ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য থেকে হঠাৎ নেমে আসা উজানের পানিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী তিনটি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রায় ২৫০ হেক্টর কৃষিজমি পানির নিচে চলে গেছে এবং কয়েক ডজন পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
আখাউড়ার মোগড়া, দক্ষিণ ও মণিয়ন্দা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় আকস্মিকভাবে পানি বাড়তে থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের হিসাবে বর্তমানে প্রায় ৩২টি পরিবার পানিবন্দি রয়েছে। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, জলাবদ্ধ হয়ে পড়া পরিবারের সংখ্যা প্রায় ৪০।
হঠাৎ উজানের পানিতে তলিয়ে গেছে বসতভিটা
সরেজমিনে দেখা গেছে, আবদুল্লাহপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশের রাজিপুর খাল দিয়ে পানি ঢুকে আশপাশের এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। দক্ষিণ ইউনিয়নের কালিকাপুর, কেন্দুবাই, রহিমপুর ও রাজেন্দ্রপুর গ্রামের বিস্তীর্ণ কৃষিজমি পানিতে ডুবে গেছে। কয়েকটি বসতবাড়িতেও পানি প্রবেশ করেছে।
আখাউড়া স্থলবন্দরের বিপরীতে একটি আমদানি-রপ্তানি কার্যালয়েও পানি ঢুকে পড়েছে। পাশের একটি চায়ের দোকান ও হোটেলে পানি ওঠায় সেগুলোর কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হয়েছে।
রাজেন্দ্রপুর গ্রামের বাসিন্দা আবু হানিফ বলেন, ভারত থেকে হঠাৎ পানি নেমে আসায় স্থানীয়দের বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, পুকুর ও কৃষিজমি ডুবে গেছে, অথচ এলাকায় বৃষ্টিপাত হয়নি। উজান থেকে আকস্মিকভাবেই পানি নেমে এসেছে।
দক্ষিণ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য জহির মিয়া জানান, রহিমপুর, কেন্দুবাই ও বেঙ্গাছড় গ্রামের অনেক বাড়িঘর ও কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে গেছে। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের জন্য জাজি নদী ও আশপাশের খালগুলো পরিষ্কার করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
ফসল নিয়ে এখনো বড় ক্ষতির আশঙ্কা কম
আখাউড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা জানান, আখাউড়া পৌরসভা, মোগড়া ও দক্ষিণ ইউনিয়ন এলাকায় প্রায় ২৫ হেক্টর কৃষিজমি প্লাবিত হয়েছে। তবে পানি দ্রুত নেমে গেলে ফসলের বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা কম বলে তিনি জানান।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাপসী রাবেয়া বলেন, আকস্মিক পাহাড়ি ঢলের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতি প্রশাসন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। পানির উচ্চতা বাড়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
তিনি জানান, সীমান্তবর্তী এলাকার কয়েকটি বিদ্যালয় প্রয়োজনে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত পানিবন্দি কোনো পরিবার আশ্রয়কেন্দ্রে যায়নি। পরিস্থিতি খারাপ হলে বিতরণের জন্য ত্রাণসামগ্রীও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















