০৮:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬
মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিকে ইতিবাচকভাবে দেখছে বাংলাদেশ, অংশগ্রহণে আপত্তি নেই ইমরান খানের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে পাকিস্তানের প্রতি সাবেক ক্রিকেট অধিনায়কদের আহ্বান লুকানো পেটের চর্বি হৃদ্‌যন্ত্রকে দ্রুত বুড়িয়ে দিতে পারে, বলছে নতুন গবেষণা মানুষের শিশুর মতোই গান শেখে তরুণ ফিঞ্চ পাখি গাজায় ইসরায়েলি হামলায় শিশুসহ নিহত ৩ নারীর শরীর নিয়ে মন্তব্য করার অধিকার কারও নেই, বললেন নাইমাল খাওয়ার তালেবান শাসনে আফগানিস্তান: বিবাহবিচ্ছেদ থেকে স্মার্টফোন, সর্বত্র নিয়ন্ত্রণের ছায়া ওয়েলসের সর্বোচ্চ পর্বতে লাইন নিয়ে তুমুল বিতর্ক, ‘এটা তো বিনোদনকেন্দ্র নয়’ আফগানিস্তানের বাণিজ্যপথ বদলে যাচ্ছে, বড় ঝুঁকিতে পাকিস্তানের শিল্প-বাণিজ্য যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অভিবাসন নিয়ম: বিদেশি শিক্ষার্থীদের ১৫ সেপ্টেম্বরের আগেই ফিরতে বলছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো

এশীয় বিতাড়নের ৫৪ বছর পর উগান্ডার প্রয়োজন নতুন অর্থনৈতিক দর্শন

১৯৭২ সালে উগান্ডার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ইদি আমিন দেশটির এশীয় জনগোষ্ঠীকে বিতাড়নের নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই ঘটনার ৫৪ বছর পরও এটি উগান্ডার ইতিহাসের একটি গভীর ক্ষত হয়ে আছে। বহু পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নিজেদের ঘরবাড়ি ও সম্পদ হারিয়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিল। এর প্রভাব শুধু মানুষের জীবনেই পড়েনি, বড় ধরনের ধাক্কা এসেছিল উগান্ডার অর্থনীতিতেও।

বিতাড়িতদের অনেকে পরে ব্রিটেন, কানাডাসহ বিভিন্ন দেশে নতুন জীবন গড়ে তোলেন। তাদের অনেকের অর্থনৈতিক সাফল্য আজ উগান্ডার হারানো সম্ভাবনার কথাও মনে করিয়ে দেয়। তবে ২০২৬ সালে এসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হওয়া উচিত—এই ঘটনা থেকে উগান্ডা কী শিখেছে?

বৈষম্যের শিকড় ছিল আরও গভীরে

১৯৭২ সালের ঘটনাকে শুধু জাতিগত বিদ্বেষের দৃষ্টিতে দেখলে এর গভীর শিক্ষা আড়ালে থেকে যায়। ঔপনিবেশিক আমলে উগান্ডার অর্থনীতি এমনভাবে গড়ে উঠেছিল, যেখানে এশীয় জনগোষ্ঠী মূলত ব্যবসা-বাণিজ্য ও মধ্যস্থতাকারী কর্মকাণ্ডে সুযোগ পেয়েছিল। বিপরীতে আফ্রিকান সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর বড় অংশ সম্পদ তৈরি ও উৎপাদনশীল ব্যবসা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয় সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিল।

এই ব্যবস্থা এশীয়রা তৈরি করেনি। ফলে পরবর্তী সময়ে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল, তার দায়ও তাদের ওপর চাপানো যায় না। একই সঙ্গে এ কথাও মনে রাখা জরুরি যে শুধু উদ্যোক্তা হওয়ার ক্ষমতা বা কঠোর পরিশ্রমই সাফল্যের একমাত্র কারণ নয়। সাফল্যের পেছনে অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিবেশের বড় ভূমিকা থাকে।

বিতাড়িত অনেক এশীয় বিদেশে গিয়ে এমন অর্থনীতিতে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছিলেন, যেখানে সম্পত্তির অধিকার, পুঁজি পাওয়ার সুযোগ, শিক্ষা, পেশাগত যোগাযোগ এবং তুলনামূলক উন্মুক্ত বাজার তাদের উদ্যোগকে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ দিয়েছে।

আজকের বৈষম্য আর জাতিগত নয়

উগান্ডার বর্তমান অর্থনৈতিক বৈষম্যকে আর কেবল এশীয় ও আফ্রিকান কিংবা স্থানীয় ও বিদেশির দ্বন্দ্ব হিসেবে দেখলে বাস্তবতা পুরোপুরি ধরা পড়বে না। এখন বৈষম্যের বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে সামাজিক শ্রেণি এবং অর্থনৈতিক সুযোগের অসম বণ্টন।

যদি বিপুলসংখ্যক মানুষ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে কার্যকর অংশগ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত থাকে, তাহলে ভবিষ্যতের অস্থিরতা অন্য রূপ নিতে পারে। তখন ক্ষোভের লক্ষ্য হতে পারে তারা, যাদের হাতে সম্পদ জমা হয়েছে অথচ সমাজের বড় অংশ অর্থনৈতিক সুযোগ থেকে দূরে রয়ে গেছে।

তাই একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়ে তোলা শুধু সামাজিক ন্যায়ের বিষয় নয়; এটি ভবিষ্যৎ অস্থিরতা ঠেকানোরও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়।

ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে উৎপাদনে যেতে হবে

১৯৭২ সালে উগান্ডা হয়তো একটি বড় উন্নয়ন সম্ভাবনা হারিয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে দেশটিতে একটি স্থানীয় উদ্যোক্তা শ্রেণিরও উত্থান ঘটে। ঔপনিবেশিক অর্থনীতিতে যাদের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ ছিল না, তারা ধীরে ধীরে ব্যবসা ও বিনিয়োগের জায়গা তৈরি করেন।

কিন্তু এই পরিবর্তন এখনও অসম্পূর্ণ। স্থানীয় উদ্যোক্তাদের একটি বড় অংশ এখনো পণ্য কেনাবেচা, আমদানি ও কম মূল্য সংযোজনকারী ব্যবসার মধ্যে সীমাবদ্ধ। ভবিষ্যতের লক্ষ্য হওয়া উচিত শিল্প, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, প্রযুক্তি, ডিজিটাল উদ্ভাবন এবং উৎপাদনশীল বিনিয়োগের দিকে অগ্রসর হওয়া।

এ জন্য শুধু বক্তব্য বা নীতির ঘোষণা যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী মূলধন, নির্ভরযোগ্য অবকাঠামো, দক্ষ জনশক্তি, বাজারে প্রবেশের সুযোগ এবং স্থিতিশীল ও পূর্বানুমানযোগ্য নীতি।Fifty years after expulsion, Asians are thriving again in Uganda

শোষণ ঠেকাতে ন্যায্য বাজারব্যবস্থা জরুরি

উগান্ডার অর্থনীতির আরেকটি কঠিন বাস্তবতা হলো, শ্রমিক ও উৎপাদকদের শোষণের একটি অংশ এখন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও মধ্যস্বত্বভোগীদের মাধ্যমেও ঘটে।

কৃষকরা অনেক সময় কঠোর পরিশ্রম করেও তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য পান না। বাজার নিয়ন্ত্রণকারী মধ্যস্বত্বভোগীরা তুলনামূলক বড় অংশের মুনাফা নিয়ে নেন। একইভাবে কম মজুরি ও দুর্বল দরকষাকষির ক্ষমতার কারণে শ্রমিকদের উৎপাদিত মূল্যও অন্যদের হাতে চলে যায়।

একটি সত্যিকারের অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতিতে কৃষক, কারখানার শ্রমিক, উদ্যোক্তা, পেশাজীবী কিংবা বিনিয়োগকারী—প্রত্যেকের অবদান অনুযায়ী ন্যায্য অংশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

১৯৭২-এর শিক্ষা কী হওয়া উচিত

১৯৭২ সালের ঘটনার শিক্ষা এমন হওয়া উচিত নয় যে একটি জনগোষ্ঠী সমৃদ্ধ হয়েছিল আর অন্য একটি জনগোষ্ঠী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। বরং মূল শিক্ষা হলো—কোনো সমাজ এমন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা বহন করতে পারে না, যেখানে বিপুলসংখ্যক মানুষ নিজেদের স্থায়ীভাবে সুযোগের বাইরে মনে করে।

