ সফরের কথা থাকলেও তা এখনো হয়নি।

শুরুর সাফল্য এখন ম্লান

ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতে কয়েকটি পররাষ্ট্রনীতিগত সাফল্য দেখা গিয়েছিল। গাজায় যুদ্ধবিরতি এবং ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার মতো ঘটনাকে তাঁর প্রশাসন বড় অর্জন হিসেবে তুলে ধরেছে।

কিন্তু পরবর্তী সময়ে তাঁর পররাষ্ট্রনীতির চিত্র ক্রমেই দীর্ঘস্থায়ী কূটনৈতিক অচলাবস্থায় আবদ্ধ হয়েছে।

ওয়াশিংটনের প্রচলিত পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে দীর্ঘদিনের ধারণাকে ট্রাম্প চ্যালেঞ্জ করেছেন এবং অনেক পুরোনো কূটনৈতিক পদ্ধতি বদলে দিয়েছেন। তবে সেই পরিবর্তনকে সাধারণ মার্কিন নাগরিকের জন্য দৃশ্যমান ও টেকসই ফলাফলে রূপ দিতে পারেননি বলে মনে করেন বিশ্লেষকদের অনেকে।

ইউক্রেন ও গাজায়ও সমাধান অধরা

রাশিয়া ও ইউক্রেনকে আলোচনার টেবিলে বসানোর চেষ্টা করলেও ইউরোপের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ের অন্যতম দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ এখনো শেষ হওয়ার কাছাকাছি নয়।

গাজাতেও পরিস্থিতি জটিল। ইসরায়েলি হামলা তীব্র হওয়ায় যুদ্ধ বন্ধের মধ্যস্থতা প্রচেষ্টা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে ইসরায়েল ও হামাস—উভয় পক্ষই শান্তি পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় কিছু শর্ত মেনে নিতে অনাগ্রহী।

বিশ্লেষকদের মতে, ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান তুলনামূলকভাবে সহজে সফল হওয়ায় ট্রাম্প হয়তো ইরানের ক্ষেত্রেও একই ধরনের কৌশল কার্যকর হবে বলে ধারণা করেছিলেন। কিন্তু সেই হিসাব ভুল প্রমাণিত হয়েছে।

ইরানের অর্থনীতি দুর্বল হলেও দেশটির নেতৃত্ব হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে বা যুক্তরাষ্ট্রের চাপে পিছু হটতে খুব বেশি আগ্রহী নয়। ফলে সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের কৌশল কাঙ্ক্ষিত ফল দিচ্ছে না।

অপ্রচলিত কূটনীতি, মিশ্র ফল

ট্রাম্পের সমর্থকদের কেউ কেউ অবশ্য মনে করেন, অন্য অনেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট যে সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা করতে পারেননি বা চাননি, ট্রাম্প সেগুলোর মোকাবিলা করতে আগ্রহী।

রুয়ান্ডা ও কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র এবং থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যকার বিরোধ মেটাতেও তাঁর প্রশাসন উদ্যোগ নিয়েছে।

তবে ট্রাম্পের কূটনীতি প্রচলিত শান্তি আলোচনার ধারা থেকে অনেকটাই আলাদা। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও সামরিক শক্তিকে চাপ তৈরির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন, এমনকি ঘনিষ্ঠ মিত্রদের ক্ষেত্রেও। এই কৌশল কখনো প্রতিপক্ষকে আলোচনার টেবিলে আনতে পারলেও স্থায়ী সমঝোতা তৈরি করতে বারবার ব্যর্থ হচ্ছে।

নির্বাচনের আগে সময় ফুরিয়ে আসছে

ট্রাম্পের জন্য সবচেয়ে বড় সমস্যা এখন শুধু আন্তর্জাতিক সংকট নয়, দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সময়সূচিও।

সেপ্টেম্বরের ৭ তারিখ শ্রম দিবসের পর যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচনী প্রচার সাধারণত আরও তীব্র হয়ে ওঠে। এর আগে ইরান যুদ্ধ, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংকটের অর্থনৈতিক প্রভাব রিপাবলিকান দলের জন্য রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করছে।

নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের একটি বা উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারালে ট্রাম্পের বাকি মেয়াদের অভ্যন্তরীণ কর্মসূচি বাস্তবায়নের ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের প্রতিপক্ষরাও এই রাজনৈতিক বাস্তবতা বুঝতে পারছে। তাই তারা হয়তো এখনই বড় কোনো ছাড় না দিয়ে অপেক্ষা করার কৌশল নিতে পারে। কারণ ট্রাম্পের রাজনৈতিক সময়সীমা তাদের তুলনায় অনেক ছোট।

ফলে নভেম্বরের নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে—ট্রাম্পের জন্য পররাষ্ট্রনীতিতে শুধু নতুন কোনো সাফল্য অর্জন করাই নয়, ইতিমধ্যে শুরু হওয়া যুদ্ধ ও সংকটগুলোর বাস্তব সমাধান দেখানোও রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।