পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও তেহরিক-ই-ইনসাফের প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানকে শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ অমান্যের অভিযোগে করা আদালত অবমাননার আবেদন আপত্তি তুলে ফেরত দিয়েছে দেশটির সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার কার্যালয়। পরে আপত্তি সংশোধন করে আবেদনটি আবার জমা দিয়েছে ইমরানের দল।
অভিযোগের তালিকা না থাকায় আবেদন ফেরত
ইমরানের বোন উজমা খান গত ২২ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টে আবেদনটি করেছিলেন। এতে আদালতের নির্দেশ অমান্যের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার কার্যক্রম শুরু, কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আদালতে ব্যক্তিগতভাবে হাজির করার দাবি জানানো হয়।
তবে রেজিস্ট্রার কার্যালয় জানায়, আবেদনে বিবাদীদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের তালিকা সংযুক্ত করা হয়নি। এ কারণে আবেদনটি ফেরত দেওয়া হয়। পরে সংশ্লিষ্ট আপত্তি দূর করে পিটিআই নতুন করে আবেদন জমা দেয়।
পিটিআই চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার গওহর জানান, তারা দ্রুত শুনানির জন্য আবেদন করেছেন। তিনি সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রারের সঙ্গে দেখা করে বৃহস্পতিবারের মধ্যেই বিষয়টি শুনানির জন্য বেঞ্চ গঠনের অনুরোধ জানান।
ইমরানের স্বাস্থ্য ও সাক্ষাতের দাবি
গওহর বলেন, ইমরান খানের স্বাস্থ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সুপ্রিম কোর্টের আগের নির্দেশ অনুযায়ী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার সাক্ষাতের সুযোগও নিশ্চিত করা জরুরি।
তিনি জানান, ইমরানের সঙ্গে আগের বৈঠকে যা আলোচনা হয়েছে, পিটিআই তার কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। তাই দলের পক্ষ থেকে আদালতের নির্দেশ মেনে চলার প্রতিশ্রুতিও পূরণ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
শিফার বদলে নেওয়া হয় পিমসে
গত ১৮ আগস্ট সুপ্রিম কোর্ট ইমরান খানকে আদিয়ালা কারাগার থেকে শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা পরীক্ষা করার নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু পরে তাকে পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসে নেওয়া হয়। সেখানে শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালের চিকিৎসকরাও উপস্থিত ছিলেন বলে জানিয়েছেন দেশটির তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার।
এই সিদ্ধান্তকে আদালতের নির্দেশের লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে পিটিআই। অন্যদিকে সরকার বলছে, নিরাপত্তাজনিত কারণেই ইমরানকে শিফার পরিবর্তে পিমসে নেওয়া হয়েছে।
সরকারের ব্যাখ্যা
পার্লামেন্টবিষয়ক মন্ত্রী তারিক ফজল চৌধুরী দাবি করেছেন, ইমরান খানকে পিমসে নেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রশাসন নিয়েছে এবং এর সঙ্গে পাঞ্জাব সরকারের কোনো সম্পর্ক নেই।
তিনি বলেন, ইমরানের চিকিৎসার পাশাপাশি তার নিরাপত্তাও সরকারের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। শিফা ইন্টারন্যাশনালের পরিবর্তে পিমসে নেওয়া হলে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া তৈরি হবে—এ বিষয়টিও সরকার জানত। তবে নিরাপত্তাকেই অগ্রাধিকার দিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
ইমরান খান ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে রয়েছেন। ২০২২ সালের এপ্রিলে অনাস্থা ভোটে প্রধানমন্ত্রিত্ব হারানোর পর তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ও সাজা হয়েছে। ইমরান ও তার দল এসব মামলাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















