০৬:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬
ইরান যুদ্ধে সমর্থন কমছে, ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা ৩৩ শতাংশেই আটকে রুপির দর আরও শক্তিশালী, ডলারের বিপরীতে সামান্য ঊর্ধ্বগতি সৌদি আরব-ফ্রান্সের প্রতিরক্ষা ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে নতুন চুক্তি সন্ত্রাসী রাষ্ট্রের তালিকা থেকে সিরিয়াকে বাদ দিল যুক্তরাষ্ট্র রাষ্ট্র পাশে আছে—কিন্তু কার পাশে? রাশিয়ার জ্বালানি সংকট কি ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ত্বরান্বিত করতে পারে? সনি এক্সপেরিয়া ১০ অষ্টমী: পিক্সেল ১০এ-কে যে হার্ডওয়্যার শিক্ষা দিল ইরানবিরোধী নিষেধাজ্ঞায় আরও চার ভারতীয় কোম্পানি যুক্ত করল যুক্তরাষ্ট্র উপকূলের পানিতে লবণাক্ততা, বাড়ছে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি যুদ্ধের ছয় মাসে যুদ্ধকবলিত দেশ থেকেই আসছে বিশ্বের প্রায় অর্ধেক তেল

দক্ষিণ চীন সাগরে উত্তেজনার মধ্যে ড্রোন সক্ষমতা বাড়াচ্ছে ফিলিপাইন

দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়ার মধ্যে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা আধুনিকায়নে ড্রোনের ব্যবহার আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে ফিলিপাইন। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী গিলবার্তো তেওদোরো মঙ্গলবার জানিয়েছেন, নজরদারি ও গোয়েন্দা কার্যক্রমের পাশাপাশি সামরিক অভিযানে ড্রোনের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে নতুন প্রযুক্তি, যোগাযোগব্যবস্থা ও দক্ষতা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বহিরাগত নিরাপত্তায় বাড়ছে গুরুত্ব

ফিলিপাইন দীর্ঘদিন ধরে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা হুমকিকে সামরিক পরিকল্পনার অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে দেখলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পরিস্থিতি বদলেছে। দক্ষিণ চীন সাগরে বেইজিংয়ের সঙ্গে বিরোধপূর্ণ জলসীমা ও সামুদ্রিক স্থাপনা ঘিরে মুখোমুখি অবস্থান বাড়ায় এখন দেশের সামরিক কৌশলে বহিরাগত নিরাপত্তা বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, ড্রোনের পাশাপাশি আরও পরিচালিত ক্ষেপণাস্ত্রবাহী করভেট যুদ্ধজাহাজ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহের পরিকল্পনাও রয়েছে।

ড্রোনের জন্য বড় বরাদ্দ

২০২৭ সালের জন্য ফিলিপাইনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বাজেট ৬ দশমিক ৩ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। চলতি বছরের ৩০ হাজার ৫৫০ কোটি পেসোর অনুমোদিত ব্যয়ের তুলনায় আগামী বছরের প্রস্তাবিত বরাদ্দ আরও বেশি।

দেশটির সামরিক আধুনিকায়ন কর্মসূচির জন্য আগামী বছর ৫ হাজার কোটি পেসো বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা চলতি বাজেটের তুলনায় ২৫ শতাংশ বেশি। এই অর্থের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ড্রোন সক্ষমতা বাড়াতে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।

বর্তমানে ফিলিপাইনের সশস্ত্র বাহিনী এমন একাধিক চালকবিহীন আকাশযান ব্যবহার করছে, যেগুলো গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, নজরদারি ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সহায়তা করে।Philippines-U.S. asymmetric capabilities effort raises Manila's maritime  security with sea drones – Indo-Pacific Defense FORUM

শুধু ড্রোন কিনলেই হবে না

তেওদোরোর মতে, ড্রোন সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে শুধু নতুন যন্ত্র কেনাই যথেষ্ট নয়। এগুলোকে সামরিক কার্যক্রমের সঙ্গে কীভাবে সমন্বিত করা হবে, কীভাবে পাওয়া তথ্য কাজে লাগানো হবে এবং নিরাপদ যোগাযোগব্যবস্থার মাধ্যমে কীভাবে পুরো ব্যবস্থাকে পরিচালনা করা হবে—এসব বিষয়ও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, ড্রোন ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা, পারস্পরিক সংযোগ এবং পরিচালনাগত দক্ষতা তৈরি করাই এখন বড় অগ্রাধিকার। বিশেষ করে নিরাপদ যোগাযোগ ও তথ্য নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

কোন ধরনের ড্রোন বা প্রযুক্তি কেনার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে, সে বিষয়ে অবশ্য বিস্তারিত জানাতে রাজি হননি প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য, এসব তথ্য অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং ফাঁস হলে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-নির্ভর প্রযুক্তির ক্ষেত্রে।

ইউক্রেনের সঙ্গেও প্রযুক্তি সহযোগিতার আলোচনা

ড্রোন প্রযুক্তি নিয়ে ফিলিপাইন কয়েকটি দেশের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। এর মধ্যে ইউক্রেনের সঙ্গেও সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে।

ফিলিপাইনে নিযুক্ত ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূত ইউলিয়া ফেদিভ জুন মাসে জানিয়েছিলেন, ড্রোন প্রযুক্তিতে সহযোগিতা নিয়ে কিয়েভ ও ম্যানিলার মধ্যে আলোচনা চলছে।

এদিকে একই মাসে যুক্তরাষ্ট্র ফিলিপাইনের সামুদ্রিক নজরদারি সক্ষমতা বাড়াতে দেশটির সামরিক বাহিনীকে চারটি সৌরশক্তিচালিত সামুদ্রিক ড্রোন দিয়েছে।

দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের সঙ্গে বিরোধ আরও তীব্র হলে ফিলিপাইনের সামরিক আধুনিকায়নে ড্রোন প্রযুক্তির গুরুত্ব যে আরও বাড়বে, সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলোতে তারই ইঙ্গিত মিলছে।

ফিলিপাইনের এই উদ্যোগ একদিকে যেমন দেশটির প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনার অংশ, অন্যদিকে দক্ষিণ চীন সাগরে দ্রুত পরিবর্তনশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতির সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরান যুদ্ধে সমর্থন কমছে, ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা ৩৩ শতাংশেই আটকে

দক্ষিণ চীন সাগরে উত্তেজনার মধ্যে ড্রোন সক্ষমতা বাড়াচ্ছে ফিলিপাইন

০৫:২৯:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬

দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়ার মধ্যে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা আধুনিকায়নে ড্রোনের ব্যবহার আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে ফিলিপাইন। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী গিলবার্তো তেওদোরো মঙ্গলবার জানিয়েছেন, নজরদারি ও গোয়েন্দা কার্যক্রমের পাশাপাশি সামরিক অভিযানে ড্রোনের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে নতুন প্রযুক্তি, যোগাযোগব্যবস্থা ও দক্ষতা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বহিরাগত নিরাপত্তায় বাড়ছে গুরুত্ব

ফিলিপাইন দীর্ঘদিন ধরে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা হুমকিকে সামরিক পরিকল্পনার অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে দেখলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পরিস্থিতি বদলেছে। দক্ষিণ চীন সাগরে বেইজিংয়ের সঙ্গে বিরোধপূর্ণ জলসীমা ও সামুদ্রিক স্থাপনা ঘিরে মুখোমুখি অবস্থান বাড়ায় এখন দেশের সামরিক কৌশলে বহিরাগত নিরাপত্তা বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, ড্রোনের পাশাপাশি আরও পরিচালিত ক্ষেপণাস্ত্রবাহী করভেট যুদ্ধজাহাজ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহের পরিকল্পনাও রয়েছে।

ড্রোনের জন্য বড় বরাদ্দ

২০২৭ সালের জন্য ফিলিপাইনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বাজেট ৬ দশমিক ৩ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। চলতি বছরের ৩০ হাজার ৫৫০ কোটি পেসোর অনুমোদিত ব্যয়ের তুলনায় আগামী বছরের প্রস্তাবিত বরাদ্দ আরও বেশি।

দেশটির সামরিক আধুনিকায়ন কর্মসূচির জন্য আগামী বছর ৫ হাজার কোটি পেসো বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা চলতি বাজেটের তুলনায় ২৫ শতাংশ বেশি। এই অর্থের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ড্রোন সক্ষমতা বাড়াতে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।

বর্তমানে ফিলিপাইনের সশস্ত্র বাহিনী এমন একাধিক চালকবিহীন আকাশযান ব্যবহার করছে, যেগুলো গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, নজরদারি ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সহায়তা করে।Philippines-U.S. asymmetric capabilities effort raises Manila's maritime  security with sea drones – Indo-Pacific Defense FORUM

শুধু ড্রোন কিনলেই হবে না

তেওদোরোর মতে, ড্রোন সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে শুধু নতুন যন্ত্র কেনাই যথেষ্ট নয়। এগুলোকে সামরিক কার্যক্রমের সঙ্গে কীভাবে সমন্বিত করা হবে, কীভাবে পাওয়া তথ্য কাজে লাগানো হবে এবং নিরাপদ যোগাযোগব্যবস্থার মাধ্যমে কীভাবে পুরো ব্যবস্থাকে পরিচালনা করা হবে—এসব বিষয়ও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, ড্রোন ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা, পারস্পরিক সংযোগ এবং পরিচালনাগত দক্ষতা তৈরি করাই এখন বড় অগ্রাধিকার। বিশেষ করে নিরাপদ যোগাযোগ ও তথ্য নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

কোন ধরনের ড্রোন বা প্রযুক্তি কেনার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে, সে বিষয়ে অবশ্য বিস্তারিত জানাতে রাজি হননি প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য, এসব তথ্য অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং ফাঁস হলে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-নির্ভর প্রযুক্তির ক্ষেত্রে।

ইউক্রেনের সঙ্গেও প্রযুক্তি সহযোগিতার আলোচনা

ড্রোন প্রযুক্তি নিয়ে ফিলিপাইন কয়েকটি দেশের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। এর মধ্যে ইউক্রেনের সঙ্গেও সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে।

ফিলিপাইনে নিযুক্ত ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূত ইউলিয়া ফেদিভ জুন মাসে জানিয়েছিলেন, ড্রোন প্রযুক্তিতে সহযোগিতা নিয়ে কিয়েভ ও ম্যানিলার মধ্যে আলোচনা চলছে।

এদিকে একই মাসে যুক্তরাষ্ট্র ফিলিপাইনের সামুদ্রিক নজরদারি সক্ষমতা বাড়াতে দেশটির সামরিক বাহিনীকে চারটি সৌরশক্তিচালিত সামুদ্রিক ড্রোন দিয়েছে।

দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের সঙ্গে বিরোধ আরও তীব্র হলে ফিলিপাইনের সামরিক আধুনিকায়নে ড্রোন প্রযুক্তির গুরুত্ব যে আরও বাড়বে, সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলোতে তারই ইঙ্গিত মিলছে।

ফিলিপাইনের এই উদ্যোগ একদিকে যেমন দেশটির প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনার অংশ, অন্যদিকে দক্ষিণ চীন সাগরে দ্রুত পরিবর্তনশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতির সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত।