মিডটার্ম নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান পার্টি অর্থের দিক থেকে বড় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। ফেডারেল নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, দলীয় কাঠামো ও রাজনৈতিক অ্যাকশন কমিটিগুলো মিলিয়ে রিপাবলিকানদের হাতে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার রয়েছে, যা ডেমোক্র্যাটদের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। তবে এই বিপুল অর্থের বড় অংশ নির্বাচনী প্রচারে কতটা ব্যবহার হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
রিপাবলিকানদের বড় তহবিল, নিয়ন্ত্রণ ট্রাম্পের হাতে
রিপাবলিকানদের সবচেয়ে বড় অর্থভাণ্ডার রয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সুপার পিএসি ‘মাগা ইনক’-এর হাতে। সংগঠনটির তহবিলে অন্তত ৪০০ মিলিয়ন ডলার রয়েছে। কিন্তু ট্রাম্প পৃথক নির্বাচনী প্রচারে কত অর্থ দেবেন, তা প্রকাশ্যে জানাননি।
এখন পর্যন্ত মাগা ইনক তার মোট তহবিলের মাত্র ২.৩ মিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ প্রায় ০.৬ শতাংশ, রিপাবলিকানদের নির্বাচনী প্রচারে ব্যয় করেছে। ট্রাম্প বলেছেন, তার পিএসি রিপাবলিকানদের জয়ে সহায়তা করবে। তবে সংগঠনটি এখনো ব্যয়ের পরিকল্পনা প্রকাশ করেনি এবং দলীয় মিত্রদেরও এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
অর্থের পরিমাণের পাশাপাশি অর্থ সংগ্রহের ধরনও নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণ ভোটারদের ছোট অনুদান প্রার্থীদের প্রতি জনসমর্থন ও উৎসাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হয়। এ কারণেই মধ্যবর্তী নির্বাচনের পূর্বাভাসে ব্যক্তিগত অনুদানকে অন্যতম বিবেচ্য বিষয় করা হয়েছে।
ডেমোক্র্যাটদের কেন্দ্রীয় তহবিলে দুর্বলতা
ডেমোক্র্যাটদের কেন্দ্রীয় তহবিল সংগ্রহের পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে দুর্বল। দলটির ছোট দাতাদের মধ্যে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রতি অসন্তোষ রয়েছে। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অর্থ কীভাবে ব্যয় হয়েছে, তা নিয়েও বড় দাতাদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। ডেমোক্র্যাটিক ন্যাশনাল কমিটি প্রায় ২ মিলিয়ন ডলার ঋণে থাকায় আস্থার সংকট আরও প্রকট হয়েছে।
তবে কেন্দ্রীয় কমিটির দুর্বলতা ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের অর্থ সংগ্রহে একই মাত্রার প্রভাব ফেলছে না। অনেক দাতা কেন্দ্রীয় কমিটিকে এড়িয়ে সরাসরি নির্বাচনী প্রচারে অর্থ দিচ্ছেন।
টেক্সাসের সিনেট নির্বাচনে এর স্পষ্ট উদাহরণ দেখা যাচ্ছে। ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস টালারিকো চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ২৮ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছেন। বিপরীতে রিপাবলিকান প্রার্থী কেন প্যাক্সটন সংগ্রহ করেছেন মাত্র ১.৬ মিলিয়ন ডলার। টালারিকোর সংগৃহীত অর্থের অর্ধেকের বেশি এসেছে ছোট অনুদান থেকে, যেখানে প্যাক্সটনের ক্ষেত্রে ছোট অনুদানের অংশ মাত্র ১২ শতাংশ।
প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনে ডেমোক্র্যাটদের এগিয়ে থাকা
সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নয়টি সিনেট নির্বাচনী এলাকায় ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের হাতে নগদ অর্থ রয়েছে প্রায় ১১৬ মিলিয়ন ডলার। রিপাবলিকান প্রার্থীদের হাতে রয়েছে প্রায় ৫১ মিলিয়ন ডলার।
ছোট দাতাদের অংশগ্রহণেও ডেমোক্র্যাটরা এগিয়ে। ২০০ ডলারের কম অনুদান দেওয়া ব্যক্তিদের অর্থ ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের মোট অনুদানের গড়ে ৫১ শতাংশ। রিপাবলিকানদের ক্ষেত্রে এই হার ২৪ শতাংশ।
নির্বাচনী প্রচারে অর্থের গুরুত্ব
অর্থ নির্বাচনে জয় নিশ্চিত করে না, তবে এর প্রভাব উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। প্রচারণার সাংগঠনিক কার্যক্রম, কর্মী ও বিজ্ঞাপনের ব্যয় মেটাতে অর্থ প্রয়োজন। ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আনতে পরিচালিত প্রচারণাও প্রার্থীর সম্ভাবনা বাড়াতে পারে।
উইসকনসিনের ১১ আগস্টের গভর্নর প্রাইমারিতে ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্ট ফ্রান্সেসকা হং কোনো টেলিভিশন বিজ্ঞাপন দেননি এবং পরাজিত হন। ভোটারদের বয়স ও শিক্ষার মতো বিষয় বিবেচনায় নিয়ে করা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিজ্ঞাপন না দেওয়াই তার পরাজয়ের অন্যতম কারণ হতে পারে।
রিপাবলিকান কর্মকর্তারা অবশ্য মনে করছেন, ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের বর্তমান অর্থনৈতিক সুবিধা সাময়িক। তাদের দাবি, রিপাবলিকানদের জমা অর্থ, যার মধ্যে ট্রাম্পের তহবিলও রয়েছে, শিগগিরই নির্বাচনী প্রচারে প্রবাহিত হবে। কিন্তু মধ্যবর্তী নির্বাচন আর তিন মাসেরও কম দূরে থাকায় রিপাবলিকান প্রার্থীদের মধ্যে অস্বস্তি বাড়ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রিপাবলিকানদের হাতে বিপুল অর্থ থাকলেও সেই অর্থ প্রার্থীদের প্রচারে কতটা যাবে, তা এখনো পরিষ্কার নয়। বিপরীতে ডেমোক্র্যাটদের কেন্দ্রীয় তহবিল দুর্বল হলেও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনের প্রার্থীরা সরাসরি দাতাদের কাছ থেকে অর্থ পাচ্ছেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















