০৯:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬
আমদানি নীতিতে বড় পরিবর্তন, এলসি ছাড়াই সীমাহীন মূল্যের চুক্তিতে পণ্য আমদানির সুযোগ মহেশখালীর সাগরে নিউজিল্যান্ডের পরিবারের নৌকাডুবি, নিখোঁজ কিশোর চীনের জে-১০ সিই কিনছে বাংলাদেশ ডেঙ্গুতে আরও ৩ মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ৯০৭; মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮৮ বুধবার বাংলাদেশে পালিত হবে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী, দেশজুড়ে নানা আয়োজন ঢাকা-যশোর রুটে আবার ইউএস-বাংলার ফ্লাইট, ৯ সেপ্টেম্বর থেকে প্রতিদিন দুই ট্রিপ মেঘনা ব্যাংকের ৪০০ কোটি টাকার সাব-অর্ডিনেটেড বন্ড অনুমোদন, মূলধন শক্তিশালী হবে প্রিন্স হ্যারি–মেগানের নতুন ব্রিটেনযাত্রা, পেছনে পড়ে থাকবে আর্চির প্রিয় ‘মুরগির বাড়ি’ বিভক্তির ক্ষত ও হারানো ভালোবাসার গল্পে ‘ম্যায় ওয়াপস আউঙ্গা’ রোহিঙ্গা সংকটে ৮৮ শতাংশ অর্থ জাতিসংঘের হাতে, স্থানীয় এনজিও পায় মাত্র ২.৫ শতাংশ

দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পে বড় পদক্ষেপ, ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি ভারতীয় কোম্পানির হাতে দিচ্ছে সরকার

ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং দেশটির প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা–উদ্ভাবিত সব প্রচলিত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার প্রযুক্তি ভারতীয় প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলোর কাছে হস্তান্তরের অনুমোদন দিয়েছেন। এর ফলে দেশটির বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো নির্ধারিত যোগ্যতা, সনদ ও নিয়ন্ত্রক শর্ত পূরণ করে এসব ক্ষেপণাস্ত্র দেশে উৎপাদন করতে পারবে।

আমদানি নির্ভরতা কমানোর উদ্যোগ

ভারত সরকারের দাবি, এই সিদ্ধান্তের প্রধান লক্ষ্য দেশীয়ভাবে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন দ্রুত বাড়ানো এবং বিদেশি সরবরাহকারীদের ওপর নির্ভরতা কমানো। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানসহ দেশীয় কোম্পানিগুলোকে প্রতিরক্ষা সরবরাহ ব্যবস্থায় আরও বড় ভূমিকা দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রযুক্তি হস্তান্তরের ফলে গবেষণাগারে তৈরি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাগুলোকে দ্রুত শিল্প পর্যায়ের ব্যাপক উৎপাদনে নেওয়া সম্ভব হবে। এতে ভারতের নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্পভিত্তিও আরও শক্তিশালী হবে।

পাকিস্তানের সামরিক সক্ষমতা নিয়েও নজর

ভারতের এই উদ্যোগ এমন এক সময়ে নেওয়া হলো, যখন দেশটির প্রতিবেশী অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র, উপগ্রহভিত্তিক নজরদারি, যোগাযোগ ও নির্ভুল আঘাত হানার সক্ষমতা দ্রুত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

সম্প্রতি প্রকাশিত একটি বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, চীনের সহযোগিতায় পাকিস্তানের মহাকাশ সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে। গত ১৬ মাসে পাকিস্তান ছয়টি উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করেছে। একই সঙ্গে দেশটি নিজস্ব মহাকাশভিত্তিক নজরদারি সক্ষমতা বাড়ানো এবং উপগ্রহ থেকে পাওয়া গোয়েন্দা তথ্যকে স্থলভিত্তিক যোগাযোগ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করছে।

চীন পাকিস্তানের উপগ্রহ উৎক্ষেপণ, প্রযুক্তি উন্নয়ন ও মহাকাশচারী প্রশিক্ষণেও সহযোগিতা করছে বলে ওই বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিরক্ষা উৎপাদনে নতুন লক্ষ্য

এই পরিস্থিতিতে নিজেদের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়ানোকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে ভারত। দেশীয় উৎপাদন বাড়লে সংকটের সময়ে বিদেশি সরবরাহের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের উৎপাদন দ্রুত বাড়ানো সম্ভব হবে।

ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নতুন প্রযুক্তি হস্তান্তর কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরে প্রযুক্তিগত মূল্য সংযোজন বাড়বে এবং প্রতিরক্ষা উৎপাদন খাতের বিকাশ ত্বরান্বিত হবে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারতের প্রতিরক্ষা উৎপাদন সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫৪ হাজার কোটি রুপিতে পৌঁছেছে। একই সময়ে প্রতিরক্ষা রপ্তানিও রেকর্ড ২৩ হাজার ৬২২ কোটি রুপিতে দাঁড়িয়েছে।

