ইংল্যান্ডে জরায়ুমুখের ক্যানসার শনাক্তকরণ পরীক্ষা থেকে বাদ পড়া নারীদের জন্য এবার ঘরে বসে পরীক্ষার সুযোগ চালু করছে জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা কর্তৃপক্ষ। আগামী এক বছরে প্রায় ৪০ লাখ নারীকে বিনা মূল্যে মানব প্যাপিলোমা ভাইরাসের ঝুঁকি শনাক্ত করার পরীক্ষার কিট দেওয়া হবে।
যেসব নারী নিয়মিত জরায়ুমুখের ক্যানসার পরীক্ষা করাননি, তাদের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা অ্যাপ, খুদে বার্তা, ই-মেইল কিংবা ডাকযোগে কিট সংগ্রহের আমন্ত্রণ জানানো হবে। বাড়িতে নমুনা সংগ্রহ করে তা স্বাস্থ্যসেবা কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাতে হবে।
কেন এই পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ
জরায়ুমুখের ক্যানসারের প্রায় সব ক্ষেত্রেই উচ্চঝুঁকির মানব প্যাপিলোমা ভাইরাসের সংক্রমণের সম্পর্ক রয়েছে। তবে শরীরে এই ভাইরাস পাওয়া গেলেই যে ক্যানসার হবে, এমন নয়। বরং ভাইরাস শনাক্ত হলে পরবর্তী পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার মাধ্যমে ক্যানসারের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পরীক্ষার জন্য যোগ্য প্রায় এক-তৃতীয়াংশ নারী নিয়মিত এই সুযোগ গ্রহণ করছেন না। অনেকের ক্ষেত্রে সময়ের অভাব, অস্বস্তি বা লজ্জার মতো বিষয় পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
ক্যানসারের অভিজ্ঞতা থেকে সতর্কবার্তা
৩৯ বছর বয়সী জেম সোফিয়ানোস-বুরম্যান ২৮ বছর বয়সে জরায়ুমুখের ক্যানসারে আক্রান্ত হন। কোনো উপসর্গ না থাকায় এবং নিজেকে তরুণ ও সুস্থ মনে করায় তিনি এমন রোগের কথা কল্পনাও করেননি।
পরীক্ষার মাধ্যমে তার ক্যানসার প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত হয়। পরে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ক্যানসার আক্রান্ত কোষ এবং পেট ও শ্রোণির কিছু লসিকাগ্রন্থি অপসারণ করা হয়, যাতে রোগটি ছড়িয়ে পড়তে না পারে।
তার অভিজ্ঞতা থেকে তিনি বলেন, সময়মতো পরীক্ষা করানোই সম্ভবত তার জীবন বাঁচিয়েছে। তাই ঘরে বসে পরীক্ষার সুযোগ আরও বেশি নারীকে এই গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার আওতায় আনবে বলে তিনি আশা করেন।
কীভাবে কাজ করবে কিট
কিটে দীর্ঘ তুলার কাঠির মতো একটি নমুনা সংগ্রহের উপকরণ থাকবে। এটি ব্যবহার করে যোনিপথ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে স্বাস্থ্যসেবা কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাতে হবে।
নমুনায় উচ্চঝুঁকির মানব প্যাপিলোমা ভাইরাস পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট নারীকে পরবর্তী জরায়ুমুখ পরীক্ষা করানোর জন্য আমন্ত্রণ জানানো হবে।

লন্ডনে পরিচালিত পরীক্ষামূলক কার্যক্রমে দেখা গেছে, ঘরে বসে নমুনা দেওয়ার ব্যবস্থা চালু হলে প্রতি ১০ জনে প্রায় একজন নারী নতুন করে পরীক্ষার জন্য এগিয়ে আসতে পারেন। এর ফলে বছরে প্রায় ৪ লাখ অতিরিক্ত নারী পরীক্ষার আওতায় আসতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
২০৪০ সালের মধ্যে ক্যানসার নির্মূলের লক্ষ্য
ইংল্যান্ডে ২৪ থেকে ৬৪ বছর বয়সী নারীদের সাধারণত প্রতি পাঁচ বছর পর জরায়ুমুখের ক্যানসার পরীক্ষা করানোর জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়। মানব প্যাপিলোমা ভাইরাস শনাক্ত হলে আরও ঘন ঘন পরীক্ষা প্রয়োজন হতে পারে।
কিশোর-কিশোরীদের মানব প্যাপিলোমা ভাইরাসের টিকা দেওয়া এবং উন্নততর পরীক্ষাব্যবস্থার সমন্বয়ে ২০৪০ সালের মধ্যে জরায়ুমুখের ক্যানসার নির্মূলের লক্ষ্য নিয়েছে জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা কর্তৃপক্ষ।
তবে কর্তৃপক্ষ বলছে, স্বাস্থ্যকর্মীর মাধ্যমে সরাসরি জরায়ুমুখ পরীক্ষা এখনো ক্যানসার প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি। তাই আগের পরীক্ষার সময় পেরিয়ে গেলেও নারীদের যত দ্রুত সম্ভব পরীক্ষার জন্য এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















