যুক্তরাষ্ট্রে সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিতর্ক নতুন মোড় নিয়েছে। ২০১০ সালে চালু হওয়া অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্ট বা ওবামাকেয়ার স্বাস্থ্যবীমার আওতা বাড়ালেও এর ব্যক্তিগত বীমা বাজার এখন আবার চাপের মুখে। ভর্তুকি কমে যাওয়া, প্রিমিয়াম বৃদ্ধি এবং অপেক্ষাকৃত সুস্থ গ্রাহকদের বাজার ছাড়ার কারণে ব্যবস্থাটি আরও দুর্বল হয়ে পড়ছে।
স্বাস্থ্যবীমা বাজারে বড় ধাক্কা
ওবামাকেয়ার যুক্তরাষ্ট্রের প্রচলিত স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে পুরোপুরি বদলে না দিয়ে মেডিকেইডের আওতা বাড়ায় এবং ব্যক্তিদের জন্য এমন অনলাইন বাজার তৈরি করে, যেখানে তারা বিভিন্ন বীমা পরিকল্পনা তুলনা করে কিনতে পারেন। তবে শুরু থেকেই ব্যক্তিগত বাজারে এই ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা ছিল।
২০২১ সালে কংগ্রেস অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তা বাড়ানোর পর বিনিময়ভিত্তিক স্বাস্থ্যবীমায় নিবন্ধন দ্রুত বাড়ে। ২০২৫ সালে এই বাজারে বীমা নেওয়া মানুষের সংখ্যা প্রায় ২১ দশমিক ৮ মিলিয়নে পৌঁছায়। কিন্তু অতিরিক্ত ভর্তুকি ধরে রাখার উদ্যোগ সফল না হওয়ায় এখন পরিস্থিতি পাল্টে গেছে।
নিবন্ধন কমছে, খরচ বাড়ছে
বীমা বিনিময়গুলোতে বর্তমানে গ্রাহকের সংখ্যা কমে ১৯ দশমিক ২ মিলিয়নে দাঁড়িয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। কংগ্রেশনাল বাজেট অফিসের হিসাবে, চলতি বছরের শেষে এ সংখ্যা ১৭ মিলিয়নের নিচে নেমে যেতে পারে। বাজার ছেড়ে যাওয়া অনেকেই নতুন কোনো স্বাস্থ্যবীমা নিচ্ছেন না।
এর ফলে বাজারে তুলনামূলকভাবে অসুস্থ গ্রাহকদের অনুপাত বাড়ছে। চিকিৎসা ব্যয়ও একই সময়ে বেড়েছে। ফলে চলতি বছরে গড় মাসিক প্রিমিয়াম ১১৩ ডলার থেকে বেড়ে ১৭৮ ডলারে উঠেছে। একই সময়ে বীমা কার্যকর হওয়ার আগে গ্রাহককে যে অর্থ নিজে বহন করতে হয়, সেই গড় পরিমাণ প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়ে ৩ হাজার ৮০০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
আরও বড় ঝুঁকি সামনে
এই পরিস্থিতি স্বাস্থ্যবীমা বাজারে একটি নেতিবাচক চক্র তৈরি করতে পারে। বেশি প্রিমিয়াম ও সীমিত সুবিধার পরিকল্পনা অপেক্ষাকৃত সুস্থ মানুষকে আরও বেশি নিরুৎসাহিত করবে। তারা বাজার ছাড়লে অবশিষ্ট গ্রাহকদের চিকিৎসা ব্যয় আরও বাড়বে এবং বীমা কোম্পানিগুলো প্রিমিয়াম বাড়ানোর চাপ অনুভব করবে।
স্বাস্থ্যনীতি বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান কেএফএফের হিসাবে, ২০২৭ সালের জন্য বীমা কোম্পানিগুলো গড়ে ১৫ শতাংশ প্রিমিয়াম বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছে। এর অনুমোদন হলে ভর্তুকি দেওয়ার আগের প্রিমিয়াম ২০২৫ সালের তুলনায় এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি বেড়ে যাবে।
স্বাস্থ্যবীমাহীন মানুষের চাপ বাড়বে
তবে ওবামাকেয়ার বিনিময় ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়বে বলে মনে করছে না কংগ্রেশনাল বাজেট অফিস। ২০২৮ সালের মধ্যে গত বছরের তুলনায় আরও প্রায় ১ কোটি মানুষ এই বাজারের মাধ্যমে স্বাস্থ্যবীমার বাইরে চলে যেতে পারেন। ফলে বাজার ছোট হবে, অংশগ্রহণকারী বীমা কোম্পানির সংখ্যা কমবে এবং অপেক্ষাকৃত অসুস্থ গ্রাহকের অনুপাত বাড়বে।
বীমাহীন মানুষের সংখ্যা বাড়লে চিকিৎসাসেবায়ও চাপ তৈরি হবে। গবেষণায় দেখা গেছে, বীমা না থাকা মানুষ প্রয়োজনীয় ওষুধ কিংবা অস্ত্রোপচারসহ চিকিৎসা পিছিয়ে দিতে পারেন। জরুরি চিকিৎসা অবশ্য হাসপাতালগুলোকে দিতে হয়, রোগীর সামর্থ্য থাকুক বা না থাকুক।
কাউফম্যান হলের তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে এক বছর আগের তুলনায় হাসপাতালগুলোর বিনা পারিশ্রমিকে দেওয়া চিকিৎসাসেবার পরিমাণ গড়ে ১৬ শতাংশ বেড়েছে। এইচসিএ হেলথকেয়ারের হিসাবে, নতুন বীমাহীন জনগোষ্ঠীর কারণে চলতি বছর প্রতিষ্ঠানটির পরিচালন মুনাফায় অন্তত ১০০ কোটি ডলারের প্রভাব পড়তে পারে।
ফলে যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যসেবার সামর্থ্য নিয়ে পুরোনো বিতর্ক আবার সামনে এসেছে। ডেমোক্র্যাটদের একটি নতুন প্রজন্ম এখন সবার জন্য সরকারি স্বাস্থ্যসেবার দাবিকে আরও জোরালো করছে। ওবামাকেয়ারের বর্তমান দুর্বলতা সেই দাবিকে নতুন রাজনৈতিক শক্তি দিতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যবীমা ব্যবস্থায় ভর্তুকি কমে যাওয়ায় প্রিমিয়াম বাড়ছে, গ্রাহক কমছে এবং বীমাহীন মানুষের সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