ভারত চলতি অর্থবছরে প্রতিরক্ষা উৎপাদন ১ লাখ ৭৫ হাজার কোটি রুপিতে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়েছে। ২০২৯ সালের মধ্যে সেই উৎপাদন ৩ লাখ কোটি রুপিতে নেওয়ার লক্ষ্যও নির্ধারণ করেছে দেশটির সরকার।

জনপ্রিয় সংবাদ

আমদানি নীতিতে বড় পরিবর্তন, এলসি ছাড়াই সীমাহীন মূল্যের চুক্তিতে পণ্য আমদানির সুযোগ

দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পে বড় পদক্ষেপ, ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি ভারতীয় কোম্পানির হাতে দিচ্ছে সরকার

০৮:১৩:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬

ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং দেশটির প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা–উদ্ভাবিত সব প্রচলিত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার প্রযুক্তি ভারতীয় প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলোর কাছে হস্তান্তরের অনুমোদন দিয়েছেন। এর ফলে দেশটির বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো নির্ধারিত যোগ্যতা, সনদ ও নিয়ন্ত্রক শর্ত পূরণ করে এসব ক্ষেপণাস্ত্র দেশে উৎপাদন করতে পারবে।

আমদানি নির্ভরতা কমানোর উদ্যোগ

ভারত সরকারের দাবি, এই সিদ্ধান্তের প্রধান লক্ষ্য দেশীয়ভাবে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন দ্রুত বাড়ানো এবং বিদেশি সরবরাহকারীদের ওপর নির্ভরতা কমানো। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানসহ দেশীয় কোম্পানিগুলোকে প্রতিরক্ষা সরবরাহ ব্যবস্থায় আরও বড় ভূমিকা দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রযুক্তি হস্তান্তরের ফলে গবেষণাগারে তৈরি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাগুলোকে দ্রুত শিল্প পর্যায়ের ব্যাপক উৎপাদনে নেওয়া সম্ভব হবে। এতে ভারতের নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্পভিত্তিও আরও শক্তিশালী হবে।

পাকিস্তানের সামরিক সক্ষমতা নিয়েও নজর

ভারতের এই উদ্যোগ এমন এক সময়ে নেওয়া হলো, যখন দেশটির প্রতিবেশী অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র, উপগ্রহভিত্তিক নজরদারি, যোগাযোগ ও নির্ভুল আঘাত হানার সক্ষমতা দ্রুত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

সম্প্রতি প্রকাশিত একটি বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, চীনের সহযোগিতায় পাকিস্তানের মহাকাশ সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে। গত ১৬ মাসে পাকিস্তান ছয়টি উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করেছে। একই সঙ্গে দেশটি নিজস্ব মহাকাশভিত্তিক নজরদারি সক্ষমতা বাড়ানো এবং উপগ্রহ থেকে পাওয়া গোয়েন্দা তথ্যকে স্থলভিত্তিক যোগাযোগ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করছে।

চীন পাকিস্তানের উপগ্রহ উৎক্ষেপণ, প্রযুক্তি উন্নয়ন ও মহাকাশচারী প্রশিক্ষণেও সহযোগিতা করছে বলে ওই বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিরক্ষা উৎপাদনে নতুন লক্ষ্য

এই পরিস্থিতিতে নিজেদের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়ানোকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে ভারত। দেশীয় উৎপাদন বাড়লে সংকটের সময়ে বিদেশি সরবরাহের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের উৎপাদন দ্রুত বাড়ানো সম্ভব হবে।

ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নতুন প্রযুক্তি হস্তান্তর কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরে প্রযুক্তিগত মূল্য সংযোজন বাড়বে এবং প্রতিরক্ষা উৎপাদন খাতের বিকাশ ত্বরান্বিত হবে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারতের প্রতিরক্ষা উৎপাদন সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫৪ হাজার কোটি রুপিতে পৌঁছেছে। একই সময়ে প্রতিরক্ষা রপ্তানিও রেকর্ড ২৩ হাজার ৬২২ কোটি রুপিতে দাঁড়িয়েছে।

ভারত চলতি অর্থবছরে প্রতিরক্ষা উৎপাদন ১ লাখ ৭৫ হাজার কোটি রুপিতে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়েছে। ২০২৯ সালের মধ্যে সেই উৎপাদন ৩ লাখ কোটি রুপিতে নেওয়ার লক্ষ্যও নির্ধারণ করেছে দেশটির সরকার।