ভারতশাসিত জম্মু ও কাশ্মীরে একের পর এক জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণকে ঘিরে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। অঞ্চলটিতে বর্তমানে সাতটি বাঁধ প্রকল্পের কাজ চলমান। এর মধ্যেই স্থানীয় বাসিন্দাদের বারবার আকস্মিক মেঘভাঙা বৃষ্টি, বন্যা ও ভূমিধসের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
কাশ্মীরের কিশতওয়ার জেলার বাসিন্দা ও স্থানীয় ব্যবসায়ী ইকবাল আহমদ জানান, গত ১ আগস্ট আকস্মিক বন্যায় এলাকার পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। বন্যার পানিতে সড়কগুলো তলিয়ে যায় এবং প্রবল বজ্রঝড়ের কারণে ঘরবাড়ি ও দোকানপাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
পাহাড়ি অঞ্চলে বাড়ছে উদ্বেগ
জম্মু ও কাশ্মীরের দুর্গম পাহাড়ি এলাকাগুলোতে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে ভারত সরকার দীর্ঘদিন ধরে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প সম্প্রসারণ করে আসছে। তবে স্থানীয়দের আশঙ্কা, বড় বাঁধ ও জলবিদ্যুৎ অবকাঠামোর বিস্তার পাহাড়ি পরিবেশের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করতে পারে।
বিশেষ করে যেসব এলাকায় ভূমিধস, আকস্মিক বন্যা ও মেঘভাঙা বৃষ্টির ঘটনা নিয়মিত ঘটছে, সেখানে বড় ধরনের নির্মাণকাজ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।
দুর্যোগের মধ্যেই বাঁধ নির্মাণ
চেনাব নদীকে ঘিরে কাশ্মীরে বেশ কয়েকটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প গড়ে উঠছে। এই নদী ভারতশাসিত কাশ্মীর থেকে পাকিস্তানের দিকে প্রবাহিত হওয়ায় এর পানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সংবেদনশীলতা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্বেগের মূল বিষয় হলো, প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ একটি অঞ্চলে বাঁধ নির্মাণ ও পাহাড় কেটে অবকাঠামো তৈরির ফলে ভবিষ্যতে দুর্যোগের মাত্রা আরও বাড়তে পারে কি না।
জলবিদ্যুৎ উৎপাদন ভারতের জ্বালানি চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ হলেও কাশ্মীরের ভঙ্গুর পাহাড়ি পরিবেশ, স্থানীয় মানুষের নিরাপত্তা এবং আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে প্রকল্পগুলোর প্রভাব নতুন করে মূল্যায়নের দাবি জোরালো হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















