চীনের বিরুদ্ধে ভারতের গোয়েন্দা তৎপরতা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে স্বাভাবিক ও নিয়মিত চীনা কর্মকাণ্ডকে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ক্রমেই হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করায় দুই দেশের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি ও ভুল সিদ্ধান্তের ঝুঁকি বাড়ছে বলে সতর্ক করেছেন এক চীনা গবেষক।
একতরফা পাল্টা পদক্ষেপের আশঙ্কা
চীনা গবেষকের মতে, ভারত যদি চীনের স্বাভাবিক কর্মকাণ্ডকেও নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে বিবেচনা করতে শুরু করে, তাহলে নয়াদিল্লি পরিস্থিতির ভুল ব্যাখ্যা করে বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে একতরফা পাল্টা ব্যবস্থা নিতে পারে। এর ফলে দুই দেশের মধ্যকার উত্তেজনা আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মাকাও ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির গবেষক ঝাও রুওশি এ বিষয়ে সতর্ক করেছেন। তিনি ২০২০ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত চীনকে কেন্দ্র করে ভারতের গোয়েন্দা তৎপরতা বিশ্লেষণ করে একটি গবেষণাপত্রে এসব মন্তব্য করেন।
সম্পর্কের অবনতির পর নজরদারি বৃদ্ধি
গবেষণায় বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারত ও চীনের সম্পর্কের অবনতি ঘটার সঙ্গে সঙ্গে চীনকে ঘিরে ভারতের গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের কার্যক্রমও জোরদার হয়েছে।

ঝাওয়ের গবেষণাপত্রটি গত ৩১ জুলাই চীনা ভাষার একটি গোয়েন্দাবিষয়ক সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়। সাময়িকীটি শানসি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ইনফরমেশনের পরিচালনায় প্রকাশিত হয়।
চীন ও ভারতের মধ্যে সীমান্ত ও কৌশলগত প্রতিযোগিতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে গোয়েন্দা তথ্যের ভুল ব্যাখ্যা বা অতিরিক্ত সন্দেহ থেকে কোনো পক্ষ দ্রুত সিদ্ধান্ত নিলে তা বড় ধরনের কূটনৈতিক বা নিরাপত্তাজনিত সংকট তৈরি করতে পারে।
চীনা গবেষকের সতর্কবার্তার মূল বিষয় হলো, গোয়েন্দা তৎপরতা নিজে যতটা ঝুঁকিপূর্ণ নয়, তার চেয়ে বেশি বিপজ্জনক হতে পারে সংগৃহীত তথ্যের ভুল ব্যাখ্যা এবং তার ভিত্তিতে নেওয়া তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















