০৬:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
সন্ত্রাস মামলায় ‘মুখহীন গোপন বিচার’ চায় পাঞ্জাব, সংবিধান নিয়ে উঠছে বড় প্রশ্ন জন্মের চেয়ে মৃত্যু বেশি, জনসংখ্যা কমছে হাঙ্গেরিতে জুলাইয়ে বিদেশি সহায়তা কমেছে ১৩.৪ শতাংশ, ঋণ পরিশোধে বেড়েছে চাপ তিব্বতের বন্যায় ২৩ দেশের ২৬১ বিদেশি নিখোঁজ, নেপালে মৃত ৭৩৪ নেপাল-চীন বন্যায় নিখোঁজ প্রায় ৩ হাজার, মৃত ৬৩৩: চলছে প্রাণপণ উদ্ধার অভিযান কাজাখস্তানের বড় বাজি: অস্থির বিশ্বের মধ্যে স্থিতিশীলতার রাজনীতি গুগলের পাকিস্তান প্রবেশে নতুন বিতর্ক, ৩০ বিলিয়ন ডলারের আইটি রপ্তানি নাকি বড় ডিজিটাল বাজারের লক্ষ্য? ইরানে ফের যুদ্ধের আগুন, ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনা আমদানি উদারীকরণেই বাংলাদেশের রপ্তানি বহুমুখীকরণের নতুন পথ দুর্নীতি দমনে লিঙ্গনিরপেক্ষ তথ্য নয়, দরকার অভিজ্ঞতাভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উপাত্ত

চট্টগ্রামের বন্যা পুনর্বাসনে ব্র্যাককে ১০ কোটি টাকা দিচ্ছে এইচএসবিসি

সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রাম বিভাগের পরিবারগুলোর দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনে ব্র্যাককে ১০ কোটি টাকা সহায়তা দিচ্ছে এইচএসবিসি বাংলাদেশ। সাত মাসের এই পুনর্বাসন কর্মসূচিতে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি ও স্কুল মেরামত, জীবিকা ও কৃষি পুনরুদ্ধার এবং নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা পুনর্বাসনে অর্থ ব্যয় করা হবে।

সরকার-বেসরকারি অংশীদারত্বের উদ্যোগ

চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে রোববার (৩০ আগস্ট) ‘বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য মানবিক সহায়তা ও পুনর্বাসন কর্মসূচি’র উদ্বোধন করেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকার সবসময় প্রথম সাড়ির সাড়া প্রদানকারী হিসেবে জরুরি সহায়তা দেয়। তবে পরবর্তী ধাপে দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নে সরকারি প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি খাত ও এনজিওগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, সম্পদের কার্যকর বণ্টন নিশ্চিত করার পাশাপাশি অপচয় ও দুর্নীতি কমাতে সরকার, বেসরকারি খাত ও এনজিওগুলোর সমন্বয়ে অংশীদারত্বভিত্তিক একটি মডেল তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষা ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সহায়তাসহ দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের বিভিন্ন ক্ষেত্রেও অংশীদারদের সম্মিলিত উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, এইচএসবিসি ও ব্র্যাকের মতো প্রতিষ্ঠান সরকারি উদ্যোগের বাইরে থাকা দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের প্রয়োজনগুলো পূরণে এগিয়ে আসছে। সফল পুনর্বাসনের জন্য এমন সম্মিলিত প্রচেষ্টা গুরুত্বপূর্ণ।

সাত মাসে ঘর, স্কুল ও পানি-স্যানিটেশন পুনর্বাসন

এইচএসবিসি বাংলাদেশের অর্থায়নে ব্র্যাক সাত মাসের পুনর্বাসন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে। কর্মসূচির আওতায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ৩৮ নম্বর ওয়ার্ড, চট্টগ্রামের সাতকানিয়া ও বাঁশখালী এবং কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

কর্মসূচির আওতায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫০টি স্কুল মেরামত ও পুনর্বাসন করা হবে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করা হবে শিক্ষা উপকরণ। একই সঙ্গে ২৫০টি ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি মেরামত বা পুনর্নির্মাণ, ৪০০টি ক্ষতিগ্রস্ত পারিবারিক শৌচাগার মেরামত বা পুনর্নির্মাণ এবং ৩০টি ক্ষতিগ্রস্ত নলকূপ মেরামত ও পুনর্বাসন করা হবে।

জীবিকা ও কৃষিতে সহায়তা

পুনর্বাসন কর্মসূচিতে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ৩০০টি পরিবারকে জীবিকা পুনরুদ্ধারে সহায়তা দেওয়া হবে। পাশাপাশি ৬০০টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ কৃষক পরিবারকে প্রয়োজনভিত্তিক কৃষি উপকরণ দেওয়া হবে।

নারীপ্রধান পরিবার, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি থাকা পরিবার, বয়স্ক মানুষ, গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী নারীসহ অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে কর্মসূচিতে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। দীর্ঘমেয়াদে জলবায়ু-সহনশীল ও টেকসই সমাধানের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জীবন ও জীবিকা পুনর্গঠনের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পানির কারণে চট্টগ্রামসহ ১০টি গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত জেলায় ব্যাপক আকস্মিক বন্যা, ভূমিধস ও দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এতে ১০ লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হন। ক্ষতিগ্রস্ত হয় হাজারো ঘরবাড়ি, স্কুল, পানি ও স্যানিটেশন অবকাঠামো এবং কৃষিজমি। ফলে বহু পরিবারের জন্য জরুরি ত্রাণের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন সহায়তার প্রয়োজন দেখা দেয়।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক স্বরূপ কুমার চৌধুরী, চট্টগ্রাম বিভাগের কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দিন এবং চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিয়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। আরও উপস্থিত ছিলেন এইচএসবিসি বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহবুব উর রহমান এবং ব্র্যাকের জলবায়ু ও পরিবেশগত উদ্ভাবন এবং দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কর্মসূচির পরিচালক ড. মো. লিয়াকত আলী।

জনপ্রিয় সংবাদ

সন্ত্রাস মামলায় ‘মুখহীন গোপন বিচার’ চায় পাঞ্জাব, সংবিধান নিয়ে উঠছে বড় প্রশ্ন

চট্টগ্রামের বন্যা পুনর্বাসনে ব্র্যাককে ১০ কোটি টাকা দিচ্ছে এইচএসবিসি

০৫:১৩:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রাম বিভাগের পরিবারগুলোর দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনে ব্র্যাককে ১০ কোটি টাকা সহায়তা দিচ্ছে এইচএসবিসি বাংলাদেশ। সাত মাসের এই পুনর্বাসন কর্মসূচিতে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি ও স্কুল মেরামত, জীবিকা ও কৃষি পুনরুদ্ধার এবং নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা পুনর্বাসনে অর্থ ব্যয় করা হবে।

সরকার-বেসরকারি অংশীদারত্বের উদ্যোগ

চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে রোববার (৩০ আগস্ট) ‘বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য মানবিক সহায়তা ও পুনর্বাসন কর্মসূচি’র উদ্বোধন করেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকার সবসময় প্রথম সাড়ির সাড়া প্রদানকারী হিসেবে জরুরি সহায়তা দেয়। তবে পরবর্তী ধাপে দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নে সরকারি প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি খাত ও এনজিওগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, সম্পদের কার্যকর বণ্টন নিশ্চিত করার পাশাপাশি অপচয় ও দুর্নীতি কমাতে সরকার, বেসরকারি খাত ও এনজিওগুলোর সমন্বয়ে অংশীদারত্বভিত্তিক একটি মডেল তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষা ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সহায়তাসহ দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের বিভিন্ন ক্ষেত্রেও অংশীদারদের সম্মিলিত উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, এইচএসবিসি ও ব্র্যাকের মতো প্রতিষ্ঠান সরকারি উদ্যোগের বাইরে থাকা দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের প্রয়োজনগুলো পূরণে এগিয়ে আসছে। সফল পুনর্বাসনের জন্য এমন সম্মিলিত প্রচেষ্টা গুরুত্বপূর্ণ।

সাত মাসে ঘর, স্কুল ও পানি-স্যানিটেশন পুনর্বাসন

এইচএসবিসি বাংলাদেশের অর্থায়নে ব্র্যাক সাত মাসের পুনর্বাসন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে। কর্মসূচির আওতায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ৩৮ নম্বর ওয়ার্ড, চট্টগ্রামের সাতকানিয়া ও বাঁশখালী এবং কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

কর্মসূচির আওতায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫০টি স্কুল মেরামত ও পুনর্বাসন করা হবে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করা হবে শিক্ষা উপকরণ। একই সঙ্গে ২৫০টি ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি মেরামত বা পুনর্নির্মাণ, ৪০০টি ক্ষতিগ্রস্ত পারিবারিক শৌচাগার মেরামত বা পুনর্নির্মাণ এবং ৩০টি ক্ষতিগ্রস্ত নলকূপ মেরামত ও পুনর্বাসন করা হবে।

জীবিকা ও কৃষিতে সহায়তা

পুনর্বাসন কর্মসূচিতে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ৩০০টি পরিবারকে জীবিকা পুনরুদ্ধারে সহায়তা দেওয়া হবে। পাশাপাশি ৬০০টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ কৃষক পরিবারকে প্রয়োজনভিত্তিক কৃষি উপকরণ দেওয়া হবে।

নারীপ্রধান পরিবার, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি থাকা পরিবার, বয়স্ক মানুষ, গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী নারীসহ অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে কর্মসূচিতে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। দীর্ঘমেয়াদে জলবায়ু-সহনশীল ও টেকসই সমাধানের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জীবন ও জীবিকা পুনর্গঠনের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পানির কারণে চট্টগ্রামসহ ১০টি গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত জেলায় ব্যাপক আকস্মিক বন্যা, ভূমিধস ও দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এতে ১০ লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হন। ক্ষতিগ্রস্ত হয় হাজারো ঘরবাড়ি, স্কুল, পানি ও স্যানিটেশন অবকাঠামো এবং কৃষিজমি। ফলে বহু পরিবারের জন্য জরুরি ত্রাণের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন সহায়তার প্রয়োজন দেখা দেয়।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক স্বরূপ কুমার চৌধুরী, চট্টগ্রাম বিভাগের কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দিন এবং চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিয়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। আরও উপস্থিত ছিলেন এইচএসবিসি বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহবুব উর রহমান এবং ব্র্যাকের জলবায়ু ও পরিবেশগত উদ্ভাবন এবং দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কর্মসূচির পরিচালক ড. মো. লিয়াকত আলী।