দুর্গম ও শত্রুঘেরা এলাকায় অবস্থানরত ছোট ছোট সেনাদলকে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পৌঁছে দিতে চালিত গ্লাইডার ব্যবহারের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর বিশেষ অভিযান বাহিনী। চিকিৎসা সরঞ্জামসহ বিভিন্ন জরুরি সামগ্রী বহন করে এসব গ্লাইডার আকাশপথে সেনাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
আইসল্যান্ডে হবে পরীক্ষামূলক মহড়া
আইসল্যান্ডে চলমান একটি আন্তর্জাতিক সামরিক মহড়ার অংশ হিসেবে বিমানবাহিনীর বিশেষ অভিযান বাহিনীর সদস্যরা মাটিতে থাকা সহকর্মীদের কাছে সরবরাহভর্তি একটি চালিত গ্লাইডার আকাশ থেকে ফেলার পরিকল্পনা করেছেন।
এই মহড়ার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ যুদ্ধে প্রচলিত সরবরাহব্যবস্থা যখন অতিরিক্ত ঝুঁকিপূর্ণ বা অকার্যকর হয়ে পড়বে, তখন কীভাবে দূরবর্তী সেনাদের টিকিয়ে রাখা যায়, তা পরীক্ষা করা হচ্ছে।
বিশেষ করে আর্কটিক অঞ্চল কিংবা অন্যান্য দুর্গম এলাকায় দীর্ঘ দূরত্বের কারণে সেনাদের কাছে নিয়মিতভাবে জাহাজ বা বিমান দিয়ে সরঞ্জাম পৌঁছানো কঠিন হতে পারে। আবার শত্রুর হামলার আশঙ্কাও সরবরাহ কার্যক্রমকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে।
৩৫২তম বিশেষ অভিযান শাখার এক মহড়া কমান্ডার বলেন, বিতর্কিত ও প্রতিকূল পরিবেশে দীর্ঘপাল্লার সরবরাহ কার্যক্রমের প্রশিক্ষণ নেওয়াই তাঁদের অন্যতম লক্ষ্য।

আর্কটিক অঞ্চলকে ঘিরে বাড়ছে গুরুত্ব
যুক্তরাষ্ট্র সাম্প্রতিক সময়ে আর্কটিক বা উত্তরাঞ্চলীয় এলাকাকে কৌশলগতভাবে আরও বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। বরফ গলার কারণে সেখানে নতুন সমুদ্রপথ খুলে যাচ্ছে এবং আগে দুর্গম থাকা জলসীমা ও প্রাকৃতিক সম্পদে প্রবেশাধিকার বাড়ছে।
ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের পাশাপাশি রাশিয়া ও চীনের মধ্যেও এই অঞ্চলকে ঘিরে কৌশলগত প্রতিযোগিতা বাড়ছে।
এমন পরিস্থিতিতে দুর্গম এলাকায় কম দৃশ্যমানভাবে সেনাদের কাছে সরঞ্জাম পৌঁছে দেওয়ার সক্ষমতা বিশেষ অভিযান বাহিনীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
কম প্রযুক্তির গ্লাইডারেও আগ্রহ
পরীক্ষা করা গ্লাইডারটির নির্মাতা বা নির্দিষ্ট মডেলের নাম এখনো প্রকাশ করেনি যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনী।
এর আগে রোমানিয়া ও উত্তর মেসিডোনিয়ায় মার্কিন সেনাবাহিনীর বিশেষ প্রশিক্ষিত সদস্যরা একই ধরনের গ্লাইডার নিয়ে পরীক্ষা চালিয়েছিলেন। বিমান থেকে ছেড়ে দেওয়া এসব গ্লাইডারে নির্মাণসামগ্রী, খাবার ও চিকিৎসা সরঞ্জাম বহন করা হয়েছিল।
‘গ্রাসহপার’ নামের ওই গ্লাইডারে প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম ছিল খুবই সীমিত। এর একটি বড় সুবিধা হলো, এটি খুব কম বৈদ্যুতিন সংকেত নির্গত করে। ফলে শত্রুর নজরদারি ব্যবস্থা এড়িয়ে গোপনে অবস্থানরত সেনাদের কাছে প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এটি কার্যকর হতে পারে।
আইসল্যান্ডের মহড়াকে বিশেষ অভিযান বাহিনী ভবিষ্যতের সম্ভাব্য যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে নিজেদের প্রস্তুতিকে মিলিয়ে নেওয়ার একটি সুযোগ হিসেবে দেখছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