উগান্ডা অতীতকে বদলাতে পারবে না। কিন্তু ভবিষ্যৎকে ভিন্নভাবে গড়ে তুলতে পারে। এমন একটি অর্থনীতি তৈরি করা সম্ভব, যেখানে সমৃদ্ধির সুফল বিস্তৃত হবে, সুযোগ সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে এবং প্রতিষ্ঠানগুলো ন্যায্যভাবে কাজ করবে।

তাহলেই ১৯৭২ সালের সেই বেদনাদায়ক অধ্যায়কে শুধু একটি পুরোনো ক্ষত হিসেবে স্মরণ করতে হবে না। বরং সেটি হয়ে উঠতে পারে এমন একটি শিক্ষার উৎস, যা উগান্ডাকে আরও ন্যায়ভিত্তিক, উৎপাদনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির দিকে এগিয়ে নেবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিকে ইতিবাচকভাবে দেখছে বাংলাদেশ, অংশগ্রহণে আপত্তি নেই

এশীয় বিতাড়নের ৫৪ বছর পর উগান্ডার প্রয়োজন নতুন অর্থনৈতিক দর্শন

০৭:৫২:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

১৯৭২ সালে উগান্ডার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ইদি আমিন দেশটির এশীয় জনগোষ্ঠীকে বিতাড়নের নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই ঘটনার ৫৪ বছর পরও এটি উগান্ডার ইতিহাসের একটি গভীর ক্ষত হয়ে আছে। বহু পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নিজেদের ঘরবাড়ি ও সম্পদ হারিয়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিল। এর প্রভাব শুধু মানুষের জীবনেই পড়েনি, বড় ধরনের ধাক্কা এসেছিল উগান্ডার অর্থনীতিতেও।

বিতাড়িতদের অনেকে পরে ব্রিটেন, কানাডাসহ বিভিন্ন দেশে নতুন জীবন গড়ে তোলেন। তাদের অনেকের অর্থনৈতিক সাফল্য আজ উগান্ডার হারানো সম্ভাবনার কথাও মনে করিয়ে দেয়। তবে ২০২৬ সালে এসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হওয়া উচিত—এই ঘটনা থেকে উগান্ডা কী শিখেছে?

বৈষম্যের শিকড় ছিল আরও গভীরে

১৯৭২ সালের ঘটনাকে শুধু জাতিগত বিদ্বেষের দৃষ্টিতে দেখলে এর গভীর শিক্ষা আড়ালে থেকে যায়। ঔপনিবেশিক আমলে উগান্ডার অর্থনীতি এমনভাবে গড়ে উঠেছিল, যেখানে এশীয় জনগোষ্ঠী মূলত ব্যবসা-বাণিজ্য ও মধ্যস্থতাকারী কর্মকাণ্ডে সুযোগ পেয়েছিল। বিপরীতে আফ্রিকান সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর বড় অংশ সম্পদ তৈরি ও উৎপাদনশীল ব্যবসা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয় সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিল।

এই ব্যবস্থা এশীয়রা তৈরি করেনি। ফলে পরবর্তী সময়ে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল, তার দায়ও তাদের ওপর চাপানো যায় না। একই সঙ্গে এ কথাও মনে রাখা জরুরি যে শুধু উদ্যোক্তা হওয়ার ক্ষমতা বা কঠোর পরিশ্রমই সাফল্যের একমাত্র কারণ নয়। সাফল্যের পেছনে অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিবেশের বড় ভূমিকা থাকে।

বিতাড়িত অনেক এশীয় বিদেশে গিয়ে এমন অর্থনীতিতে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছিলেন, যেখানে সম্পত্তির অধিকার, পুঁজি পাওয়ার সুযোগ, শিক্ষা, পেশাগত যোগাযোগ এবং তুলনামূলক উন্মুক্ত বাজার তাদের উদ্যোগকে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ দিয়েছে।

আজকের বৈষম্য আর জাতিগত নয়

উগান্ডার বর্তমান অর্থনৈতিক বৈষম্যকে আর কেবল এশীয় ও আফ্রিকান কিংবা স্থানীয় ও বিদেশির দ্বন্দ্ব হিসেবে দেখলে বাস্তবতা পুরোপুরি ধরা পড়বে না। এখন বৈষম্যের বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে সামাজিক শ্রেণি এবং অর্থনৈতিক সুযোগের অসম বণ্টন।

