০৭:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬
গণহত্যার বিচার অধরাই রেখে হেগে ফেলিসিয়েন কাবুগার মৃত্যু বিশ্বের বৃহত্তম পাইলট প্রশিক্ষণকেন্দ্র সম্প্রসারণের প্রথম ধাপ শেষ করল ইউনাইটেড নারী বাস্কেটবল কেন মার্কিন রক্ষণশীলদের সংস্কৃতিযুদ্ধের নতুন মঞ্চ খনিজের গণ্ডি পেরিয়ে: নামিবিয়ার শিল্পায়নে পুঁজির নতুন পথ ওবামাকেয়ারের দুর্বলতা বাড়ছে, যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যবীমা সংকট তীব্র ব্রিটিশ ভারত ভাগ: স্মৃতি, দায়বদ্ধতা ও ভাষায় প্রকাশের অতীত এক শোক মিডটার্ম নির্বাচনে রিপাবলিকানদের ১ বিলিয়ন ডলারের তহবিল, তবু ট্রাম্পের অর্থ ছাড় নিয়ে অনিশ্চয়তা জেন-জি থেকে জেন-আলফা: তরুণদের ক্ষোভ কি আসলে ব্যর্থ ব্যবস্থার বিরুদ্ধে? কোয়ান্টাম জগতের কোয়ান্টাম কমপিউটিং আগুন নেভাতে সুপারম্যান সেজে মাঠে ১৭ বছরের কিশোর

৩ লাখ ৬৫ হাজার টন সার কিনবে সরকার, ব্যয় ২ হাজার ৫৬২ কোটি টাকা

কৃষকের চাহিদা অনুযায়ী সারের পর্যাপ্ত মজুত ও সময়মতো সরবরাহ নিশ্চিত করতে সৌদি আরব, রাশিয়া, মরক্কো, কানাডা ও দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদক প্রতিষ্ঠান কাফকো থেকে মোট ৩ লাখ ৬৫ হাজার টন সার কেনার অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এসব সার সংগ্রহে ব্যয় হবে প্রায় ২ হাজার ৫৬২ কোটি টাকা।

সোমবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির (সিসিজিপি) বৈঠকে এসব প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়।

কেনা হবে ইউরিয়া, এমওপি, ডিএপি ও টিএসপি

অনুমোদিত মোট সারের মধ্যে রয়েছে ৮০ হাজার টন ইউরিয়া, ১ লাখ ১৫ হাজার টন এমওপি, ৮০ হাজার টন ডিএপি এবং ৬০ হাজার টন টিএসপি।

সৌদি আরবের সাবিক অ্যাগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস কোম্পানি থেকে ৪০ হাজার টন গ্র্যানুলার ইউরিয়া কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ১৮৮ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। প্রতি টনের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৮০ দশমিক ৮৩ মার্কিন ডলার।

রাশিয়ার জেএসসি ফরেন ইকোনমিক করপোরেশন (প্রোডিনটর্গ) থেকে সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) চুক্তির আওতায় ৩৫ হাজার টন এমওপি সার কেনা হবে। এতে ব্যয় হবে ১৬৬ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। প্রতি টনের দাম ৩৮৩ দশমিক ৮০ ডলার।

মরক্কো থেকে দুই দফায় ডিএপি

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের সঙ্গে মরক্কোর ওসিপি নিউট্রিক্রপসের জিটুজি ব্যবস্থার আওতায় ৪০ হাজার টন করে দুই লটে মোট ৮০ হাজার টন ডিএপি সার কেনা হবে। চতুর্থ লটের জন্য ব্যয় হবে ৪৪৩ কোটি ৬ লাখ টাকা এবং পঞ্চম লটের জন্য ৪৪২ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। উভয় লটের প্রতি টন ডিএপির দাম ৮৯৪ ডলার।

একই প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে দুই লটে ৩০ হাজার টন করে মোট ৬০ হাজার টন টিএসপি সারও কেনা হবে। পঞ্চম লটের জন্য ব্যয় হবে ২৫২ কোটি ১ লাখ টাকা, প্রতি টনের দাম ৬৭৮ ডলার। ষষ্ঠ লটের ব্যয় হবে ২৪৮ কোটি ২০ লাখ টাকা, প্রতি টনের দাম ৬৬৮ ডলার।

কানাডা ও সৌদি আরব থেকেও সার

কানাডিয়ান কমার্শিয়াল করপোরেশন থেকে জিটুজি চুক্তির আওতায় ৪০ হাজার টন করে দুই লটে মোট ৮০ হাজার টন এমওপি সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রথম লটে ব্যয় হবে ১৯০ কোটি ১৩ লাখ টাকা এবং দ্বিতীয় লটে ১৮৯ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। উভয় লটের প্রতি টনের দাম ৩৮৩ দশমিক ৮০ ডলার।

এ ছাড়া সৌদি আরবের মা’আদেন থেকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের চুক্তির আওতায় ৪০ হাজার টন ডিএপি সার কেনা হবে। এতে ব্যয় হবে ৪৪০ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। প্রতি টনের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৮৯১ ডলার।

কাফকো থেকে ৩০ হাজার টন ইউরিয়া

দেশীয় প্রতিষ্ঠান কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো) থেকেও ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৩০ হাজার টন ব্যাগজাত গ্র্যানুলার ইউরিয়া কেনার অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। দ্বিতীয় লটের এই ইউরিয়া কিনতে ব্যয় হবে ১৩৩ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। প্রতি টনের দাম ধরা হয়েছে ৩৫৯ দশমিক ৫০ ডলার। এর মধ্যে এফওবি মূল্য ৩৫৪ দশমিক ৫০ ডলার এবং ব্যাগজাত করার খরচ ৫ ডলার।

