তিউনিসিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর বেন গেরদেনে অভিবাসীবাহী একটি নৌকা ডুবে অন্তত ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত দুই দিনে সমুদ্র থেকে উদ্ধার করা এসব মরদেহ স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তবে সব মরদেহ একই নৌকাডুবির ঘটনার কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
নৌকাডুবির পর শোক ও ক্ষোভ
সপ্তাহান্তে ডুবে যাওয়া নৌকাটিতে একই পরিবারের সাতজন সদস্য ছিলেন বলে জানা গেছে। মর্মান্তিক এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বেন গেরদেনে শোকের পাশাপাশি তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। রোববার রাতে শহরটিতে বিক্ষোভ শুরু হলে পরিস্থিতি সহিংস রূপ নেয়।
বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করেন। তাদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা, কর্মসংস্থানের সংকট এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের অভাব তরুণদের ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথে ইউরোপে পাড়ি দিতে বাধ্য করছে।

পরিচয় শনাক্তে চলছে পরীক্ষা
তিউনিসিয়ার মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ সংস্থার প্রধান মোস্তফা আবদেলকেবির জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর পরিচয় শনাক্ত করতে বংশগত পরীক্ষা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে কতজন ওই নৌকায় ছিলেন, তা নির্ধারণের চেষ্টা চলছে।
একই সঙ্গে নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে সমুদ্রে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইউরোপমুখী যাত্রায় কড়াকড়ি
একসময় ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে যাওয়া অভিবাসীদের অন্যতম প্রধান যাত্রাবিন্দু ছিল তিউনিসিয়া। তবে গত দুই বছরে দেশটি থেকে অভিবাসীদের সমুদ্রযাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এর পেছনে রয়েছে কঠোর দমন অভিযান এবং সমুদ্রপথে বাড়ানো নজরদারি।
ইউরোপীয় অর্থায়নে তিউনিসিয়ার সীমান্ত ও সমুদ্র নজরদারি ব্যবস্থা আরও আধুনিক করা হয়েছে। বিশেষ করে ইতালির সহায়তায় সীমান্ত পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা হয়েছে।
মানবাধিকার নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ
অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে তিউনিসিয়ার সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের চুক্তি নিয়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মধ্যেও উদ্বেগ রয়েছে। গত মাসে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ কয়েক ডজন মানবাধিকার ও মানবিক সহায়তা সংস্থা অভিযোগ করে, এই চুক্তি তিউনিসিয়ায় অভিবাসী ও আশ্রয়প্রার্থীদের ওপর গুরুতর নির্যাতন ও অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাকে আরও স্বাভাবিক করে তুলেছে।
নৌকাডুবির সর্বশেষ ঘটনাটি তিউনিসিয়ায় অভিবাসন সংকটের গভীরতা এবং উন্নত জীবন ও কাজের আশায় তরুণদের ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রযাত্রার করুণ বাস্তবতাকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