যদি বিপুলসংখ্যক মানুষ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে কার্যকর অংশগ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত থাকে, তাহলে ভবিষ্যতের অস্থিরতা অন্য রূপ নিতে পারে। তখন ক্ষোভের লক্ষ্য হতে পারে তারা, যাদের হাতে সম্পদ জমা হয়েছে অথচ সমাজের বড় অংশ অর্থনৈতিক সুযোগ থেকে দূরে রয়ে গেছে।

তাই একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়ে তোলা শুধু সামাজিক ন্যায়ের বিষয় নয়; এটি ভবিষ্যৎ অস্থিরতা ঠেকানোরও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়।

ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে উৎপাদনে যেতে হবে

১৯৭২ সালে উগান্ডা হয়তো একটি বড় উন্নয়ন সম্ভাবনা হারিয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে দেশটিতে একটি স্থানীয় উদ্যোক্তা শ্রেণিরও উত্থান ঘটে। ঔপনিবেশিক অর্থনীতিতে যাদের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ ছিল না, তারা ধীরে ধীরে ব্যবসা ও বিনিয়োগের জায়গা তৈরি করেন।

কিন্তু এই পরিবর্তন এখনও অসম্পূর্ণ। স্থানীয় উদ্যোক্তাদের একটি বড় অংশ এখনো পণ্য কেনাবেচা, আমদানি ও কম মূল্য সংযোজনকারী ব্যবসার মধ্যে সীমাবদ্ধ। ভবিষ্যতের লক্ষ্য হওয়া উচিত শিল্প, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, প্রযুক্তি, ডিজিটাল উদ্ভাবন এবং উৎপাদনশীল বিনিয়োগের দিকে অগ্রসর হওয়া।

এ জন্য শুধু বক্তব্য বা নীতির ঘোষণা যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী মূলধন, নির্ভরযোগ্য অবকাঠামো, দক্ষ জনশক্তি, বাজারে প্রবেশের সুযোগ এবং স্থিতিশীল ও পূর্বানুমানযোগ্য নীতি।Fifty years after expulsion, Asians are thriving again in Uganda

শোষণ ঠেকাতে ন্যায্য বাজারব্যবস্থা জরুরি

উগান্ডার অর্থনীতির আরেকটি কঠিন বাস্তবতা হলো, শ্রমিক ও উৎপাদকদের শোষণের একটি অংশ এখন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও মধ্যস্বত্বভোগীদের মাধ্যমেও ঘটে।

কৃষকরা অনেক সময় কঠোর পরিশ্রম করেও তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য পান না। বাজার নিয়ন্ত্রণকারী মধ্যস্বত্বভোগীরা তুলনামূলক বড় অংশের মুনাফা নিয়ে নেন। একইভাবে কম মজুরি ও দুর্বল দরকষাকষির ক্ষমতার কারণে শ্রমিকদের উৎপাদিত মূল্যও অন্যদের হাতে চলে যায়।

একটি সত্যিকারের অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতিতে কৃষক, কারখানার শ্রমিক, উদ্যোক্তা, পেশাজীবী কিংবা বিনিয়োগকারী—প্রত্যেকের অবদান অনুযায়ী ন্যায্য অংশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

১৯৭২-এর শিক্ষা কী হওয়া উচিত

১৯৭২ সালের ঘটনার শিক্ষা এমন হওয়া উচিত নয় যে একটি জনগোষ্ঠী সমৃদ্ধ হয়েছিল আর অন্য একটি জনগোষ্ঠী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। বরং মূল শিক্ষা হলো—কোনো সমাজ এমন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা বহন করতে পারে না, যেখানে বিপুলসংখ্যক মানুষ নিজেদের স্থায়ীভাবে সুযোগের বাইরে মনে করে।

উগান্ডা অতীতকে বদলাতে পারবে না। কিন্তু ভবিষ্যৎকে ভিন্নভাবে গড়ে তুলতে পারে। এমন একটি অর্থনীতি তৈরি করা সম্ভব, যেখানে সমৃদ্ধির সুফল বিস্তৃত হবে, সুযোগ সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে এবং প্রতিষ্ঠানগুলো ন্যায্যভাবে কাজ করবে।

তাহলেই ১৯৭২ সালের সেই বেদনাদায়ক অধ্যায়কে শুধু একটি পুরোনো ক্ষত হিসেবে স্মরণ করতে হবে না। বরং সেটি হয়ে উঠতে পারে এমন একটি শিক্ষার উৎস, যা উগান্ডাকে আরও ন্যায়ভিত্তিক, উৎপাদনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির দিকে এগিয়ে নেবে।