সরকারের লক্ষ্য কৃষকের সময়মতো সার সরবরাহ

সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির কাছে উপস্থাপিত সব প্রস্তাবই অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছিল। কৃষির গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ সারের পর্যাপ্ত মজুত বজায় রাখা এবং কৃষকদের কাছে সময়মতো সরবরাহ নিশ্চিত করার সরকারি উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এসব সার কেনা হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

গণহত্যার বিচার অধরাই রেখে হেগে ফেলিসিয়েন কাবুগার মৃত্যু

৩ লাখ ৬৫ হাজার টন সার কিনবে সরকার, ব্যয় ২ হাজার ৫৬২ কোটি টাকা

০৬:৩৬:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

কৃষকের চাহিদা অনুযায়ী সারের পর্যাপ্ত মজুত ও সময়মতো সরবরাহ নিশ্চিত করতে সৌদি আরব, রাশিয়া, মরক্কো, কানাডা ও দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদক প্রতিষ্ঠান কাফকো থেকে মোট ৩ লাখ ৬৫ হাজার টন সার কেনার অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এসব সার সংগ্রহে ব্যয় হবে প্রায় ২ হাজার ৫৬২ কোটি টাকা।

সোমবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির (সিসিজিপি) বৈঠকে এসব প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়।

কেনা হবে ইউরিয়া, এমওপি, ডিএপি ও টিএসপি

অনুমোদিত মোট সারের মধ্যে রয়েছে ৮০ হাজার টন ইউরিয়া, ১ লাখ ১৫ হাজার টন এমওপি, ৮০ হাজার টন ডিএপি এবং ৬০ হাজার টন টিএসপি।

সৌদি আরবের সাবিক অ্যাগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস কোম্পানি থেকে ৪০ হাজার টন গ্র্যানুলার ইউরিয়া কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ১৮৮ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। প্রতি টনের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৮০ দশমিক ৮৩ মার্কিন ডলার।

রাশিয়ার জেএসসি ফরেন ইকোনমিক করপোরেশন (প্রোডিনটর্গ) থেকে সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) চুক্তির আওতায় ৩৫ হাজার টন এমওপি সার কেনা হবে। এতে ব্যয় হবে ১৬৬ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। প্রতি টনের দাম ৩৮৩ দশমিক ৮০ ডলার।

মরক্কো থেকে দুই দফায় ডিএপি

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের সঙ্গে মরক্কোর ওসিপি নিউট্রিক্রপসের জিটুজি ব্যবস্থার আওতায় ৪০ হাজার টন করে দুই লটে মোট ৮০ হাজার টন ডিএপি সার কেনা হবে। চতুর্থ লটের জন্য ব্যয় হবে ৪৪৩ কোটি ৬ লাখ টাকা এবং পঞ্চম লটের জন্য ৪৪২ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। উভয় লটের প্রতি টন ডিএপির দাম ৮৯৪ ডলার।

একই প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে দুই লটে ৩০ হাজার টন করে মোট ৬০ হাজার টন টিএসপি সারও কেনা হবে। পঞ্চম লটের জন্য ব্যয় হবে ২৫২ কোটি ১ লাখ টাকা, প্রতি টনের দাম ৬৭৮ ডলার। ষষ্ঠ লটের ব্যয় হবে ২৪৮ কোটি ২০ লাখ টাকা, প্রতি টনের দাম ৬৬৮ ডলার।

কানাডা ও সৌদি আরব থেকেও সার

কানাডিয়ান কমার্শিয়াল করপোরেশন থেকে জিটুজি চুক্তির আওতায় ৪০ হাজার টন করে দুই লটে মোট ৮০ হাজার টন এমওপি সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রথম লটে ব্যয় হবে ১৯০ কোটি ১৩ লাখ টাকা এবং দ্বিতীয় লটে ১৮৯ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। উভয় লটের প্রতি টনের দাম ৩৮৩ দশমিক ৮০ ডলার।

এ ছাড়া সৌদি আরবের মা’আদেন থেকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের চুক্তির আওতায় ৪০ হাজার টন ডিএপি সার কেনা হবে। এতে ব্যয় হবে ৪৪০ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। প্রতি টনের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৮৯১ ডলার।

কাফকো থেকে ৩০ হাজার টন ইউরিয়া

দেশীয় প্রতিষ্ঠান কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো) থেকেও ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৩০ হাজার টন ব্যাগজাত গ্র্যানুলার ইউরিয়া কেনার অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। দ্বিতীয় লটের এই ইউরিয়া কিনতে ব্যয় হবে ১৩৩ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। প্রতি টনের দাম ধরা হয়েছে ৩৫৯ দশমিক ৫০ ডলার। এর মধ্যে এফওবি মূল্য ৩৫৪ দশমিক ৫০ ডলার এবং ব্যাগজাত করার খরচ ৫ ডলার।

সরকারের লক্ষ্য কৃষকের সময়মতো সার সরবরাহ

সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির কাছে উপস্থাপিত সব প্রস্তাবই অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছিল। কৃষির গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ সারের পর্যাপ্ত মজুত বজায় রাখা এবং কৃষকদের কাছে সময়মতো সরবরাহ নিশ্চিত করার সরকারি উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এসব সার কেনা হচ্ছে।